• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

বিনোদন

বিয়ের খবর জানিয়ে পারসা বললেন, ‘বরের পরিচয় জানতে চেয়ে বিব্রত করবেন না’

প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:৫৬
আপডেট: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:৫৬

বিয়ের খবর জানিয়ে পারসা বললেন, ‘বরের পরিচয় জানতে চেয়ে বিব্রত করবেন না’
 

বিয়ে করেছেন, কিন্তু বর কে, তা এখনই জানাতে চান না। শুধু তা-ই নয়, বরের ছবি প্রকাশ করলেও মুখ ঢেকে রেখেছেন ফুল দিয়ে। বিয়ের খবর জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এমন রহস্যই তৈরি করেছেন তরুণ প্রজন্মের সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার পারশা মাহজাবিন। বরের পরিচয় জানতে আগ্রহী ব্যক্তিদের উদ্দেশে তাঁর মজার অনুরোধ, ‘অতএব, বরের পরিচয় জানতে চেয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে বিব্রত করবেন না।’

বিয়ে প্রসঙ্গে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় পারশার। তিনি জানান, গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে তাঁদের আক্‌দ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে পারশার পরিবারের কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ছেলের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য সেখানে ছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে বিয়ের বাকি আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

বিয়ের খবর জানালেও আপাতত স্বামীর পরিচয় প্রকাশ করতে চান না পারশা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যদি নাম বলি, তাহলে সবাই তাঁকে চিনে ফেলবে। তাই আপাতত বলতে চাইছি না। আর পরিচয়টা সামনে আনতে চাই না বলেই ছবিতে ফুল দিয়ে মুখটা ঢেকে রেখেছি। আমি তাঁকে ‘প্রিয়’ বলে ডাকি, সেও আমাকে ‘প্রিয়’ বলে।’

পারশা জানান, প্রায় এক বছর আগে তাঁদের পরিচয়। দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। একপর্যায়ে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর পছন্দে পরিবারেরও কোনো আপত্তি ছিল না।

বরের মুখ ঢেকে রাখার বিষয়টি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পারশা। তাঁর মতে, সমাজে নারীর মুখ ঢাকা নিয়ে যতটা স্বাভাবিকতা আছে, পুরুষের ক্ষেত্রে ততটা নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইহুদি বিয়ের ‘বাদেকেন’ বা খ্রিষ্টান বিয়ের ‘ব্রাইডাল ভেইল’, হিন্দু ও মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঘোমটা, কনের মুখ ঢাকা আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। যুগ যুগ ধরে নারীর মুখ ঢাকা থাকলে সেটি ঐতিহ্য, আর পুরুষের মুখ ঢাকা পড়তেই এত কৌতূহল কেন? আমার ফেসবুক পোস্টে ছবির নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘দা কুমড়োর ওপর পড়ুক বা কুমড়ো দায়ের ওপর, ফলাফল একটাই।’ মন্তব্যটা আমার দারুণ লেগেছে। বিয়েটা তো আমাদের দুজনেরই হয়েছে, মুখ কার ঢাকা থাকল, তাতে ফলাফল বদলাচ্ছে না!’

বিষয়টি যে কেবল মজার ছলে করা কোনো পোস্ট নয়, সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছেন পারশা। ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতার জায়গা থেকে তিনি বলেন, ‘কেউ নিজের ইচ্ছায় পর্দা করলে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি তখনই, যখন সেই ইচ্ছার জায়গাটা অন্য কেউ দখল করে নেয়। নারীর পোশাক, সৌন্দর্য কিংবা উপস্থিতিকে পুরুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য দায়ী করার যুক্তিটাও আমার কাছে অদ্ভুত। সেই যুক্তিতে পুরুষের সৌন্দর্যও তো আড়াল করে রাখা উচিত! আমি শুধু এক দিনের জন্য প্রচলিত দৃশ্যটা উল্টে দিয়েছি। তাতেই এত অস্বস্তি হলে প্রশ্নটা বোধ হয় আমার ছবিতে নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।’

হঠাৎ বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে জীবনসঙ্গীকে নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন পারশা। তাঁর কাছে জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার জায়গা তাঁর বাবা। ছোটবেলা থেকে বাবার আদর ও আগলে রাখার মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই নির্ভরতা ও স্বাধীনতাই জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর প্রত্যাশার মানদণ্ড তৈরি করেছে। পারশা বলেন, ‘আমার বাবা আমাকে এতটাই আগলে রেখেছেন যে দৈনন্দিন জীবনের অনেক সংগ্রাম আমাকে কখনো ছুঁতেই হয়নি। তাই জীবনসঙ্গীর কাছে আমার প্রত্যাশাও বরাবরই একটু বেশি ছিল। এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যাঁর কাছে আমি আমার বাবার মতোই নিরাপদ, আদরে আর নিশ্চিন্তে থাকতে পারব। সৌভাগ্যক্রমে, বাবার প্রায় জেরক্স কপিই পেয়ে গেছি! তবে শুধু আমাকে ভালোবাসলেই চলবে না। আমি এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যিনি মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি, প্রকৃতি এবং প্রতিটি প্রাণের প্রতি সংবেদনশীল। যাঁর সঙ্গে দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য থেকে শুরু করে জীবনের জটিলতম প্রশ্ন নিয়েও তর্ক করা যায়। যাঁর মানবিকতা শুধু কথায় সীমাবদ্ধ নয়, আচরণেও প্রকাশ পায়।’

জীবনসঙ্গী নির্বাচনে নিজের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন পারশা। তিনি বললেন, ‘আমি কখনো এমন পুরুষ খুঁজিনি, যিনি আমাকে রাজমুকুট পরিয়ে দেবেন। আমি এমন একজনকে খুঁজেছি, যিনি কখনোই আমার মাথা থেকে সেই মুকুট খুলে রাখতে বলবেন না।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ গান গেয়ে আলোচনায় আসেন পারশা মাহজাবিন। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও দেখা গেছে এই জেন-জি শিল্পীকে। এবার বিয়ের খবর জানিয়ে ভক্তদের চমকে দিলেও আপাতত নিজের জীবনসঙ্গীকে পরিচয়ের আড়ালেই রাখতে চান তিনি।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম