বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর এক ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ সেদিন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সাবেক সদস্য শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হত্যা করা হয়ছিল। সেদিন তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের নামে ফ্যাসিবাদী সরকারের মদদপুষ্ট কথিত আদালত ইতিহাসের ঘৃন্যতম ও ভয়ানক একটি কিলিং মিশন সম্পাদন করেছিল। অবিশ্বাস্য এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সেদিন জাতির কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের মুখোশ উম্মোচিত হয়েছে। ভারতীয় তাবেদার ফ্যাসিস্ট সরকার কতৃর্ক রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে জিয়া পরিবার তথা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হত্যাকান্ডটি ছিল একও অভিন্ন। গত শনিবার (২৬ নভেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল পরবর্তী এক স্মরণ সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী আরও বলেন, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আপাদমস্তক জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শগত একজন জাতীয় নেতা ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের বিশ্বস্থ শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সব সময় আওয়ামী রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে তিনি নিজকে স্বপে দিয়েছেন। যে কারনে মানুষ তাকে ভালোবেসে যোগ্য নেতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে তাকে ছয়-ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন দেশের মানুষ। একাধিক বারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও এশিয়া উপমহাদেশের মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ সংগঠন ওআইসি’র (অরগানাইজেশন অফ ইসলামিক কোপরেশন) মহাসচিব পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হয়ে দেশের সম্মান ও সুনাম বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল। বিজ্ঞ পার্লামেন্টরিয়ান হিসেবে দীর্ঘকাল তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্বভৌমত্ব ও জনগনের স্বার্থ রক্ষা করতে আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সার্বক্ষনিক সোচ্চার ছিলেন শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ভারতীয় তাবেদার এই অবৈধ সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজীবন আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে একজন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন আপোষহীন ও কিংবদন্তি জননেতা। এজন্য ভারতীয় তাবেদার অবৈধ হাসিনা সরকার তাকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেনি। যে কারণেই তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের নামে ষড়যন্ত্রের ফাদেঁ ফেলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। জাতি একদিন এই হত্যার বিচার করবে বলে আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি।
আল শারজাহ হ্যালো সাবিয়া আল মাখানি ময়দানে শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মরন সভা উদযাপন কমিটির আহবায়ক হাজী শরাফত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব সরোয়ার আলমগীর।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী শুধু রাজনীতিতে নয় দেশের কল্যাণে সর্বক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে যখনই ষড়যন্ত্র হয়েছে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি তা মোকাবেলা করেছেন। ভীত অবৈধ আওয়ামী সরকার আজ দেশপ্রেমিক এসব জাতীয় নেতাদের হত্যা করে রাষ্ট্র বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা জীবিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চেয়ে শহীদ চৌধুরীকে আজ বেশি ভয় পাচ্ছে। যে কারনে চৌধুরীর চট্টগ্রামের গুড হিলস্থ বাসভবন ঘেরাও করা হচ্ছে, বাসভবন সম্মুখ গেইটে সমাবেশ করে পরিবারের লোকজন সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই সব ঘৃন্য কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসীবাদি সরকারের পতন নিশ্চিত করে শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সহ সকল হত্যাকান্ডের দাত ভাঙা জবাব দিবে এদেশের জনগণ ইনশাআল্লাহ।
উদযাপন কমিটির সচিব আব্দুল গফুর খান ও জসিম উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বিশেষ অথিতি ছিলেন ইউএই বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সালাউদ্দিন, জাকির হোসেন খতিব, দিদারুল আলম, ইন্জিনিয়ার রফিক আহমেদ, তফাজ্জল হোসেন মানিক, হাজী মুহাম্মদ জসিম, সিরাজুল ইসলাম নওয়াব, নাইমুল ইসলাম ঠিপু, মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন, রফিক চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সরোয়ার আলম ভুট্টো, শেখ সেলিম, গোলাপ মিয়া, নাদির রহমান জাকির, নুর নবী ভূইয়া আজাদ।
বক্তব্য রাখেন, সেলিম উদ্দিন খান, প্রকৌশলী মফিজুর রহমান, নাসিম উদ্দিন চৌধুরী (প্রকাশ এন.ইউ চৌধুরী), মুছা আল মাহমুদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলী, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম খান, মুহাম্মদ আব্দুল ফারুখ, আবু ইউসুফ রানা, ওসমান গনি, আলম গফুর, বেলাল উদ্দিন, আজিজুল ইসলাম রিঠু, নুর নবী করিম বাবলু, শাহজাহান সজীব, শওকত হায়াত খান, সোহেল চৌধুরী, নেজাম উদ্দিন, মুহাম্মদ আলী সুমন, নাছির উদ্দিন, সায়ফ তারেক, হাসান বাহাদুর, জাকির হোসেন প্রমূখ।
অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, আবুল বশর বাবুল, নুরুল আমিন, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসেন, মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, নুরুল হুদা বাবুল, মুহাম্মদ আলম, মুহাম্মদ হাশেম, আবুল মনছুর, হারুনুর রশিদ, এরশাদ শাহিন, জাহেদুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম কিরন, সজীব গাজী, ইউনুছ বাচ্ছু, মুহাম্মদ মাহবুব, মুহাম্মদ ইকবাল, শাখাওয়াত হোসেন বকুল, মুহাম্মদ মোরশেদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, আবু রাসেল সোহেল, মুহাম্মদ এরশাদ সহ অনেকেই।
দিনব্যাপী কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বাদ মাগরিব মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। আলোচনা সভা শেষে প্রায় ৮ হাজারের অধিক নেতাকর্মীদের মাঝে মেজবানি খানা পরিবেশন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্য এক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্বতঃষ্পূর্ত ভাবে উপস্থিত হয়ে ষড়যন্ত্র মূলক ইতিহাসের ঘৃন্যতম শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হত্যাকান্ডের জন্য অবৈধ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।













