• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে ১০ দফা দাবি ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ৭:১০
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ৭:১০

চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে ১০ দফা দাবি ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের

ট্যানারি শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে প্রধান ও নূন্যতম মজুরী বাস্তবায়ন করাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ট্যানারি ওয়ার্কাস ইউনিয়ন। এসময় ইউনিয়নের পক্ষ হতে শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি ও চামড়া শিল্পে সামাজিক সম্মতি নিশ্চিত করতে সরকার অনুমোদিত ন্যাশনাল প্ল্যান অব এ্যাকশন কার্যকর করারও দাবি জানানো হয়।

মঙ্লবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসকল দাবি জানিয়েছে।

চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে ১০ দফা দাবি গুলো হল:

১) সরকার ঘোষিত ট্যানারি শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরী ৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ কার্যকরী করতে হবে।
২) সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বিষয়ে সরকার অনুমোদিত ন্যাশনাল প্ল্যান অব এ্যাকশান এর সুপারিশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
৩) ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার কারনে শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ করে আই.এল.ও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪) শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যনিরাপত্তা, শোভন কাজ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫) চামড়া শিল্পনগরীতে অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য পঞ্চাশ (৫০) শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে।
৬) মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রসূতিকল্যান সুবিধাসহ ট্যানারিতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের আইনানুগ প্রাপ্য সকল সুবিধাদি প্রদান করতে হবে।
৭) ট্যানারি মালিকদের সাথে ইউনিয়নের সম্পাদিত দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।
৮) চুক্তি লংঘন করে মধ্যস্বত্বভোগী কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে কাজ করানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৯) শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসার্ভিসবুক ও হাজিরা কার্ড যে সব ট্যানারীতে এখনও দেওয়া হয় নাই অবিলম্বে তা দিতে হবে এবং শ্রমআইন অনুযায়ী চাকুরীর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে।
১০) সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ে এ চামড়া শিল্প নগরী গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেখানে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নকে যুক্ত করে প্রথম ফেইজে বাদপড়ে যাওয়া আবাসন ব্যাবস্থাসহ শ্রমিকদের জরুরি সকল বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

ট্যানারি এলাকায় শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দিলে ট্যানারি বন্ধ করে দেবার হুশিয়ারি দিয়ে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য বা দাবিগুলো উপস্থাপনের লক্ষে যদি কোন সভা সমাবেশ করি। আর এতে যদি জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। তাহলেতো শ্রমিকদের উপর এটা নির্যাতনের মত আচরন হয়। আমরা হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই। যদি ট্যানারি শিল্প এবং শিল্প নগরীতে শ্রমিকদের সভা সমাবেশ করার অধিকার না থাকে। তাহলে আমরা বাধ্য হব কারখানা বন্ধ করে দিতে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের সমস্যাগুলো সমাধান না হলে এই শিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। যা শিল্পের মালিক শ্রমিক কর্মচারী এবং চামড়া শিল্প তথা দেশের অর্থনীতির জন্য আদৌ মঙ্গলজনক নয়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অত্যাচার করে কখনো দেশের উন্নতি হয় না।

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এর চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক।