• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

মতামত

আমরা কি বলতে পারবো ‘ভণ্ডদের আখড়া’?

প্রকাশ: সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩ ১০:১০
আপডেট: সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩ ১০:১০

আমরা কি বলতে পারবো ‘ভণ্ডদের আখড়া’?

আমিরুল ইসলাম কাগজী
প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেইসবুকে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘ভণ্ডদের আখড়া’ । বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার নিয়ে ওয়াশিংটনের নানা প্রতিক্রিয়া এবং র‌্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীপুত্র এমন মন্তব্য করেছেন।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে দুজন কৃষ্ণাঙ্গ নেতাকে রাজ্যের আইনসভা থেকে বহিষ্কারের ঘটনাটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “আইনসভার সদস্যরা ভোট দিয়ে দুই সংখ্যালঘু আইনপ্রণেতাকে বহিষ্কার করেছে, যদিও একজন শ্বেতাঙ্গকে রেখে দিয়েছে। এই হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক দল ভণ্ডদের আখড়া ছাড়া আর কিছুই নয়।”
জয় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেখানে বসেই তিনি সেদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট যারা কীনা গোটা পৃথিবী দেখভাল করে সেটাকেই বলছেন ভণ্ডদের আখড়া। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে সেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকেই বলছেন ভণ্ড। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমাদের ভোট ছাড়াই শেখ হাসিনা দেশ চালাচ্ছেন। ইতিহাস স্বীকৃত ২০১৪ সালে ভোট ছাড়াই তিনি সরকার গঠন করে পেটোয়া বাহিনি দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোমর ভেঙে দিয়েছেন। আবার তারই ধারাবাহিকতায় ওই পেটোয়া বাহিনি দিয়ে ২০১৮ সালে নিশিরাতে ভোট করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাচ্ছেন। নিশিরাতের ভোট এখন ইতিহাসের অংশ। বিদেশি কূটনীতিকদের দু একজন বলেছেন, আগের রাতে ভোট হওয়ার কথা তারা আর কখনও শোনেনি। সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান তার এলাকার এমপি মহিবুর রহমানকে রাতের ভোটের এমপি বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের শরিক সংগঠন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন নির্বাচনের পরপরই বলেছিলেন আগের রাতে ভোট করা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। অথচ অত্যন্ত দম্ভের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন তার সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। এর চেয়ে বড় ভণ্ডামি আর কিছু হতে পারে? কিন্তু আমরা কি বলতে পারবো এটা ভণ্ডদের আখড়া। না বলা যাবে না। কারণ এখানে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আছে, আছে আইসিটি অ্যাক্ট। সরকার চাইলে এর যেকোনো একটির আওতায় এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রুজু করতে পারে। কারাগারে নিক্ষেপ করতে পারে।
জয়ের ভাষ্য অনুযায়ী মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট যদি ভণ্ডদের আখড়া হয় তাহলে সেই ভণ্ডদের কথামত ইউরোপিয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সাপোর্ট দিতো? সেই ভণ্ডদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানতে কি আমাদের সরকার বাধ্য হতো? নিশ্চয়ই হতো না।
কিংবা নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত রুশ জাহাজকে ভারত হুগলিতে নোঙর ফেলতে দিতো এবং সেখান থেকে মালামাল সড়ক পথে রুপপুর পরমানু বিদ্যৎ কেন্দ্রে পাঠাতে পারতো। কিন্তু ভারত সে সাহস দেখাতে পারে নাই কারণ এই ভণ্ডরা রুশ জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। জয়ের কাছে মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গণতন্ত্র নেই। অন্যদেশকে তারা গণতন্ত্র শেখাতে চায় এটা একটা ভণ্ডামী। আমাদের দেশের গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ সর্বশেষ জাতীয় সংসদে ভাষণে বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রহীন উন্নয়ন কখনও সর্বজনীন হতে পারে না।’
আর যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র আছে কী নেই সেটা তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকালে সহজে অনুমান করা যায়। সেখানে প্রতি চার বছর পর পর যখন নির্বাচন অনু্ষ্ঠিত হয় তখন সারা পৃথিবীর মানুষ চেয়ে থাকে সেদিকে। ক্ষমতার পালাবদল নয় ভোট উৎসবের উৎকর্ষ অবলোকন করার জন্য।
এখন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট যদি ভণ্ডদের আখড়া হয় তাহলে সেই আখড়ায় যোগ দিয়ে ধন্য হতে বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com