আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বঙ্গোপসাগর উপকূলে আছড়ে পড়া অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে মিয়ানমার। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৪৫ জনের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে সামরিক সরকার। এর মধ্যে ১১৭ জন রোহিঙ্গা, ২৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং চারজন সেনা সদস্য রয়েছেন। তবে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি এই বিবৃতির আগেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার দাবি করা হচ্ছিল। বিশেষ করে, বাস্ত্যুচুত রোহিঙ্গারা যেখানে থাকেন, সেইসব জায়গায়।
সামরিক কর্তৃপক্ষ এর আগে মোখার আঘাতে মৃতের সংখ্যা মাত্র ২১ জন বলে দাবি করেছিল। তবে তখনই স্থানীয়রা বিবিসিকে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল।
জাতিসংঘের মতে, এ অঞ্চলে চলতি শতাব্দীতে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল মোখা। এতে অন্তত আট লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘণ্টায় ২০৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে আছড়ে পড়া অতিপ্রবল এ ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সাগাইং এবং ম্যাগওয়ে অঞ্চলেও।
গত রবিবার আঘাত হানা এ ঘূর্ণিঝড়ে মিয়ানমারে শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, গাছপালা-বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য লোক এখনো নিখোঁজ।
এর মধ্যেও স্থানীয়দের ওপর সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের আড়ালে সেনাবাহিনী গ্রামে প্রবেশ করায় উত্তর-পশ্চিম সাগাইং অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

