• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি প্রয়োজন’

প্রকাশ: সোমবার, ২২ মে, ২০২৩ ৭:৫৮
আপডেট: সোমবার, ২২ মে, ২০২৩ ৭:৫৮

মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি প্রয়োজন’

পোশাক শ্রমিকরা বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বিজিএমই এর তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ এবং বর্তমানে ১১ শতাংশের বেশি অবদান রাখে পোশাক খাত। এই শ্রমিকরা বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। কিন্তু বছরের পর বছর স্বল্প মজুরিতে কাজ করে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সন্তানরা আয় সংকুলানের অংশ হিসেবে স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। একই সাথে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে। মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর খরচ বহন করতে তারা অর্থ ধার করতে বাধ্য হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের এমন একটি নূন্যতম মজুরি প্রয়োজন, যা মূল্যস্ফীতি এবং অন্যান্য সংকট বিবেচনায় রেখে তার মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি তার পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

সোমবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত পোশাক খাতে নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি বিষয়ে গোল টেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা।

বিএনপিএস এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, ‘নারীরা যখন মা হয় তখন তাদের সঠিক খাবার দেয়া হয় না, তাই তাদের পুষ্টির অভাব হয়। একইভাবে নারীদেরকে মজুরিও কম দেয়া হয়। কিন্তু নারীরা পুরুষের একইসাথে বাইরে কাজ করে আবার ঘরেও কাজ করে। তাই তাদের সমান অধিকার দরকার। কিন্তু পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র এইদিকে ফেইল করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কৃষক এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। গার্মেন্টসে শ্রমিকরা যে শ্রম দেয় তাদেরকে সে শ্রমের ন্যায্য অংশ দিতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘বেঁচে থাকার মতো মজুরি না দিলে গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। বেঁচে থাকার মজুরি কিন্তু আপেক্ষিক। আমেরিকার এক রকম আর আমাদের আরেক রকম। আমার মতে একজন শ্রমিকের নূন্যতম মজুরি ২০-২১ হাজার টাকা হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি মানেই মালিকের মুনাফা কমে যাওয়া। কেউই কিন্তু তার আয় কমাবে না। তাই যদি মুনাফা ঠিক রেখে মজুরি বাড়াতে হয় তাহলে সেটা করতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে। বাইরের ক্রেতাদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্য আদায় করতে হবে। শ্রমিকের বাঁচার মতো মজুরি দিতে হবে। ২০ হাজার টাকার কম মজুরি দিলে একজন শ্রমিক পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারে না। একইসাথে তিনি বলেন, নারী ও পুরুষের মজুরি আলাদা করা যাবে না, এটা এক হতে হবে।’

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি ও মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ‘আমাদের মজুরি ৩৭০ থেকে ৮ হাজার টাকায় এসেছে, এটা কিন্তু এতো সহজে আসেনি। এর জন্য আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন আমাদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য গ্লোবাল ভয়েস তোলা উচিত। কারণ সারা পৃথিবীতে আমরা কেন কম মজুরিতে কাজ করব? ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াতো কম মজুরিতে কাজ করে না। তাহলে আমরা কেন করব?’

এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের সভাপতি কাজী রহিমা আক্তার সাথী বলেন, ‘পাঁচ বছর হয়ে গেলেও আমাদের মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। এদিকে ইয়ক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সবকিছুর দাম বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়াচ্ছে না।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘মজুরি বৃদ্ধির কারণে কোনো শ্রমিকিকে যেন ছাঁটাই করা না হয় সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদের নূন্যতম মজুরি নির্ধারণ না করা পর্যন্ত আমরা মাঠ ছেড়ে যাবো না।’

বিএনপিএস এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর নাবিলা ফারহিনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com