বরিশালে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠন যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের ডাকা তারুণ্যের সমাবেশ হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মকেও জাগ্রত করতে দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় বিএনপির এই তিন সংগঠন।
সমাবেশে চলাকালে বক্তব্যে গুম, খুন, নির্যাতনে শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ভোলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নিহত নেতা আবদুর রহিমের বিধবা স্ত্রী বিবি খাদিজা বরিশাল তারুণ্য সমাবেশে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই, কী দোষ ছিলো আমার স্বামীর, পুলিশ আমার স্বামীকে মিছিলে কেন বিনা দোষে ১৩৩টি গুলি করে হত্যা করে?
বিবি খাদিজা বলেন, আমার ৪টি সন্তান এতিম, তারা আজ বাবাহারা। আমার ছোট বাচ্চা প্রতিদিন আমাকে জিজ্ঞেস করে আমার বাবা কোথায়? বাবা আসে না কেন? আমার সন্তানের বাবাকে কি সরকার ফিরিয়ে দেবে?
গুম হওয়া কালু ও মিরাজ আহমেদের মা ফিরোজা বেগম আর্তনাদ করে সমাবেশ বলেন, আমার দুইটি সন্তানকে গুম করেছে হাসিনা। আমি আমার সন্তানের সন্ধান চাই, আমার সন্তানকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রীকে সম্মোধন করে তিনি বলেন, আমার সন্তান ফিরিয়ে দাও।
তিনি আরো বলেন, দেশে নাকি উন্নত হয়েছে, আসলে গুম-খুনের উন্নয়ন হয়েছে। আমার মতো হাজারো মায়ের বুক খালি হয়েছে। আমার দু সন্তানকে গুম করলে কী হবে, এখন দেশের সবাই আমার সন্তান। আমি এই অবৈধ সরকারের পতন চাই।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চাই
বরিশালে সাবেক মেয়র হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে নিউজ করায় ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে কারাভোগের দাবি করে নির্যাতিত সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানী বলেন, বরিশালের সাবেক মেয়র (মামাতো ভাই) আমাকে মারধর করে সত্য তুলে ধরার কারণে। আমার ওপর হামলা করে, আমার নামে মামলা দেয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে, আমি বিনাদোষে দীর্ঘদিন কারাভোগ করি। আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চাই। আমি চাই- এই আইনে আমার মতো আর কোনো সাংবাদিক নির্যাতিত না হোক।
এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের সভাপতিত্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধান বক্তা হিসেবে যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও বিশেষ বক্তা হিসেবে সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী প্রমুখ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।












