• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বিশেষ কলাম

দেশ বাঁচাতে তারুণ্যের সমাবেশ আন্দোলনের নতুন মাত্রা

প্রকাশ: শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩ ৫:০৪
আপডেট: শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩ ৫:০৪

966639 14

দেশ বাঁচাতে তারুণ্যের সমাবেশ আন্দোলনের নতুন মাত্রা

আমিরুল ইসলাম কাগজী ও অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে একের পর এক জনপ্রিয় কর্মসূচি দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন। প্রত্যেকটি কর্মসূচি পালিত হয়েছে এবং হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে। বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও সাধারণ জনগণ এসব কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন শান্তিপূর্ণভাবে। সর্বশেষ দুটো কর্মসূচি ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ ও ‘পদযাত্রা’ — রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছে। তারেক রহমানের এই কর্মসূচি যখন দেশবিদেশের প্রভাবশালি মহলের দৃষ্টিতে আসছে তখন পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। তারা তারেক রহমানের তারুণ্যের সমাবেশের বিপরীতে তারুণ্যের জয়যাত্রা এবং পদযাত্রার বিপরীতে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এসব নকল ও ফলোআপ কর্মসূচি হালে পানি পাচ্ছে না।
মিথ্যা মামলার বেড়াজালে পেঁচিয়ে তারেক রহমানকে দেশে আসার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে গৃহবন্দি। ৩৬ হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে ৪০ লক্ষ নেতাকর্মীকে জেল-জুলুম, নির্যাতন, হয়রানি করা হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলটিকে কোনঠাসা করতে এমন কোনো ষড়যন্ত্র নেই যেটা ফ্যাসিস্ট সরকার করে নাই। ২০১৪ সালে বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর পুলিশ দিয়ে কূটকৌশল করে বিএনপিকে নাস্তানাবুূদ করা হয়। গোয়েন্দা বাহিনিকে কাজে লাগিয়ে নাশকতা নাম দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়। ২০১৫ সালে দলটির গায়ে জঙ্গি তকমা লাগিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা চালায় সরকার। সারা বিশ্বের কাছে বিএনপিকে উপস্থাপন করা হয় জঙ্গীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয় বিএনপির মতো একটি বিশাল গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে। তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো বিএনপি আবার জেগে উঠেছে। গ্রামে-গঞ্জে শহর-বন্দরে নেতা-কর্মীরা বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলছে সমাবেশ গুলো।
এমনই এক জনপ্রিয় কর্মসুচির নাম তারুণ্যের সমাবেশ। চার কোটি সত্তর লক্ষ তরুণ ভোটার যারা ভোট কেন্দ্রে অনীহা প্রকাশ করে তাদের ভোটদানে উৎসাহ দিতে এই তারুণ্যের সমাবেশ। শিক্ষিত মেধাবী তরুণ যারা প্রতিযোগিতায় টিকেও চাকরি পায় না তাদের সচেতন করতেই এই আয়োজন।
তরুণদের মাঠে নামাতে এমন জনপ্রিয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন চিনের মহান নেতা মাওসেতুং। ১৯৬৬ সালে তিনি শুরু করেছিলেন সাংস্কৃতিক বিপ্লব। আর তাতে তার সহযোগী ছিলেন লক্ষ লক্ষ তরুণ, যাদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল রেড গার্ড নামের এক বাহিনী। স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি জনগণের তরুণ সন্তানদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় এই রেড গার্ড। এদের পরনে লাল শার্ট আর মাথায় লাল ক্যাপ। তাদের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে মাওসেতুং সফল করেছিলেন চিনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব।
আজকে তারেক রহমান তরুণদের জাগিয়ে তুলেছেন তার জনপ্রিয় একদফার আন্দোলনের পক্ষে। তরুণদের সংগঠিত করতে তিনিও বেছে নিয়েছেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। সঙ্গে নিয়েছেন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের। দায়িত্ব দিয়েছেন যুবদলের সভাপতি, সাবেক তুখোড় ছাত্র নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন,
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে। অন্যান্য বিভাগে সফল সমাবেশ করার পর শনিবার, জুলাই ২২, ২০২৩, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে তারুণ্যের সমাবেশ। এই সমাবেশ সফল করার জন্য ঢাকা শহরের অলিগলিতে প্রচারপত্র বিলি করেছে তরুণরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে দেখা গেলো দেশের প্রায় সব জেলা উপজেলায় তরুণদের বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এই সমাবেশ ঘিরে।
তারেক রহমানের দর্শন যে ফলপ্রসূ হচ্ছে তা বিভাগীয় শহরগুলোতে তারুণ্যের সমাবেশ দেখেই অনুধাবন করা যায়। সবখানে ছিলো তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, সংগ্রামের মনোভাব। প্রতিপক্ষ আওয়মী লীগ ছাড়াও পুলিশের বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে তরুণরা সফল করেছে সমাবেশ। পৃথিবীতে যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সবসময় তার সম্মুখ ভাগে থেকেছে তরুণ সমাজ। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন সাফল্যের মুখ দেখেছে তরুণ ছাত্র রফিক, সালাম, বরকতের তাজা রক্তের ওপর দিয়ে। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল জাফর, জয়নাল,মোজাম্মেল,কাঞ্চন,দিপালী শাহার মতো তরুণদের জীবন দানের মধ্য দিয়ে এবং চূড়ান্ত পতন হয়েছে জেহাদ ও ডা. মিলনের আত্মাহুতিতে।
শুধু কি তাই! উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পুরোভাগে ছিলো ছাত্রসমাজ, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শক্তি ছিলো এই তরুণ সমাজ। তারেক রহমানও এই শক্তির ওপর ভরসা রাখতে চান। আর সেকারণে বিভাগীয় শহরগুলোতে তারুণ্যের সমাবেশ করা হয়েছে। তারুণ্যের এই সমাবেশ দেখে আওয়ামী লীগও তারুণ্যের জয়যাত্রা চালু করেছে। খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে বৃহস্পতিবার এমনই এক সমাবেশ দিয়ে শুরু হয়েছে যুবলীগের জয়যাত্রা কর্মসুচি। তারা সামনে নিয়ে এসেছে সাবেক যুবলীগ সভাপতি মরহুম শেখ মনিকে। ব্যানার ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে তার ছবি।
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড দেখে খুলনার এক সিএনজি চালক বলে উঠলেন আওয়ামী লীগের দার্শনিক গুরু মনে হয় তারেক রহমান। কথাটা শুনে আমি থমকে গেলাম। জানতে চাইলাম কেন দার্শনিক গুরু ? অনেকটা বিজ্ঞের মতো বললেন, তারেক রহমান জনগণকে সাথে নিয়ে যে কর্মসূচি দেন আওয়ামী লীগও তাঁর দেখাদেখি একটা কর্মসূচি বানিয়ে ফেলে। তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি যখন ১০ বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ করেছিল তখন আওয়ামী লীগ করেছিল শান্তি সমাবেশ। গত ১২ জুলাই ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ চেয়ার ছোড়া ছুড়ির মধ্য দিয়ে কেমন শান্ত ছিলো সেটাতো জনগণ দেখেছে।
এরপর তারেক রহমান ঢাকায় দুদিনের পদযাত্রা কর্মসূচি দিলেন। আওয়ামী লীগ পদযাত্রার আদলে ঢাকায় করলো ‘শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা’।
গণপরিবহনে চলাচল করলে অনেক অনেক কথা শোনা যায় যা অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি কল্পনাও করতে পারেন না।
খুলনার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলছিলাম, খুলনার সাংবাদিক নেতা ও মানবজমিনের সিনিয়র সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের সঙ্গে। তিনি বললেন, তারেক রহমানের কর্মসূচি কেবল বিএনপি ও জনগণের কাছে জনপ্রিয় নয়, এটা এখন আওয়ামী লীগের কাছেও বেশ জনপ্রিয়।
তরুণ ছাত্র নেতা লিটন মনির, যুবনেতা ওয়াহিদ মুরাদ মনে করেন, দেশনায়ক তারেক রহমান পুরো দেশকে এবং দেশের মানুষকে মুক্ত করবেন। তিনি জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে লড়াই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, আমরা তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী। আমরা সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। আজকের ঢাকায় তারুণ্যের মহাসমাবেশ সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুত।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com