সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশী এবং আন্তর্জাতিক প্রভুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলো কে সেটা আমরা জানি। আমরা বলতে চাই না। কিন্তু মানুষের মনে একটা প্রশ্ন শেখ হাসিনা ১৭ মে বাংলাদেশে আসলেন আর ৩০ মে জিয়াউর রহমান মারা গেলেন। এটা নিয়ে মানুষ নানা কথা বলে। শেখ হাসিনার তার পথকে কন্টকমুক্ত করার জন্য জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে এ কথা অনেকেই বিশ্বাস করে। কারণ শেখ হাসিনা দেশে আসার মাত্র ১৩ দিনের মধ্যেই জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হাসিনার দেশী এবং আন্তর্জাতিক প্রভুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মে) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে’ কৃষকদলের উদ্যোগে দরিদ্রের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন তার পথের কাঁটা মনে করেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। সেই কারণে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানান মামলা আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘শেখ হাসিনা তার ফ্যাসিবাদ একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন, যে শাসনে বিরোধীদল থাকবে না এটা তার মেন্টালিটি, এই মানুষিকতার কারণে তিনি বিরোধী দল রাখতে চান না। উনি (শেখ হাসিনা) দেশে আসার ১৩ দিনের মধ্যে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হলো। তিনি যাতে নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে তার কর্তত্ব অর্জন করতে পারেন আবার বাকশাল কায়েম করতে পারেন, গুম খুনের পথ অবলম্বন করে তার ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হয়। সেই কারণে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ও সরকার শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে দেয়নি সরকার এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জ, বরিশালে হামলা করা হয়েছে, ২৯ মে বগুড়ায় হামলা করা হয়েছে।এটা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, মিছিল নাই, মিটিং নাই তারপরও সারাদেশে হামলা করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা সকল দলের গণতান্ত্রিক অধিকার কিন্তু বাংলাদেশে এটি করা মহাপাপ।
রিজভী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা বললে শেখ হাসিনার খুবই মন খারাপ করেন। যেই কাজ তার (শেখ হাসিনার) বাবার করার কথা ছিল সেই কাজ জিয়া কেন করলো? সেই রাগে-ক্ষোভে বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের চরিত্র হনন করার জন্য প্রতি মূহুর্তে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু যিনি স্বচ্ছ সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট তাকে ছোট করা যায় না। তার আমলে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছে।
কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় এসময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বক্তব্য দেন।

