জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ফাইল ছবি
এবার খুলনায় বিএনপি মানববন্ধন করলো আওয়ামীলীগ নেতা দিলীপ কুমার সরকারের পক্ষে। তিনি খুলনা মহানগরীর ৩৩নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি। ওই কমিটির সভাপতি ও সাঃ সম্পাদক পলাতক রয়েছে। চাঁদার দাবিতে সম্প্রতি তাকে সন্ত্রাসীরা পায়ে গুলি করে। মঙ্গলবার দুপুরে খানজাহানআলী থানাধীন ফুলবাড়িগেট এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। আবার সেই কর্মসূচিতে বক্তব্য রেখেছেন থানা আওয়ামী লীগের আর এক নেতা। অতীতে বিএনপি দমনে অবদান রাখা চিহ্নিত আওয়ামী নেতাদের জন্য এহেন কর্মসূচিতে অনেক কর্মী হতবাক ও ক্ষুব্ধ। তবে আয়োজক নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় নয়, পেশাগত পরিচয়ের কারণে এবং এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদ জানাতে বিএনপির এই কর্মসুচি। ওই আ’লীগ নেতা তেলিগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। অযোগ্য এ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে যান কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এসএম কামাল। তিনি এসএম কামালের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন নেতা ছিলেন। তার পক্ষেই মানববন্ধন নিয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, দিলীপ বাবুর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আছে তা আমি জানি না। সাঃ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, দিলীপ বাবু যে দল করুক না কেন বিএনপি নির্যাতনে শিকার এক শিক্ষকের পাশে দাড়িয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে মানববন্ধন করা হয়েছে। তবে এ মানববন্ধন নিয়ে এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে। ক্ষুব্দ বিএনপি নেতা কর্মীরা বলেন, এ দিলীপ ও তার দলের নেতা কর্মীরা এলাকার বিএনপি-জামায়াত নেতা কর্মীদের ঘরে যাতে ঘুমাতে না পারে সে জন্য তারা পুলিশের দালাল হিসেবে কাজ করতো। সাবেক মন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান ও সাবেক এমপি এসএম কামাল তেলিগাতী দক্ষিণপাড়া মন্দিরে কোন সভা-সমাবেশ করলে এই দিলীপ তার নেতৃত্ব দিতেন। সেই আ’লীগ নেতা দিলীপের পক্ষে বিএনপির মায়া কান্না এলাকার তৃণমুল নেতা-কর্মীদের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার বলে তারা জানান। যিনি জুলাই বিপ্লব ঠেকাতে মরিয়া হয়ে কাজ করেছেন তিনি এখন বিএনপির কোন কোন নেতার কাছের লোক হতে চলেছেন। খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসের পরিচালনায় মানববন্ধনে শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাস্টার মনিরুল ইসলাম। জানা গেছে, মাস্টার মনিরুল ইসলাম খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। বিএনপির ব্যানারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য প্রদান অনেকেকেই ক্ষুব্ধ করেছে। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, দিলীপ কুমার সরকার ছিলেন ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। উনি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর (ভোটার), গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। সাবেক এমপি মন্নুজান সুফিয়ান ও সাবেক এমপি এস এম কামাল হোসেনের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। তাকে কামাল সাহেব স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করেছিলেন। শুধু শিক্ষক না, আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে তার ভূমিকা ছিল। তেলিগাতি এলাকায় গত ১৬ বছর বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা হামলা মামলা ও পুলিশী অভিযানে জর্জরিত ছিলাম। রাতে বাড়ি ঘুমাতে পারিনি। দিলীপ মাস্টার পুলিশে খবর দিতো। তার জন্য বিএনপি কর্মসূচি দেবে জানতে পেরে নেতাদের নিষেধ করেছিলাম। খুব অবাক হয়েছি যখন দেখলাম বিএনপির ব্যানারে দাঁড়িয়ে থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার মনিরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মীও অভিন্ন ভাবে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যোগাযোগ করা হলে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, বিএনপি নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল সাহেব কয়েকদিন আগে আমাকে দেখতে আসেন। আমি তাকে বলি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের অত্যাচারে আমরা জর্জরিত। চাঁদাবাজরা নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আপনি আমাদের জন্য কিছু করেন। খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, মনিরুল ইসলাম থানা আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সম্পাদক হলেও মানববন্ধনে তিনি শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন। দিলীপ কুমারের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।













