জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল পাস হয়েছে। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়নি। বরিশালসহ দেশের অন্য সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা হয়নি। স্থানীয় সরকারে এসব নির্বাচন কবে হবে, সে সিদ্ধান্তও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যেই বরিশাল সিটি মেয়র ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান- গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপির ৮ নেতা। পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগ্রহী নেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। আগাম এই প্রস্তুতি ঘিরে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হচ্ছে।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুল আলম ফরিদ।
আরও পড়ুন
পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন
পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন
অন্যদিকে মেয়র পদে আগ্রহীরা হলেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, এবায়েদুল হক চাঁন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মনিরুজ্জামান ফারুক, জিয়াউদ্দিন সিকদার, আবুল কালাম শাহীন ও মীর জাহিদুল কবির। শিরীন ছাড়া অন্য ছয়জনই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদেও আগ্রহী।
দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছেন। এ নিয়ে দলের ভেতরে আগেভাগেই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ায় কুড়িগ্রামে আনন্দ মিছিল
রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ায় কুড়িগ্রামে আনন্দ মিছিল
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের আগে ও পরে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা-বাণিজ্য, বাসস্ট্যান্ড দখল, বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কারও কারও বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও আলোচিত হচ্ছে।’
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘নগরকে যিনি ভালোভাবে জানেন এবং নগরবাসীর প্রয়োজন বোঝেন, এমন ব্যক্তিদেরই এই দুই পদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। দল ও হাইকমান্ড চাইলে আমি মেয়র কিংবা নগর উন্নয়ন পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত।’
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ জানান, তার কোনো পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা নেই। তবে দায়িত্ব পেলে তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবেন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, তিনি নিজেও মনোনয়ন চাইবেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, আমাকে জনগণের সেবার যে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। নগরবাসীর স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতায় নগরের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করছি। তিনি বলেন, ‘মেয়র পদে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের উচ্চপর্যায়।’
বরিশাল সিটি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বাসদের বরিশাল জেলার সমন্বয়কারী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ নাসিরের নাম আলোচনায় রয়েছে।












