• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ময়মনসিংহে শতর্বষী মাদ্রাসার এডহক কমিটিনিয়ে চরম বিতর্ক, ডিসিকে আদালতের শোকজ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ৭:৫৩
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ৭:৫৩

96000065

ময়মনসিংহে শতর্বষী মাদ্রাসার এডহক কমিটিনিয়ে চরম বিতর্ক, ডিসিকে আদালতের শোকজ

স্টাফ করেসপন্ডেট, ময়মনসিংহ :

ময়মনসিংহের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি নিয়ে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিভিন্ন সময় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির নির্দেশও মানা হয়নি। অবশেষে আদালতে মামলা গড়ালে কমিটির কার্যক্রমে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে।

ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম

কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদরাসা। এই প্রতিষ্ঠানটি ময়মনসিংহ সদরে অবস্থিত। ৫ সদস্যের কমিটির সভাপতি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন, শিক্ষক প্রতিনিধির সদস্য মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, সদস্য (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য) খন্দকার মাহবুবুল আলম ও কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদরাসা, ময়মনসিংহের অধ্যক্ষ সদস্যসচিব।

অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কাদির বক্স সরকার ১৮৯০ সালে কাদেরিয়া কামিল মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামেই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি মাদরাসাটির একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রথম প্রজন্মের সবাই ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন । দ্বিতীয় প্রজন্মের দুইজন ছাড়া সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। তৃতীয় প্রজন্মের অনেক ব্যক্তিই জীবিত। আতাউর রহমান নামের এক ব্যক্তি কাদির বক্স সরকারের প্রপৌত্র। আতাউর রহমান মাদরাসাটির একমাত্র দাতা এবং আজীবন দাতা। আতাউর রহমান ২০০৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত মাদরাসাটির অনুমোদিত সব গভর্নিং বডিতে মৃত্যুজনিত কারণে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যপদ শূন্য ছিল। অর্থাৎ মাদরাসাটিতে কোন প্রতিষ্ঠাতা ছিল না। ২০২৩ সালের আগে কামিল মাদরাসায় প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মৃত্যুতে তার উত্তরাধিকারদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার বিধান ছিল না। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডি সংক্রান্ত সংবিধি-২০২৩ এর ২৬ নম্বর ধারায় সর্বপ্রথম কোন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারদের মধ্য থেকে তাদের মনোনীত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান করা হয়েছে।

কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদরাসার অবৈধ সনদধারী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি-২০২৩ এর সুস্পষ্ট ২৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে শেরপুর জেলা শহরের শিববাড়ী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা খন্দকার মাহবুবুল আলম নামের একজনের নাম লিখে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব জমা দেন। আতাউর রহমান অধ্যক্ষের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে বিধি অনুযায়ী এডহক কমিটিতে দাতাকে সদস্য মনোনয়ন দেয়ার জন্য কয়েকবার আবেদন করেন। এই বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করা হলেও জেলা প্রশাসক সংবিধি-২০২৩ এর ২৬ নম্বর ধারা অমান্য করে খন্দকার মাহবুবুল আলমকে এডহক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মনোনীত করেছেন। এই বিষয়গুলো বারবার অবগত করা হয়েছে এবং চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি নিয়ম অনুযায়ী কমপ্লেইন ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের সংবিধি-২০২৩ এর সুস্পষ্ট ২৬ নম্বর ধারা নিজেরাই অমান্য করে সূত্রস্থ স্মারকে খন্দকার মাহবুবুল আলমকে এডহক কমিটিতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য করে ৫ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ খন্দকার মাহবুবুল আলম মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার জন্য কখনো কোন টাকা দান করেনি। তার নাম কখনো মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা তালিকায় ছিল না এবং সে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের উত্তরাধিকারীও না। কাজেই মাদরাসাটিতে কোন বৈধ প্রতিষ্ঠাতা না থাকায় একমাত্র দাতাই এডহক কমিটির সদস্য হওয়ার কথা।

আজীবন দাতা সদস্য আতাউর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন ছুটি না নিয়েই প্রতিষ্ঠানে থেকে চলে যান। তিনি একজন দুর্নীতিবাজ লোক। এ নিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসেবে ৩ হাজার টাকা কমপ্লেইন ফি জমা দিয়ে একটি আবেদন করা হলেও ফলাফল শূন্য।

তিনি বলেন, অনৈতিক পন্থায় খন্দকার মাহবুবুল আলম নামের একজনকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য করা হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলাম। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল নিশি জারি করেছেন এবং ময়মনসিংহ জেলা সিনিয়র জজ আদালতের বিচারক গত ২৩ এপ্রিল কমিটির কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

খন্দকার মাহবুবুল আলমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সারা পাওয়া যায়নি।

তবে কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদরাসার

অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, অনৈতিক পন্থায় খন্দকার মাহবুবুল আলমকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য করা হয়নি। আমি কোন অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির সঙ্গেও জড়িত না। প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলে, ছুটি নিয়েই অনুপস্থিত থাকি। আমার বিরুদ্ধে অহেতুক মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত বলেন, এডহক কমিটিতে খন্দকার মাহবুবুল আলম নামের একজনকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য করায় আদালতে মামলা হওয়ার বিষয়টি অনেক আগেই জানতে পেরেছি। কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আদালত অস্থায়ী নিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি আছে কিনা খোঁজ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, আদালতে মামলা করায় আমাকে শোকজ করা হয়েছিল। আমি ইতোমধ্যে এর জবাব দিয়েছি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com