• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

শরীয়তপুরের জাজিরা পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ভাংগন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫ ১:০২
আপডেট: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫ ১:০২

965869 1

শরীয়তপুরের জাজিরা পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ভাংগন

মোঃ আবুল হোসেন সরদার,শরীয়তপুর
ছবি:প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মাসেতু কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের সংলগ্ন মঙ্গলমাঝির ঘাট এলাকায় ডানতীর রক্ষাবাঁধে প্রবল বর্ষণ ও নদীর তীব্র স্রোতের ফলে ভয়াবহ ধস নেমে গত সোমবার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ভাংগনে অন্তত ২৫টি দোকান ১০/১৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের একটাই দাবী জরুরী ভিতিত্তিতে অত্র এলাকায় স্থায়ী বেড়ি বাধ নির্মাণ করে তাদের ৭/৮টি গ্রাম রক্ষা করা হোক ।
নদী ভাংগনে ক্ষতিগ্রস্থ রোকেয়া বেগম , রাজা মাদবর, খলিল মাদবর ,সেলিম শেখ জানান ঃ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মাসেতু কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের সংলগ্ন মঙ্গলমাঝির ঘাট এলাকায় ডানতীর রক্ষাবাঁধে প্রবল বর্ষণ ও নদীর তীব্র স্রোতের ফলে প্রায় ৫০০ মিটার নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত সোমবার বিকেল ৪টায় হঠাৎ করে প্রায় ২০০ মিটার জুড়ে বাঁধ ধসে পড়ে। এ ভাংগন অব্যাহত ভাবে দফায় দফায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার নদীগর্ভ বাড়ি ঘর দোকানপাট সহ বিলীন হয়ে যায়। এতে করে অন্তত ২৫টি দোকান ১০/১৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ ভাংগনের ফলে ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এদের অনেকেই বাড়ি ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়েছে। ঐ সব এলাকার মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছে। কখন জানি তাদের বাকি জমি জমা মাথা গোজার ঠাই টুকু নিয়ে যায়। তারা নদীর পাড়ের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কোনমতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের খাওয়া নেই,গোসল নেই, কোথায় থাকবে কি করে বাচবে এ চিন্তায় অস্থির। নদীর পাড়ের সাদুল মাদবর সহায় সম্বল বাড়ি ঘর হারিয়ে এখন পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন তার সহায় সম্বল আর কিছুই বলতে নেই। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন সাংবাদিক বা প্রশাসনের লোকজন দেখলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী রায় ,পদ্মা দক্ষিন থানার ওসি আকরাম হোসেন, শরীয়তপুরের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইসচেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, সেক্রেটারী মোঃ আবুল হোসেন সরদার সহ স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসক নগদ টাকা, ঢেউটিন,শুকনো খাবার চাল ,ডাল তেল লবণ, বিতরন করেছেন। শরীয়তপুরের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইসচেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ৩০টি পরিবারের মধ্যে নগদ ২০০০ করে টাকা বিতরণ করেছেন। কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদিকা ফাহিমা আকতার মুকুল চাল,ডাল,লবন, আলু, চিনি বিতরণ করেছেন।এছাড়া বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এসডিএস এলাকা সার্ভে করে সহায়তার জন্য তালিকা প্রস্তুত করেছেন। বিএনপি অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী ও রেডক্রিসেন্ট শরীয়তপুর ইউনিটের যুবরেডক্রিসেন্ট কর্মীরা সার্বক্ষকিন উদ্ধার কাজে সহায়তা করে যাচ্ছেন। গত নভেম্বর থেকেই এ এলাকায় ভংগনের তীব্রতা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভাংগন কবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দিনরাত অবিরাম জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাংগন রোধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কয়েকদিন থেমে থেমে এ ভাংগন শুরু হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে নদীর মূল ¯্রােত মুল নদী দিয়ে প্রবাহিত করতে না পারলে অর্থাৎ পদ্মাসেতু পূর্ব পার্শ্বে বালু ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে মূল নদীর ¯্রােত গতিপথ পরিবর্তন করে ডানতীরের বেড়িবাধে আঘাত হানছে। নদী ডেজিং করে নদীর গতিপথ পরির্তন করতে না পরলে ভাংগন রোধ করা কষ্টকর হবে। তাছাড়া স্থায়ী বেড়ি বাধ না হলে এ ভাংগন রোধ হবেনা। ফলে এ এলাকার ৭/৮টি গ্রাম বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের একটাই দাবী জরুরী ভিতিত্তিতে অত্র এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাধ নির্মাণ করে তাদের ৭/৮টি গ্রাম রক্ষা করা হোক ।
এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ জরিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে একখন্ড জমিতে ঘর তুলে দিনমজুর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। পদ্মা নদী গত সোমবার হঠাৎ করে সবকিছু নিয়ে গেছে। এখন আমরা অন্যেও বাড়িতে থাকি। কিভাবে বাচবো কোথায় থাকুম জানিনা। সরকারের কাছে সাহায্য চাই।
দেলোয়র মাদবর বলেন, পদ্মানদী আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ,বাড়ি ঘর সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা এখন অসহায় । অন্যের জায়গায় টিনের চুমাচুমি ঘর করে দিন কাটছে। সরকারের কাছে দাবী এ এলাকায় জরুরী ভাবে স্থায়ী বেড়ি বাধ করে আমাদের রক্ষা করা হোক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ,শরীয়তপুর নির্বাহী প্রকৌশলী তারিক হাসানবলেন, ঘটনার পর পর আমরা ভাংগন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করার কাজ করছি। অবিরাম ভাবে দিনরাত কাজ চলছে। এ ছাড়া স্থায়ী বেড়িবাধের জন্য প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে। তবে জরুরী ভাবে ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা আবশ্যক।
রেডক্রিসেন্ট এর ভাইসচেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, আমরা এলাকার দুর্গত মানুষের পাশে দাড়াতে নিজের তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা ও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য হেডকোয়ার্টারে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম বলেন, আমি যোগদান করার পর জানতে পারলাম নদী ভাংনে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমি তাৎক্ষনিক এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতি গ্রস্থদের মাঝে কিছু শুকনো খাবার,ঢেউনি ও নগদ অর্থ বিতরন করা হয়েছে। প্রয়োজনে যা যা করা দরকার সবই করা হবে। এ ছাড়া ভাংগন রোধে যা করনীয় করার ব্যবস্থা ও করা হবে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫( লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com