পর্ব ৩: সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হারুন আহমেদ চৌধুরী

Pub: Tuesday, March 3, 2020 9:07 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হারুন আহমেদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৫ সালের ৬ নভেম্বর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই গ্রামে। তাঁর পিতার নাম আব্দুস সোবহান চৌধুরী এবং মাতা জাহানারা বেগম চৌধুরী।

১৯৬৬ সালে হারুন আহমেদ চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করে সফল প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় কর্তব্যরত ছিলেন। প্রেষণে সেনাবাহিনী থেকে ইপিআরে পাঠানো হয় তাঁকে। কর্মস্থল ইপিআরের ৬ নম্বর সেক্টর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭ নম্বর কাপ্তাই উইং।

কাপ্তাই উইংয়ের সহকারী কমান্ডার হারুন আহমেদ ক্যাপ্টেন রফিকের নির্দেশ পেয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ ১ কোম্পানি ইপিআর সেনা নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে অবস্থান গ্রহণ করেন। ৩০ মার্চ চকবাজার এলাকার ২০ বালুচ রেজিমেন্টের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন তিনি। পুনরায় ৬ এপ্রিল একই স্থানে অগ্রসরমাণ পাকিস্তানি সেনাদের অ্যামবুশ করে ব্যাপক হতাহত করেন ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ চৌধুরী। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্রোহী বাঙালি সেনারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী নদীর তীরে কালুরঘাটে তাঁদের সদরদপ্তর স্থাপন করেন। ৪ কোম্পানি ইপিআর ও ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেন। ৩০ মার্চ কৃষিভবন দখলের লড়াইয়ের মাধ্যমে কালুরঘাটে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী ১০ দিন খÐযুদ্ধ চলতে থাকে। ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদের নেতৃত্বে একদল ইপিআর সেনা কর্ণফুলী নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে অবস্থান করছিলেন।

১০ এপ্রিল শত্রুর যুদ্ধযান পিএনএস জাহাঙ্গীর কালুরঘাটের কাছে পৌঁছে। ১১ এপ্রিল সকালবেলা শত্রুর গানবোট, মর্টার ও আর্টিলারির সাহায্যে অগ্রবর্তী ইপিআর সেনাদের আক্রমণ করে। তাঁরা কালুরঘাটে অবস্থানরত হারুন আহমেদকে কোনো তথ্য না জানিয়েই নিরাপদ এলাকায় চলে যান। ফলে আকস্মিকভাবে ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ আক্রান্ত হন। মাত্র ৩৫ জন মুক্তিসেনা সামান্য কিছু অস্ত্র নিয়ে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক পাকিস্তানি সৈন্যের বিপক্ষে অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। শত্রæর এমন আক্রমণে পিছু হটে না গিয়ে বীর বিক্রমে যুদ্ধ শুরু করেন তিনি। হঠাৎ একটি বুলেট এসে হারুন আহমেদের পেটে বিদ্ধ হয়। সহযোদ্ধাদের সহায়তাই তিনি নিরাপদ স্থানে আসতে সক্ষম হন। মিয়ানমারে চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে ১ নম্বর সেক্টর এলাকায় তিনি পুনরায় যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত গেজেটে তাঁর নম্বর ২২, পৃষ্ঠা ১২৫৮, তারিখ ১১ মার্চ ২০০৪।

হারুন আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম নিঘাত মমতাজ চৌধুরী। তাঁদের দুই মেয়ে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ