বানরাজার বাড়ির যুদ্ধ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ: ‘পথিক একটু দাঁড়াও…’

Pub: রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮ ৯:০১ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮ ৯:০১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাকিল জামান :: ফেসবুকের কল্যানে আগেই জেনেছি সাংবাদিক এনামুল কবীরের একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি বইয়ের একটি সৌজন্য কপি তুলে দিলেন লেখক।

বইয়ের নাম ‘বানরাজার বাড়ির যুদ্ধ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’। নামের সাথে ‘যুদ্ধ’ শব্দ দেখে বুঝতে বাকি রইলো না এর প্রেক্ষাপট মুক্তিযুদ্ধ। ‘বানরাজা’ শব্দটা আমার কাছে অপরিচিত, এটি অনেকটা কৌতুহল সৃষ্টি করলো, পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের গল্প, পড়ার আগ্রহ তৈরী হয়ে গেলো সাথে সাথেই। বাসায় ফিরে রাতের খাবার সেরেই বই হাতে নিলাম এবং শেষ করলাম।

বই পড়ে জানলাম, বানরাজা আসলে কোনো রাজা নন। গ্রামের যাত্রাপালায় রাজা-বাদশার চরিত্রে অভিনয় করতেন বলেই তাকে এ নামে ডাকা হতো বলে জনশ্রুতি আছে। তার আসল নাম ইসমেদ আলী। বইয়ের মূল আলোচ্যবিষয় বানরাজার বাড়িতে সংঘটিত যুদ্ধ।

আছিরগঞ্জের আমকোনা পেরিয়ে নোয়াই এলাকায় বানরাজার বাড়ি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরাপদ মনে করে একদল মুক্তিযোদ্ধা বানরাজার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলো। খবর পেয়ে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী বানরাজার বাড়িতে গোলাগুলি শুরু করে, মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা জবাব দেন। এক সময় মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।

বানরাজার বাড়িতে সংঘটিত এ যুদ্ধ নিয়ে নানাজনের নানা বক্তব্য পাওয়া যায়। লেখক অনেক পরিশ্রম করে মূল ঘটনা বের করে এনেছেন। তাছাড়া এ যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধারও পরিচয় পেলাম এ বইয়ের মাধ্যমে।

বইয়ে উল্লেখ আছে আমাদের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামের শহীদ বাউল কমরউদ্দিনের কথা। উনার কবরের গায়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাহিত্যিক আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের কবিতা-

‘পথিক একটু দাঁড়াও, শোনো,
ঘুমিয়ে আছে এখানে কে জানো?
ভালোবেসেছিলো জন্মভূমি বাংলাকে
স্বাধীনতা যুদ্ধে দিলো প্রাণ
ঘুমিয়ে আছে হেথায় অমর শহীদ
সেই কমর উদ্দিন মহান।’

এটি ছোটবেলার হাইস্কুলের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিলো। স্কুল থেকে ঈদগাহ বাজারের দিকে যেতে কবরের দেয়ালে লেখা কবিতাটি হাজারবারের বেশি পড়েছি।

এই বইয়ে লেখক তার তথ্য সংগ্রহের ধারাবাহিক বর্ণনা দিয়েছেন। মনে হচ্ছিলো যেনো তার সাথে আমিও একের পর এক বাড়িতে যাচ্ছি, একেকজন মুক্তিযোদ্ধা, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিচ্ছি। লেখনির মাধ্যমে পাঠককে সাথে নিয়ে চলা নিশ্চয়ই একজন লেখকের সার্থকতা।

আর এ জায়গায় লেখক এনামুল কবীরকে আমি সফলই বলবো।

লেখকঃ সাংবাদিক-সমাজ কর্মি। লেখাটি লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া।

শীর্ষ খবর/এক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1055 বার