fbpx
 

স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বই নিয়ে যে যা বলেছেন

Pub: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ ২:৫১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীনতাযুদ্ধে রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনবৃত্তান্ত ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের বীরত্বগাঁথা নিয়ে ৭৫৬ পৃষ্ঠায় দুটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে -“স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা”। বইটির প্রথম খন্ডে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর-উত্তম ও বীরবিক্রম এবং দ্বিতীয়খণ্ডে বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রথম খন্ডটি প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তার অর্জন করে। দ্বিতীয়খন্ড প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে। ভবিষ্যতে খেতাবপ্রাপ্তদের নিয়ে যাঁরা গবেষণা করবেন তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের এই মূল্যবান গ্রন্থটি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বইটি নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ বিশিষ্ট লেখক গবেষকরা কে কি বলেছেন নিচে তা তুলে ধরা হলো।

মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ বীর-উত্তমঃ মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ বীর-উত্তম, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার। তিনি সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের জৈষ্ঠ সহ-সভাপতি। শফিউল্লাহ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেনাপ্রধানও ছিলেন। কে এম শফিউল্লাহর মতে “স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বইটি তথ্যের ঘটনাবহুল উপস্থাপন সাহিত্যমানেও উত্তীর্ণ। এতে করে যাঁরা সাধারণ পাঠক, তাঁরা তো বটেই, যাঁরা ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন, তাঁরাও বিশেষ উপকৃত হবেন।”

মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত
বীর-উত্তমঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত বীর-উত্তম। বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, “স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বইয়ে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি, যা পড়ে ভাবীকালের প্রজন্ম উৎসাহিত হবে, মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে তারা পরিচিত হবে। অন্যায় ও অসত্যের কাছে, ভীরুতা ও কাপুরুষতার কাছে বাঙালি যে কখনো কোনো দিন মাথা নত করেনি, বর্তমান ও অতীতের গৌররোজ্জ্বল ইতিহাস তারই জ্বলন্ত সাক্ষী।”

মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বীর-উত্তমঃ মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বীর-উত্তম। স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীরযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৩ নম্বর সেক্টরের আশ্রমবাড়ি/বাঘাইছড়ি সাবসেক্টর কমান্ডার ও পরে এস ফোর্সের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মতে “স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও মুক্তিযুদ্ধের রোমাঞ্চকর অসংখ্য কাহিনি উঠে এসেছে। এগুলো অনেক কল্পকাহিনিকেও হার মানায়, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে; মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে, এ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে আরো গ্রহণযোগ্য ইতিহাস লিখতে অনুপ্রাণিত করবে।”

প্রফেসর ড. মাহমুদ শাহ কোরেশীঃ বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও সাভারস্থ গণবিশ্ববিদ্যালয় এবং প্যারিস (সবন) বাংলা ও ফরাশি ভাষার প্রাক্তন অধ্যাপক এবং প্রফেসর ড. মাহমুদ শাহ কোরেশী। তার মতে, “স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা’ বইটি ইতিহাসের এক অনন্য দলিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের সাহসিকতার ইতিহাস জানতে হলে বইটি অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। এটি আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক অনবদ্য নথি হয়ে থাকবে।”

আখতার হুসেনঃ বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক শিশু সাহিত্যিক ও দৈনিক ‘প্রথম আলো’র প্রকাশনা সংস্থা প্রথমার পান্ডুলিপি সম্পাদক আখতার হুসেন। তার মতে, “স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী, অনুপম ভাষায় তাঁদের বীরত্বগাথা যেভাবে, যে ভাষাভঙ্গি বা শৈলীসহযোগে তিনি তুলে ধরেছেন, এককথায় তা অতুলনীয়।”

ড. রেণু লুৎফাঃ বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সমাজ বিজ্ঞানী ড. রেণু লুৎফার মতে “বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাহিনী সংগ্রহ করে প্রকাশ করা একটি বিরাট কর্ম। একজন প্রবাসী লেখক জাতির জন্য সেই দু:সাধ্য কাজটি করে দিয়েছেন এবার ইতিহাস বিমুখ জাতিকে নিজেদের শিকড়ের ইতিহাস জানতে হলে গ্রন্থটিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্ন্তভূক্ত করতে হবে।”

ফারুক আহমদঃ বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পদক প্রাপ্ত লেখক ফারুক আহমদের মতে “স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা গ্রন্থটি বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে লেখা ইতিহাসের একটি অধ্যায়। যে অধ্যায় আমাদেরকে সেই একাত্তরে নিয়ে যায়। এই গ্রন্থপাঠে আমরা শুধু ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা’দের শুধু পরিচিতিই জানবো না, একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের কোথায়, কখন কী ঘটেছিল তারও অনেক অজানা এবং নিখাদ বিবরণ পাবো। যে বিবরণ সাধারণ ইতিহাসে কোনোভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়। সেজন্য লেখক অতি অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।”

হামিদ মোহাম্মদঃ লেখক ও সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদের মতে “আনোয়ার শাহজাহান মুত্তিযুদ্ধের তথ্য সংরক্ষণ করতে গিয়ে যে শ্রম দিয়েছেন, প্রজন্মান্তরের জন্য যে দলিল তৈরী করেছেন—তা তুলনাহীন।তিনি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও জীবনবৃত্তান্ত,পারিবারিক পরিচয়সহ যে তথ্যসংযোজন করেছেন, সংগ্রহ করেছেন—তা বিস্ময়কর।”

স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা গ্রন্থটির লেখক আনোয়ার শাহজাহান এবং এটি প্রকাশিত হয়েছে বইপত্র প্রকাশন থেকে। বইটির রকমারি ডটকম থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।

Hits: 40


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ