fbpx
 

পর্ব ১: সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা – মোহাম্মদ আব্দুর রব বীর-উত্তম

Pub: রবিবার, মার্চ ১, ২০২০ ২:২৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার শাহজাহান, লন্ডনঃ

স্বাধীনতাযুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ভাবে বীর-উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুর রব ১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মনোয়ার আলী এবং মাতা রশিদা বেগম।

মোহাম্মদ আব্দুর রব হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর সিলেটের এমসি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন এবং ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ১৯৪৪ সালে কমিশন লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চলে আসেন। সাফল্যের সাথে সেনাবাহিনীতে কর্মরত থেকে ১৯৭০ সালের ২৪ আগস্ট অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ আসন থেকে এমএনএ নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ১৬০টি আসন ও প্রাদেশিক পরিষদের ২৮৮টি আসন লাভ করা সত্তে¡ও পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা শুরু করে।

২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামরিক আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুর রব, এমএনএ মানিক চৌধুরীকে সাথে নিয়ে আনসার, ইপিআর, পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে বিশাল বাহিনী গঠন করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাঙালি মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত সে সময় ছুটিতে গ্রামেরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আব্দুর রবের আহŸানে তিনি সে সময়ই সশস্ত্র আন্দোলনের দিকনির্দেশনা প্রদানসহ প্রাথমিক প্রতিরোধের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে এই সশস্ত্র দলই ৪ নম্বর সেক্টরের মূল বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশের এক সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হলে আব্দুর রবকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে মনোনীত করা হয়। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে অন্য দায়িত্বশীলদের মতো তিনিও শপথ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সশস্ত্র বাহিনীর সদরদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ আব্দুর রব। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চ‚ড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর হেলিকপ্টারযোগে প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীর সাথে ফেঞ্চুগঞ্জে যাওয়ার পথে তাঁদের হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি আহত হন। তাঁর পায়ে গুলি লাগে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের আগরতলায় প্রেরণ করা হয়।

সুনিপুণভাবে যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুদ্ধরত সেনাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে চ‚ড়ান্ত বিজয়কে তরান্বিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর-উত্তম খেতাবে ভ‚ষিত করে। স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীরযোদ্ধাদের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত গেজেটে তাঁর নম্বর ৮, পৃষ্ঠা ১২৫৭, তারিখ ১১ মার্চ ২০০৪।

মোহাম্মদ আব্দুর রব চিরকুমার ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

[নোটঃ স্বাধীনতাযুদ্ধে রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত মোট ৬৭৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সিলেটের ৪৮ জন খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের সাহসিকতার লোমহর্ষক বিবরন নিয়ে ২০১৮ সালে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আনোয়ার শাহজাহান রচনা করেন ‘সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা’। এটি সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লিখিত প্রথম এবং একমাত্র গ্রন্থ। বইটি সিলেটের পাণ্ডুলিপি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়।
আনোয়ার শাহজাহানের মোট প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭।

সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বই থেকেধারাবাহিক ভাবে শীর্ষ খবর ডটকমে প্রকাশিত হবে আমাদের বীর যোদ্ধাদের জীবনী।]

Hits: 79


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ