fbpx
 

পর্ব ২: সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা – চিত্তরঞ্জন দত্ত বীর-উত্তম

Pub: রবিবার, মার্চ ১, ২০২০ ৯:২৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার শাহজাহান, লন্ডনঃ

স্বাধীনতাযুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ভাবে বীর-উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি আসামের শিলংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম উপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত এবং মাতা লাবণ্য প্রভা দত্ত। তাঁর পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে।

চিত্তরঞ্জন দত্ত ১৯৫১ সালের ১০ ফেব্রæয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের ৬ ফন্ট্রিয়ার ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরীহ বাঙালিদের ওপর ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ফলে ২৬ মার্চ স্থানীয় রাজনীতিকদের সহায়তায় মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত মুজাহিদ, আনসার, স্থানীয় ছাত্র-জনতাকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে হবিগঞ্জে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম শুরু করে। সশস্ত্র আন্দোলন দমন করতে মেজর চিত্তরঞ্জন দত্তসহ ৯ম ও ১৬তম পদাতিক ডিভিশন থেকে আরো অতিরিক্ত সেনা সিলেট এলাকায় মোতায়েন করা হয়। মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত রশিদপুর চা-বাগানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে প্রাথমিক প্রতিরোধযুদ্ধ চালাতে থাকেন।

১৯৭১ সালের ১২ থেকে ১৫ জুলাই কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক সভার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪ নম্বর সেক্টর গঠিত হয় হবিগঞ্জ জেলা ও সিলেটের অংশবিশেষ নিয়ে। মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত ছিলেন এই সেক্টরের কমান্ডার। তাঁর বিশেষ কর্মতৎপরতায় এই সেক্টর এলাকায় নিয়মিত ১৫০০ সৈনিকের পাশাপাশি প্রায় ৯০০০ গণযোদ্ধা সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি পান। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের ৬টি ১০৫ মিমি কামান প্রদান করে, যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারি ইউনিট গঠিত হয়। এই আর্টিলারি ইউনিট ৪ নম্বর সেক্টর এলাকায় ব্যাপক ফায়ার সাপোর্ট প্রদান করে চ‚ড়ান্ত বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।

লে. কর্নেল চিত্তরঞ্জন দত্তের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ৪ নম্বর সেক্টর এলাকায় যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে কানাইঘাটের যুদ্ধ, আটগ্রামের যুদ্ধ, নানদুয়ার যুদ্ধ, শমসেরনগরের যুদ্ধ প্রভৃতি। উল্লেখ্য, চিত্তরঞ্জন দত্ত ৭ এপ্রিলের মধ্যে সিলেটের অধিকাংশ এলাকা নিজ দখলে নিয়ে আসেন।

মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার লে. কর্নেল চিত্তরঞ্জন দত্তকে বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিত করে। বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত গেজেটে তাঁর নম্বর ১১, পৃষ্ঠা ১২৫৭, তারিখ ১১ মার্চ ২০০৪। এ ছাড়া ঢাকার কাঁটাবন থেকে কাওরান বাজার সিগন্যাল পর্যন্ত সড়কটি বীর-উত্তম সি আর দত্ত সড়ক নামে নামকরণ করা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এ নামকরণ করে।

চিত্তরঞ্জন দত্তের স্ত্রীর নাম মনীষা দত্ত। তাঁদের এক ছেলে এবং তিন মেয়ে।


[নোটঃ স্বাধীনতাযুদ্ধে রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত মোট ৬৭৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সিলেটের ৪৮ জন খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের সাহসিকতার লোমহর্ষক বিবরন নিয়ে ২০১৮ সালে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আনোয়ার শাহজাহান রচনা করেন ‘সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা’। এটি সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লিখিত প্রথম এবং একমাত্র গ্রন্থ। বইটি সিলেটের পাণ্ডুলিপি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়।
আনোয়ার শাহজাহানের মোট প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭।

সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বই থেকেধারাবাহিক ভাবে শীর্ষ খবর ডটকমে প্রকাশিত হবে আমাদের বীর যোদ্ধাদের জীবনী।]

Hits: 73


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ