fbpx
 

মুসলিম চৌধুরীর ‘নানা দেশ নানা মানুষ’র নতুন সংস্করণ বাজারে

Pub: সোমবার, মার্চ ২, ২০২০ ১০:০০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট অঞ্চল :: ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী’র ভ্রমণবিষয়ক গ্রন্থ ‘নানা দেশ নানা মানুষ’ আবারও বাজারে এসেছে। এবার গ্রন্থটির তৃতীয় সংস্করণ বেরিয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে সিলেটের বইপত্র, বাতিঘরসহ দেশের অভিজাত লাইব্রেরিগুলোতে। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৯৩ সালে লেখকের সুহৃদ আব্দুল খালিকের আগ্রহ ও উদ্যোগে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এর আরো ছাব্বিশ বছর পর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে দেশের খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা উৎস প্রকাশন।

তিনি সিলেটের সন্তান। ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ মুসলিম চৌধুরী ১৯০৬ সালের ২২ এপ্রিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে তিনি একে একে এ বিভাগের বিভিন্ন শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিলেটের প্রথম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক হিসেবে অবসর নিয়েছিলেন তিনি।

মহান ভাষা আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনিই প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে প্রবন্ধ লিখেছিলেন। দেশবিভাগের মাত্র দু’মাসের মাথায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সভায় ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনাম প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন মুসলীম চৌধুরী। সফল এ সংগঠক ১৯৭০ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন তাকে মরণোত্তর সম্মাননাও প্রদান করে।

‘নানা দেশ নানা মানুষ’ ছাড়াও মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর প্রকাশিত অন্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে প্রসঙ্গ বিচিত্রা, ইতিহাস শিক্ষা প্রণালী, আরেক মহসীন, উজ্জ্বল এক পায়রা, চাইল্ড অউন বুক অব স্টোরিস। তিনি ‘ইসলামের মর্মকথা’ নামে আবুল হাশিমের ‘দি ক্রিড অব ইসলাম’ গ্রন্থের অনুবাদও করেন। ১৯৯৪ সালের ২৩ জুন মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ইন্তেকাল করেন।

এদিকে গ্রন্থটির তৃতীয় সংস্করণে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান সাংবাদিক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ লিখেছেন, ‘নানা দেশ নানা মানুষ’ গ্রন্থটির ভূমিকা লেখার কথা ছিল সৈয়দ মুজতবা আলীর। তিনি লেখককে বলেছিলে- ‘পত্রিকায় বইয়ের আগাম বিজ্ঞপ্তি দাও, আর লিখে দাও সৈয়দ মুজতবা আলী ভূমিকা লিখেছেন।’ কিন্তু ঠিক এরকম সময়ে ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সব ওলট পালট হয়ে যায়।

লেখক গত শতাব্দীর ষাটের দশকের শেষদিকে ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের রসগ্রাহী বর্ণনা দিয়েছেন এই বইয়ে। ইতিহাসের ছাত্রের দৃষ্টিতে দেখা দিল্লী-আগ্রা, একজন শিক্ষাবিদের দৃষ্টিতে দেখা সে সময়কার যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা নেহায়েত একজন পর্যটকের দৃষ্টিতে দেখা সেসময়ের প্যারিস এ যুগের পাঠকের কাছে দারুন কৌতুহলোদ্দীপক হবে আশা করি। বিলেতে প্রথম প্রজন্মের সিলেটিদের সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ সামজিক গবেষকদের সহায়ক হবে। এই সংস্করণে কিছু পুরনো পদ্ধতির বানান সংশোধন ও গ্রন্থটির পর্ব বিভাজন করা হয়েছে।

Hits: 47


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ