বেপরোয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল চক্র, এজেন্ডা বাস্তবায়নে ছদ্মবেশ!

Pub: Sunday, July 12, 2020 12:51 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বন্দি আছেন নরসিংদী জেলে। কিন্তু অপকীর্তি দেখে বুঝার ওপায় নেই যেন! জেলে থেকেও সমানভাবেই সামলে যাচ্ছেন বাইরের নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য।

মাদক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি আর ভূমি দস্যুতা কোথায় নেই আদতে ভয়ঙ্কর শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল?

ঘাটে ঘাটেই নিজের সন্ত্রাসী চক্রকে সক্রিয় রেখেছেন এই পেশাদার খুনি। গার্মেন্টস, পরিবহনে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সবখানেই জল ঘোলা করছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে ভয়ঙ্কর শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম ওঠা এই হেলালের।

তার অঙ্গুুলী হেলনে চক্রটির প্রায় এক ডজন সন্ত্রাসী কাটাসূর থেকে বছিলা, আদাবর থেকে চান মিয়া হাউজিং, কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় নিরীহ সাধারণ মানুষের অশান্তি আর মাথাব্যাথার কারণ হয়েই।

সপ্তাহ দুয়েক আগে পিচ্চি হেলালের সহযোগী মফিউদ্দিন মফিসহ তিনজন অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতারের পর গা ডাকা দেন চক্রটির শীর্ষস্থানীয় সদস্যরা। কিন্তু সময় গড়াতেই গা ঝাপটা দিয়ে উঠেছে ওরা।

পুনরায় র‌্যাব-পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে এসব অপরাধীদের নিস্তার মিলবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মানুষজন।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ, তিন রাস্তার মোড়, নারায়ণগঞ্জ ও বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছেন পিচ্চি হেলাল গ্রুপের সন্ত্রাসীরা।

কারা দেখভাল করছে হেলালের অপরাধ সাম্রাজ্য?
গুরু শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের মতোই কারাগারে বন্দি শিষ্য সোহেল রিয়াজ পাপ্পু। এই পাপ্পু আবার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী।

দু’জনের পরিকল্পনাতেই পরিচালিত হচ্ছে অপরাধ সাম্রাজ্য। ফ্রি স্টাইলেই মাদক, চাঁদাবজি, গার্মেন্টস ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ওরা।

এ সন্ত্রাসী চক্রের আরেক ভয়ানক সন্ত্রাসী হচ্ছেন বাদল। ১৪ বছর জেলবাস করেছেন। পেশাদার এ খুনি জেল থেকে বেরিয়েই পূর্ণোদ্যমে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। বাদলের মতোই লাললুর বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী মামলা।

এ চক্রটিকে চোরাই গাড়ি ও অস্ত্র সরবরাহ করে বছিলার একটি গাড়ির গ্যারেজের ম্যাকানিক সোহেল।

ঘাটের বাবু, লাপা বিপ্লব, ধাতু কামাল, ফয়সালেরও অপকর্মের শেষ নেই। সমানতালেই তারা নানা অপকর্ম করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বছিলা টু মোহাম্মদপুর। জিম্মি করে রেখেছেন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের।

বাদল, লেদু হাসান, লাল্লু কারাগার থেকে বের হয়ে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই দিব্যি অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। তেরে নাম বাবু, জাহিদ ও মান্নান নামের তিনজনও হেলালের সন্ত্রাসী চক্রের দেখভাল করছেন।

সন্ত্রাসীদের জার্সি বদল
নিজেদের অপরাধ সাম্রাজ্য অটুট রাখতে বাদল, ম্যাকানিক সোহেলরা ঠিকই নানা কায়দায় ক্ষমতাসীন দলের এক শ্রেণির নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় নিচ্ছেন।

এরা ছদ্মবেশী হয়ে জঙ্গি-জামায়াত গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। ফলশ্রুতিতে এ চক্রটি সরকারের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে উঠছে ক্রমশ।

মোহাম্মদপুর টু শ্যামলী লাপা বিপ্লব, আনোয়ার, লাললা বিহারি ও রহিম, গার্মেন্টস থেকে ঢাকা উদ্যান ফোর ব্রাদার্স নিয়ন্ত্রণ করেন বাদল, লেদু হাসান ও ঘাটের বাবু। এ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গাঁটছড়া রয়েছে ধাতু কামাল, ম্যাকানিক সোহেল ও লাললু’র।

একই সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ সব রকমের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

এ নীতির আলোকেই শনিবার (২৭ জুন) রাজধানী মোহাম্মদপুর এলাকায় অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সহযোগী মফিজউদ্দিন মফিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডল শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে থাকা অপর দুই আসামি ছিলেন- আনোয়ার ও আরিফ।

স্থানীয়রা বলছেন, ক্যাসিনো ও পাপিয়া কান্ডে জড়িত নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও রেহাই দেয়নি সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এ শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সন্ত্রাসীরাও আর পার পাবে না। তাদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ