শরীয়তপুরে ধান সংগ্রহ কর্মসূচী ব্যাহত হওয়ার আশংকা

Pub: Monday, July 13, 2020 2:14 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুরে ধান সংগ্রহ কর্মসূচী ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। বরাদ্দকৃত ধানের ৬ শতাংশ সংগ্রহ করেছে। কৃষকদের থেকে ধান না কেনার কারনে ধান সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বঞ্চিত কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ রয়েছে। খাদ্য কর্মকর্তা বলছেন, বাজার দর বেশী থাকায় কৃষকরা সরকারী গুদামে কৃষকরা ধান বিক্রি করছে না। এ কারনে ধান কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলার জন্য চলতি মৌসুমে সরকারী ভাবে ২ হাজার ৪৯১ মেঃ টন ধান কেনার কর্ম সূচী রয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুর সদর খাদ্য গুদামের জন্য বরাদ্দ ৬২৪ মেঃ টন ক্রয় করেছে মাত্র ৫৪ মেঃটন, ডামুড্যা খাদ্য গুদামে বরাদ্দ ৪০৮ মেঃ টন। ক্রয় করেছে মাত্র ১৩ দশমিক ৪০০ মেঃ টন। গোসাইরহাট খাদ্য গুদামের জন্য বরাদ্দ ৩৫১ মেঃ টন। সেখানে কোন ধান ক্রয় করতে পারেনি। নড়িয়া খাদ্য গুদামে বরাদ্দ ৫৫৯ মেঃ টন। ক্রয় করতে পেরেছে মাত্র ৫৬ দশমিক ০৮মেঃ টন। জাজিরা খাদ্য গুদামের জন্য বরাদ্দ ৮৪ মেঃ টন। ক্রয় করেছে মাত্র ১৮ মেঃটন। ভেদরগঞ্জ খাদ্য গুদামে বরাদ্দ ৪৬৫ মেঃটন, ক্রয় করেছে মাত্র ৪ মেঃটন। গত ১ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নুরুল হক আনুষ্ঠানিক ভাবে আংগারিয়া খাদ্য গুদামে শরীয়তপুর জেলার ধান সংগ্রহ কর্মসূচী উদ্বোধন করেছেন। এর পর ধান কেনার পালা শুরু হয়। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত কেনার সময় বেধে দেয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত ধানের ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ কেনা হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। অথচ এ সকল খাদ্য গুদামে কৃষকেরা সরাসরি ধান বিক্রি করতে গেলে তাদেরকে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রথমত কৃষি অফিসের তালিকায় নাম আছে কিনা ? লটারীতে ঐ কৃষকের নাম উঠছে কিনা? ধানে চিটা আছে কিনা, ধান পর্যাপ্ত শুকনো কিনা। এ ধরনের অজুহাতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন কৃষকদেরকে সরকারী গুদামে ধান বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেছে। পালং ইউনিয়নের চাদসার গ্রামের নাছির আহম্মেদ আলী গত কয়েকদিন পূর্বে সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামে ১০ মেঃটন ধান বিক্রি করতে গেলে এ ধানের নমূনা দেখে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সরকার তাকে ফেরত দিয়েছে। তার থেকে ধান ক্রয় করেনি। এমনি ভাবে আটিপাড়া গ্রমের তোফাজ্ঝল গেহাসেন খান ১০০ মন ধানের নমূনা নিয়ে গেলে আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঐ ধানের নমূনা দেখে উল্লেখিত অজুহাত দেখিয়ে তাকে ফেরত দিয়েছে। একই ভাবে পাটনিগাও গ্রামে রোকন সরদারকে ধানের নমূনা দেখে ফেরত পাঠিয়েছে। কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে গেলে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে খাদ্য গুদামের তালিকাভুক্ত ফরিয়াগন কৃষকের ধান বিক্রি করতে দিচ্ছেনা। খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাগন ফরিয়াদের সাথে চুক্তি করে মৌসুমের শেষ সময় বিভিন্ন কৃষকের নামে বেনামে ফরিয়াদের দ্বারা ধান কেনা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে থাকে। ফলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বাজারে ধানের দাম বেশী থাকায় কৃষকেরা গুদামে ধান বিক্রি করছেনা বলে চালিয়ে দিচ্ছে।এ কারনে চলতি মৌসুমে শরীয়তপুর জেলায় ধান সংগ্রহ কর্মসূচী ব্যাহত হওয়া আশংকা করেছে।
এ ব্যাপারে চাদসার গ্রামের আঃ রাজ্জাক সরদার বলেন আমি আমার ধানের নমূনা নিয়ে আংগারিয়া খাদ্য গুদামে গিয়েছিলাম। তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আমার ধান নিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।আমরা সরকারের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ সব কেউ দেখেনা।
খেলসি গ্রামের ইসমাইল খা বলেন, আমি ৫০ মন ধানের নমূনা নিয়ে আংগারিয়া খাদ্য গুদামে গেলে অফিসার নমূনা দেখে না বলে দিয়েছে। আমরা মোড়ায় ধান রেখেছি তারা বলে আমাদের ধান নাকি ভেজা। তাই ধান নেয়নি।আমরা এত কষ্ট কওে ধান চাষ করে সরকারী সুযোগ নিতে পারলাম না।
চাদসার গ্রামের খলিল ছৈয়াল বলেন, আংগারিয়া খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ধান নেয়না। তারা ফরিয়াদের মাধ্যমে ধান ক্রয় করে থাকে।
আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সরকার বলেন, বাজাওে ধানের দাম ৯৫০ টাকা থাকায় কৃষকেরা গুদামে ধান নিয়ে আসেনা। তাছাড়া বাজাওে তারা ভিজা ও চিটা সহ ধান বিক্রি কওে ৯৫০টাকায় । এখানে কোন চিটা সহ বা অতি শুকনো ছাড়া ধান ক্রয় করা হয়না। তাই কৃষকের থেকে ধান নো যাচ্ছেনা। এ বছর আমার অফিসে বরাদ্দ ৬২৪ মেঃ টন। ১২ জুলাই পর্যন্ ক্র হয়েছে মাত্র ৫৪ টন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নুরুল হক বলেন, কৃষকেরা বাজারে অনেক বেশী মূল্য পাচ্ছে । এ কারনে সরকারের খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে অনিহা প্রকাশ করছে। ধান সংগ্রহের আরো ১ মাস সময় আছে। যথা সময় বরাদ্দকৃত ধান ক্রয়ের চেষ্টা করবো।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ