চুয়াডাঙ্গায় বন্ধুর মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ

Pub: মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,
আফজালুল হকঃ অভিভাবকদের অবর্তমানে বন্ধুর একমাত্র কন্যা ও স্কুল ছাত্রীকে একা পেয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের পর অন্ত:সত্বা হওয়া স্কুলছাত্রীর গর্ভের সন্তান ঔষধ খাওয়ায়ে প্রসব ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার তিওরবিলা গ্রামের লম্পট কাশেম ও তার সহোদর মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। পুলিশ গতকাল ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানার পর আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়া ও একরামুলের নেতৃত্বে তিওরবিলা গ্রাম থেকে অসুস্থ্য প্রসুতি স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে এবং চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নির্যাতিতার পিতাকে বাদী করে আলমডাঙ্গা থানায় লম্পট কাশেমসহ তার ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করে। মামলা পরবর্তী এঘটনার সাথে জড়িত কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামানকে আটকসহ প্রসুতি স্কুল ছাত্রীর শিশু সন্তানের মৃতু দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। অপরদিকে চাঞ্চল্যকর এঘটনায় সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী তুলেছে এলাকাবাসী সেই সাথে এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা নিলেও কৌশলে প্রসুতি স্কুল ছাত্রীর শিশু সন্তান হত্যা মামলা এড়িয়ে গেছে। তাদের আরো দাবী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যার অভিযোগ গ্রহণ করা হোক।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার তিওরবিলা গ্রামের দিন মজুর আজিমুলের সাথে একই গ্রামের বাজারপাড়ার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে প্রভাবশালী আবুল কাশেমের গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আজিমুলের স্ত্রী অসুস্থ্য থাকায় আজিমুল তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় হাসপাতালে থাকে। বাড়ীতে থাকে আজিমুলের বৃদ্ধা মা ও তার তিওরবিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ১৩ বছরের শিশুকন্যা। আজিমুল ও তা স্ত্রীর অনুপস্থিতির সুযোগে বন্ধুর বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে খোঁজ নেওয়ার কথা বলে প্রায় আজিমুলের বাড়ীতে যেত অভিযুক্ত কাশেম। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে বন্ধু আজিমুলের শিশু কন্যাকে দিনের পর দিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ে। তখন ওই স্কুলছাত্রী সব ঘটনা খুলে বলে তার পরিবারকে। লোক লজ্জার ভয়ে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকজন বিষয়টি চেপে যায়। তাছাড়া অভিযুক্ত কাশেম ধর্ষিতার পরিবারের উপর নানাপ্রকার হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখায় অসহায় পরিবার বিষয়টি একবারে চেপে যায়। কাশেম মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানোসহ তার যাবতীয় দায়দায়িত্ব নিতে চাই। সে অনুসারে গত শনিবার ভোরে মেয়েটিকে পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তার ৭ মাসের সন্তান প্রসব করায়। এরপর তার সন্তানকে লুকিয়ে রেখে মেয়েটিকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মেয়েটি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার স্থানীয়দের কাচে মুখ খোলে। অভিযুক্ত কাশেম গা’ঢাকা দিয়েছে।
তবে, প্রভাবশালী কাশেমের স্বজনদের হুমকিতে মেয়েটির পরিবার মেয়েটিকে নিয়ে হাসপাতালে নিতে পারেনি। এবং একই গ্রামেই অবস্থিত তিওরবিলা পুলিশ ফাঁড়িতে এ যাবত অভিযোগ করতে সাহস পায়নি। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অসুস্থ্য শিশু প্রসুতিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে এবং অভিযুক্ত কাশেমকে আটক এবং প্রসুতির সন্তানকে উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ জানান, এঘটনায় নির্যাতিতার পিতা বাদী হয়ে লম্পট কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার আসামীদেরকে আটক ও প্রসূতির গায়েব হওয়া শিশু সন্তান উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন সন্তান প্রসবের পর পর কাশেমের ভাই মনিরুজ্জামান প্রসুতি স্কুল ছাত্রীর সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা শিশুকে সিজ হেফাজতে রেখে তাকে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয়। এর পর তারাও শিশুটিকে হত্যার উদ্যেশ্যে হাসপাতালের এক কোনায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটির কান্না শুনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে শিশুটি শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এঘটনায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কাশেমের উপযুক্ত শাস্তির দাবী করেছে। এছাড়া প্রসুতি স্কুল ছাত্রীর শিশু সন্তান হত্যা মামলা এড়িয়ে গেছে। তাদের আরো দাবী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যার অভিযোগ গ্রহণ করা দাবীও জানিয়েছে। এঘটনায় অসুস্থ্য প্রসুতি স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও তার চিকিৎসার ব্যয়ভারের দায়িত্বে আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়াউর রহমান তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1356 বার