সাংবাদিক ফয়সাল এর বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম

Pub: মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ নেপালের কাঠমুন্ডতে বিমান দূর্ঘটনায় নিহত বিমানের যাত্রি বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল আমম্মেদের শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার অফিস থেকে ৫দিনের ছুটি নিয়ে গত সোমবার তিনি নেপালে যান । যাওয়ার প্রাককালে সে তারই বড় বোন শিউলি বেগম কে বলে যান ৫দিনের জন্য সে ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন। বলেনি সে নেপাল যাচ্ছে। একথা সে অফিসে ও জানায়নি। বাড়িতে তার মা সামসুন্নাহার বাবা সামসুদ্দিন সরদার ছোট ভাই রাকিব কাউকেই জানায়নি সে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। বিমান বিধবস্ত হওয়ার খবর শুনে ফয়সালের মামা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী বিকেলে ফয়সালের বাবার কাছে ফোন করে জানতে চায় ফয়সাল কোথায়? । বাবা মা জানে ফয়সাল ঢাকায়। বাবা তাই বলেছেন। ফয়সাল ঢাকায়। পরে বাবা বড় মেয়ে শিউলির কাছে ঢাকায় ফয়সালের খবর নিয়ে জানে সে ৫দিনের জন্য ঢাকার বাইরে গেছে । এরপর শুরু হয় খোজ খবর । পরে জানতে পারে নেপালের কাঠমুন্ডুতে ত্রিভুবন বিমান বন্দরে বিমান দূর্ঘটনা অনেক লোক মারা গেছে । ঐ বিমানে ফয়সাল ছিলেন। এ সংবাদ বাড়িতে পাওয়ার পরে আতœীয় স্বজন ও পরিবারের মধ্যে চলছে শোকের মাতম।তার মা সামসুন্নাহার বিল্লাপ করছেন আর ছেলেকে এনে দিতে বলেন। বাবা ছেলে স্মৃতিচারন করে বার বার মূর্ছা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া শেষ করে ফয়সাল ৫/৬ বছর পূর্বে সাংবাদিকতার পেশায় যোগ দেন। গত কোরবনীর ঈদে সে সর্বশেষ বাড়ি আসছিলেন। ঐ দিন তার মা বাবা ছিলেন হজ্জে। এরপূর্ব ঈদুল ফিতরের সময় তার মা বাবার সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়। ফয়সালের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার উত্তর বড় সিধলকুড়া গ্রামে। ফয়সাল আহম্মেদ ৩ ভাই ২বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।ফয়সালের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ডামুড্যা বাজারের দক্ষিন ডামুড্যা সরদার গার্ডেন ফয়সালদের বাসায় গিয়ে দেখা যায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কবে নাগাদ ফয়সালের লাশ বাড়ি ফিরবে এ অপেক্ষায় স্বজনেরা। সকলেই যেন অশ্রুসিক্ত। তার মায়ের বিলাপ শুনে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে ফয়সালের মা সামসুন্নাহার বেগম বিলাপের সঙ্গে বলেন, আমার বাবার খবর দেও। আমার ফয়সাল কে এনে দাও। আমার বাবার সঙ্গে গত ৯ ফেব্রুয়ারী শেষ কথা হয়েছে। খালেদা জিয়ার কারাবরনের দিন আমাকে ফোন করে বলেছিল মা কেমন আছেন? । আমি বললাম তুমি কই?। বলে মা আমি খালেদা জিয়ার নিউজ ধরতে কোর্টে এসেছি। বললাম বাবা তুমি বাসায় চলে যাও। বলেকি মা সমস্যা নেই। চিন্তা করেন না। এটাই আমার সঙ্গে তার শেষ কথা।
ফয়সালের বাবা আলহাজ সামসুদ্দিন সরদার বলেন, আমি জানি ফয়সাল ঢাকায়। বাহাদুর বেপারী আমাকে বিকেলে যখন ফোন করে জানতে চায় ফয়সাল কোথায়? এরপর আমি বড় মেয়েকে ঢাকায় ফোন করে জানতে চাই ফয়সাল কোথায়?। সে বলে ফয়সাল ৫দিনের জন্য ঢাকার বাইরে গেছে। এরপর খবর নিতে গিয়ে জানতে পারলাম নেপালের বিধবস্ত বিমানে ফয়সাল ছিল। এখন বেচে আছে বিনা মারা গেছে জানিনা। আমি ফয়সালকে বার বার বারন করেছিলাম সাংবাদিকতা করতে। সে শুনেনি। সে এত কষ্টের চাকুরী করওতে গিয়ে আজ ্ওে পরিনতি হলো।
ডামুড্যা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনাটি শুনেছি। খোজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম ফয়সাল মারা গেছেন।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1150 বার

আজকে

  • ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১১ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
মার্চ ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com