ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ২সন্তানের গায়ে আগুন দেয় প্রেমিক

Pub: সোমবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পরকীয়ার জের ধরে শিশু সন্তানের গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় জবানবন্দি দিয়েছে মা শেফালী বেগম।
শনিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় শেফালীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্তকারী অফিসার আড়াইহাজার থানার এসআই কাশেম জানান, শেফালী আদালতকে জানিয়েছে তাকে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পারিয়ে তার দুই সন্তানের গায়ে আগুন দেয় পার্শ্ববর্তী বাড়ির মোমেন। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে হৃদয় (৯) মারা যায়। আশপাশের লোকজন আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে (৭) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
নিহত হৃদয় ৩৫নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। আর দগ্ধ তার ছোট ভাই জিহাদ হোসেন শিহাব (৭) একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। সে দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া প্রবাসী।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১১ বছর আগে বাড়ৈপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সুন্দর আলীর মেয়ে শেফালীর বিয়ে হয়। পরে তাদের দুই ছেলের জন্ম হয়। আনোয়ার বিদেশে থাকার সময় পার্শ্ববর্তী মোমেনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন শেফালী। এ নিয়ে তিন মাস আগে এলাকাতে কয়েকবার শালিসী বৈঠকও হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয় শেফালি বাবার বাড়িতে চলে যাবেন। কিন্তু শেফালী বিষয়টি না মেনে শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন। এসব নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও স্বামীর সঙ্গে শেফালির মনোমালিন্য দেখা দেয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, শুক্রবার ভোরে মৃত দগ্ধ অবস্থায় হৃদয়ের লাশ ও আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে উদ্ধার করা হয়। শিহাবকে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। পরে মা শেফালীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন গ্রামবাসীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার উত্তম সাহা জানান, শিশু শিহাবের এক হাত ও দু পা ঝলসে গেছে। তাকে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেফালি একেক সময়ে একে কথা বলেন। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়িরে লোকজনের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার পরকীয়া প্রেমিক মোমেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেফালী তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। ঘটনার পর থেকে মোমেন পলাতক আছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশ হৃদয়ের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের মর্গে প্রেরণ করে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রেফার করে। সেখান থেকে তাকে শনিবার সকালে বাড়ীতে আনা হয়। নিহত হৃদয় ৩৫ নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র।
এ ব্যাপারে নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী ও মোমেনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘাতক মা শেফালী আক্তার ঢাকার কেরানীগঞ্জের লালাটি এলাকার সুন্দর আলীর কন্যা বলে পুলিশ জানায় ও মোমেন উপজেলার দয়াকান্দা গ্রামের সুরুজ মিয়ার পুত্র। সুরুজ মিয়া তার মা জাহানারাকে তালাক দিলে বাড়ৈপাড়া গ্রামের বিল্লালের সাথে বিয়ে হলে সেই থেকে মোমেন বাড়ৈপাড়া থাকে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1141 বার