আড়াইহাজার পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে বির্তকিতরা

Pub: বৃহস্পতিবার, জুন ২১, ২০১৮ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুন ২১, ২০১৮ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : ‘গা’ বাঁচাতে বিএনপির রাজনীতিতে নিজেকে বাঁচিয়ে চললেও আড়াইহাজারে পৌরনির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন বাগাতে সুবিধাবাদী তিননেতা মরিয়া হয়ে ওঠেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
র্দীঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম চললে এদের মধ্যে অনেকেই এলাকা ছেড়ে উধাও হয়ে সাভারে বসবাস করছেন। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁরা সবর হয়ে উঠেছেন, এলাকায় ফিরেছেন বিএনপির সাইনবোর্ড এঁটে। তাঁরা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীর কাছের ‘দুধের মাছি’ হিসেবেই পরিচিত।
পৌরসভা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই বলেন, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মঞ্জুর হোসেন মোল্লাকে অতীতে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি। তিনি ৯ বছর ধরেই নিজের ‘গা’ বাঁচিয়ে চলেছেন। এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ভাগ্নে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকবাল মোল্লার সহচর হিসেবে সবাই তাঁকে জানেন।
বাগানগর এলাকার আওয়ামী লীগের একনেতা জানান, মামলা ও হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মঞ্জুর হোসেন মোল্লা, ইকবাল হোসেন মোল্লার সাথে আঁতাত রেখেছেন। তাকে আড়াইহাজার সদরে দলীয় কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখিনি।
তিনি আরও জানান, তার আপন ভাই রুহুল আমিন মোল্লাও এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে স্থানীয় এসএম মাজহারুল হক অডিটরিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যোগ দিয়েছেন। সেদিন তার বোনজামাতা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। অথচ সেই পরিবারের একজন মঞ্জুর হোসেন মোল্লা বিএনপি থেকে মনোনয়ন বাগানোর চেষ্টা করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে মঞ্জুর হোসেন মোল্লার বলেন, আমি যদি আঁতাত করে চলতাম তাহলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের লোকজন দখল করে নিতে পারতেন না। আর আমার ভাইকে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যারা এসব বলছেন তারা মিথ্যা ও বিতর্ক ছড়ানোর জন্য বিভ্রান্তমূলক তথ্য দিচ্ছেন। আমি দলীয় প্রতিটি কর্মসূচিতেই অংশ নিচ্ছি। যা পেপার কাটিং দেখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে।
আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউছূফ আলী। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার আশার পর এলাকা থেকে উধাও হয়ে সাভারে বসবাস শুরু করেন। একদিনের জন্যও তিনি আড়াইহাজার সদরে আসেননি।
সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরের অনুসারি হিসেবে ইউছূফ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বনে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তিনি তৎকালিন সময়ে থানা পুলিশকে পরিচালনা করতেন। এর ফলে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তাঁর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিতর্কিত এ ব্যক্তি এখন পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, আঙ্গুর বিএনপির সভাপতি ও এমপি থাকাকালিন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছূফ আলী দলীয় সমর্থন পেয়েও ২০০৩ সালে ইউপি নির্বাচনে বর্তমান মেয়র হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। পরে হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান হয়ে যান। ওই সময় ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ইউছূফ আলীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। আসছে পৌরসভা নির্বাচনে ইউছূফ আলীর দৌঁড়ঝাপ সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। এলাকাবাসীর রোষানলে ভয়ে তিনি সাভারে বসবাস করছেন।
এ ব্যাপারে ইউছূফ আলী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য নির্বাচনে তাঁকে বিতর্কিত করার জন্য এসব প্রভাগন্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
ইউছূফ দাবি করেন, হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। আমি মনোনয়ন প্রত্যাহারও করিনি। নির্বাচনী মাঠে ছিলাম। দলীয় হাইকমান্ড থেকে নির্বাচনের ৪দিন আগে পুলিশ দিয়ে জোর করে আমাকে বসিয়ে দিয়েছিলো। তাঁর দাবি তিনি ব্যবসার জন্য সাভারে থাকেন। সপ্তাহের তিনদিন তিনি আড়াইহাজারে থাকেন।
এদিকে মেয়র পদে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী কবির গত পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ১৪ ভোট পেয়েছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবা হযরত আলী ৬নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন করে মাত্র ৬৪ ভোট পেয়েছিলেন। এতে তাঁর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়।
স্থানীয় ছাত্রলীগের একনেতা জানান, কবির স্বশিক্ষিত হয়েও ক্ষমতার দাপটে আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের ভিপি বনে যান। এখানেও তিনি নানা বির্তকমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হন। অথচ তিনি গত নির্বাচনের হলফ নামায় নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে লিখেছেন।
মুকুন্দী এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতার দাপটে মুকুদী গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ফেলু ও আনোয়ারের শেল্টারদাতা ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে কবির স্থানীয় অনেকের জমি জবর দখল ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ফজর আলীর ৫ হাজার ইট লুট করেন। এলাকাবাসীর রোষানলের কবির বর্তমানে সাভারে বসবাস করছেন।
এ ব্যাপার কবির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে কখনোই তিনি শেল্টার দিতেন না বলেও দাবি করেন। তবে ফেলু ও আনোয়ার তাঁদের গ্রামেরই লোক এবং তাঁর চেনা বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি বলেছেন, তাঁদের গ্রেফতার করানোর জন্য তিনি তৎপরতাও চালিয়েছিলেন।
এছাড়াও কবির বলেন, তিনি সফর আলী কলেজের ভিপি ছিলেন না। এডহক কমিটি তাঁকে আহ্বায়ক বানিয়েছিলেন। তিনি কারো জমি লুট করেননি। রোষানলে পড়ে সাভারও পালিয়ে যাননি। বরং সাভারে তার ব্যবসা। তিনি আড়াইহাজারেই নিয়মিত থাকেন বলে দাবি করেন।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1055 বার

 
 
 
 
জুন ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মে   জুলাই »
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com