এবার ছাত্রলীগ নেত্রী…

Pub: বুধবার, জুলাই ১১, ২০১৮ ১১:০২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জুলাই ১১, ২০১৮ ১১:০২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্ত্রীর মর্যাদা চাইতে গিয়ে ঝালকাঠি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার মো. শাহ-আলমের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেত্রী। পরে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার চেস্টা চালান। ওই নেত্রী হলেন, ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারজানা ববি নাদিরা (২৫)। এসময় চেয়ারম্যান শাহ-আলমের স্ত্রীও তাকে নির্যাতন করেন। নাদিরা বর্তমানে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি জেলা পরিষদে নাদিরার উপর এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগ নেত্রী নাদিরা ঝালকাঠি জেলা পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। এ সুবাধে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ-আলম (৭২) এর সাথে নাদিরার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নাদিরার অভিযোগ, জেলা চেয়ারম্যান শাহ-আলম গত তিন বছর ধরে তাকে স্ত্রীর মত ব্যবহার করে আসছে। তিনি বারবার দাবি জানালেও তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছিলো না। সর্বশেষ গত কয়েকদিন ধরে নাদিরা তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।

বুধবার দুপর ১২টায় নাদিরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কক্ষে অবস্থান নিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায় খবর পেয়ে বিকাল তিনটার দিকে জেলা পরিষদে হাজির হন চেয়ারম্যানের স্ত্রী জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী শাহানা আলম। তিনি সরদার শাহ-আলমের কক্ষে ঢুকেই নাদিরাকে দেখে তার ওপর চড়াও হয়ে চড়-থাপ্পর মারেন। এক পর্যায় তাকে মারতে মারতে রুম থেকে বের করে দেন। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত হন। এরপরে সরদার শাহ-আলম এবং তার স্ত্রী শাহানা আলম গাড়িতে উঠে জেলা পরিষদ ত্যাগ করে। এসময় নাদিরাও জোড় পূর্বক তাদের গাড়িতে উঠতে চাইলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় চেয়ারম্যানের স্ত্রী। এরপরেই জেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলার ছাদে উঠে ছাত্রলীগ নেত্রী নাদিরা লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেস্টা করেন। স্থানীয় কিছু যুবক নাদিরাকে ধরে ফেললে তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারজানা ববি নাদিরা মানবজমিনকে বলেন, আমরা মেয়েরা কারো কাছে নিরাপদ নই। মনে করেছিলাম এই বয়স্ক লোকটার কাছে আমি নিরাপদ থাকবো কিন্তু তিনিও আমাকে ভোগের সামগ্রী বানালেন। সরদার শাহ আলমের স্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ার জন্য আমি প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেব। উল্লেখ্য নাদিরা সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাইব্রেরি সাইন্সে মাস্টার্স শেষ করে ঝালকাঠির আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এ ব্যাপারে সরদার মো. শাহ-আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ব্যপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, সরদার শাহ আলমের সাথে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারজানা ববি নাদিরার বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যপার। আমি বরিশাল সিটি নির্বাচনে আছি। ঝালকাঠি এসে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। এ ব্যপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের একটি খবর আমি শুনেছি। নাদিরা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1299 বার