fbpx
 

রাজশাহীতে অভিভাবকহীন বিএনপি!

Pub: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮ ১১:৫১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজশাহী প্রতিনিধি:
ছাত্রদলের নয়টি ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর রাজশাহী নগর বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলানো, তালা ভাঙ্গা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নগর ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের নাম করে দুইদিন ধরে এ সব ঘটনা ঘটালেও এগিয়ে যায়নি নগর বিএনপির কোনো নেতা। এমনকি ভাঙচুরের পর নিজের কার্যালয় পরিদর্শনেও যাননি কেউ। ফলে বাধা হয়ে ঘোষণার দুইদিনের মধ্যেই নতুন কমিটিগুলো স্থগিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এ নিয়ে নগর ছাত্রদলে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।

তাদের প্রশ্ন, রাজশাহী বিএনপি কি অভিভাবক হীন হয়ে পড়েছে? নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর ছাত্রদলের এক নেতার মতে, রাজনৈতিক দলের তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয় পার্টি অফিস। সেখানে দুই দিন ধরে তান্ডব চললো। কিন্তু কোন বিএনপির নেতা একবারের জন্যও সেখানে গেলেন না। যারা এ তান্ডেবের সঙ্গে জড়িত তাদের থামানো বা সমঝোতার কোন উদ্যোগও নেননি। যেটি তাদের কাছে ‘ওয়ান টু’ বিষয় ছিল। একজন নেতার মোটরসাইকেল চালকের পদ না থাকায় বিএনপি কার্যালয়ে এ তান্ডব চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওই ছাত্রনেতা।

যদিও এটিকে আগামী দিনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সরকার পতনের আন্দোলনের ‘রিয়ারসেল’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন নগর বিএনপির এক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির ওই নেতার দাবি, ‘সামনে যে আন্দোলনের কর্মসূচী আসছে তাতে ছাত্রদলকেই মাঠে থাকতে হবে। সেখানে তারা লড়াই করতে পারবে কিনা তা দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে ও নিজের মধ্যে মারামারি করে ‘রিয়ারসেল’ করলেন’।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি জানান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্দেশনায় তারা নয়টি ইউনিট কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর আগে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিএনপির অভিভাবক মিজানুর রহমান মিনুসহ নগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি অবগত করা হয়।

জনি বলেন, ছাত্রদল স্বাধীন সংগঠন। তাই ছাত্রদলের নিজস্ব সিদ্ধান্তে কমিটিগুলো দেয়া হয়। গঠনতন্ত্র মেনে দলের ত্যাগি নেতাদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। এ কমিটি নিয়ে কারও কোন তেমন আপত্তিও আসেনি। এর পরও কেন দলীয় কার্যালয়ে এভাবে তান্ডব চালানো হয়েছে তা জানা নেয় বলে মন্তব্য করেন এই ছাত্রনেতা।

সিটি কলেজ ছাত্রদলের স্থাগিত হওয়ার নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন বলেন, যারা পদবঞ্চিত হয়েছেন তাদের কেউ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। যারা অনেক আগেই ছাত্রদল ছেড়েছেন বা ছাত্রদলে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন তারাই এ সব ঘটনা ঘটিয়েছেন। যারা মূলদলের সিনিয়র নেতাদের অনুসারী।

এ ঘটনা থেকে যে অভিজ্ঞতা এসেছে তা আগামী দিনের রাজনীতিকে কাজে লাগবে বল্লেখ করে মিলন বলেন, আমরা না থাকলে মূলদলের কোন কর্মসূচী ভালভাবে পালন হয় না। আগামীতে ছাত্রদলের কর্মসূচী ছাড়া আর কোন কর্মসূচীতে তারা অংশ নেবেন না বলে জানান তিনি।

যে কারণে দলীয় কার্যালয়ে তান্ডব:

ছাত্রদলের একটি সূত্রমতে, নগর ছাত্রদলের নতুন নয়টি ইউনিট কমিটির আটটি নিয়ে কোন বিভেদ নেয়। শুধুমাত্র শাহমুখদুম থানা কমিটি নিয়ে বিরোধ। এ ইউনিট কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ডলারকে। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন খাইরুল। তারা দুইজনই ছাত্রদলের ত্যাগী নেতা এবং মিজানুর রহমান মিনুপন্থী।

সূত্রটি আরও জানায়, দলীয় কার্যালয়ের তান্ডবের আগের রাতে নতুন কমিটির নেতৃত্বন্দের সঙ্গে তারা দুইজনও মিজানুর রহমান মিনুর বাসায় গিয়ে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়া চেয়ে নেন। এ সময় মিজানুর রহমান মিনু নয়া নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানানোসহ ভাল কমিটি দেয়ার জন্য নগর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান। এর পরের দিনই তান্ডব চলে দলীয় কার্যালয়ে। দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও নয়া নেতৃবৃন্দের উপর হামলা এবং নতুন কমিটি স্থগিতের বিষয় নিয়ে চরম ক্ষুদ্ধ মিজানুর রহমান মিনুও।

সূত্রমতে, নগর বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা তার মোটরসাইকেল চলককে শাহমুখদুম থানা ইউনিটের সভাপতি করার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। সে সুপারিশ না শোনার জন্যই এ সব ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেন। যার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে আটটি কমিটিকে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বিএনপির কার্যালয় তান্ডবের পর সন্ধ্যায় রাজশাহী নগর ছাত্রদলের নতুন নয়টি ইউনিট কমিটি স্থগিত করা হয়। এর আগে গত শনিবার রাতে নয়টি ইউনিট কমিটি অনুমোদন দেয় নগর ছাত্রদল। এর পরের দিন নগর বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় পদবঞ্চিতরা। তবে কয়েক ঘন্টার মধ্যে নতুন নেতৃবৃন্দ সে তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে পরিচিতি সভা করে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ