উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নদীগর্ভে শরীয়তপুরে ভয়াবহ নদীভাঙ্গন

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ৯:০৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ৯:০৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ ভয়াবহ পদ্মানদীর ভাংগনের কবলে পড়ে অতি প্রাচীনতম নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নুতন ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে নড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সামনের রাস্তা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মসজিদ,গাড়ির গেরেজ পদ্মা গ্রাস করে নিয়েছে। যেকোন মূহুর্তেই বিলীন হয়ে যাবে পুরাতন ভবনটি। সরিয়ে নেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালামাল ও সেবা কার্যক্রম। আতংকে আছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক বান্দিারা। গত সপ্তাহে ৩৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শতাধিক বাড়ি ঘর সহ বড় বড় স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঐ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। মারাতœক ভাংগনের মুখে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৮ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের অভিযোগ তাদের দেখার কেউ নেই। কোন জনপ্রতিনিধি বা সরকারের কোন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা তাদের সহায়তাতো দুরের কথা দেখতে ও আসেনি। নদীভাংগা মানুষ তাদের এলাকাকে দূর্গত এলাকা ঘোষনা করে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়েছে।
সরেজমিন ভাংগন কবলিত এলাকা ঘুরে ও ক্ষতিগ্রস্থদের সঙ্গে আলাপ করে জানাগেছে, গত ২ মাস যাবত জাজিরা নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মানদীর অব্যাহত ভাংগন চলছে। এ ভাংগনের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ও কেদারপুর ইউনিয়নের বেশীর ভাগ ও নড়িয়া পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিলীন হয়ে যায়। ভাংগনের কবলে পড়ে পূর্ব নড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরনড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গাজি কালুর মেহমান খানা, দেওয়ান ক্লিনিক,শপিংমল,হেলথ কেয়ার,এড.আবুল কালাম আজাদের বাড়ি, নূরহোসেন দেওয়ানের বাড়ি , ঈমাম হোসেন দেওয়ানের বাড়ি, মরহুম মমিন আলী বেপারী বাড়ি , চরজুজিরা দাসপাড়া গ্রাম, পাচগাও গ্রাম, শুভগ্রাম ,বাশতলা, ওয়াপদা লঞ্চঘাট, সাধুরবাজার ও লঞ্চঘাট, উত্তর কেদারপুর রামঠাকুরের সেবা মন্দির , চন্ডিপুর লঞ্চঘাট , শেহের আলী মাদবরের কান্দি, ঈশ্বরকাঠি, মূলফৎগঞ্জ বাজারের একাংশের প্রায় ১৫০াট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে ৩৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শতাধিক বাড়ি ঘর সহ বড় বড় স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ভাংগনের কবলে পড়ে গৃহীন হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ৪ হাজার পরিবার। তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাংগন কবলিত এলাকার আশে পাশের মানুষ তারা তাদের ঘরবাড়ি ও মালামাল সরিয়ে নিতে রাতদিন ঘুম নেই। তাদের সহায়তার জন্য কেউ এগিয়ে আসছেনা। এখনো ভাংগনের মুখে রয়েছে মূলফৎগঞ্জ বাজারের প্রায় ৮ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ঐতিহাসিক মূলফৎগঞ্জ মাদ্রাসা, পার্শ্ববতী লস্কর বাড়ি ও বাড়ির পাশের সৌন্দর্য বর্ধন বিশাল মসজিদ, মজিদ শাহ (পাগলা মৌলভী) বাড়ি, এর আশে পাশের শত শত দোতলা তিনতলা পাকা বাড়ি ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ শত শত একর ফসলী জমি। এছাড়া ও গত ২ মাসে বহু বাড়ি ঘর ও বড় বড় স্থাপনা, রাস্তা, ব্রীজ ,কালভার্ট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অবশেষে অতি প্রাচীন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও গ্রাস করে নিয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা পদ্মানদী। ইতোমধ্যে নড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সামনের রাস্তা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মসজিদ,গাড়ির গেরেজ ও মূল ভবনের কিয়দাংশ পদ্মা গ্রাস করে নিয়েছে। যেকোন মূহুর্তেই বিলীন হয়ে যাবে মূল ভবনটি। সরিয়ে নেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালামাল ও সেবা কার্যক্রম। আতংকে আছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক বান্দিারা । ইতোমধ্যে দুটি ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড আপদকালীন বরাদ্ধ দিয়ে ৫ কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলেও নদী ভাংগন রোধ করতে পারছেনা। প্রতিদিন নুতন নুতন এলাকা ভাংগছে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ বাপ দাদার ভিটেমাটি সহায় সম্বল হারিয়ে মাথা গোজার ঠাই খুজছে। যদিও গত কয়েকদিন পূর্বে ছিল তাদের বাড়ি ঘর ব্যবসা বাজ্যি সহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নদী ভাংগার কবলে পড়ে তারা আজ নিঃশেষ হয়ে পথে বসেছে। কাজ নেই কর্ম নেই । নেই কোন উপার্জনের পথ। অসহায় দিন কাটাচ্ছে তারা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কিছু শুকনো খাবার , সাড়ে ৩ হাজার পরিবারকে জি আর চাল , ৩শ পরিবারকে ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এলাকাবাসির একটাই দাবী নড়িয়াকে রক্ষা করতে জরুরী ভিত্তিতে বেড়িবাধের কাজ টা শুরু করা হোক। পাশাপাশি এ এলাকাকে দূর্গত এলাকা ঘোষনা করে ক্ষতিস্থদের পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
ক্ষতিগ্রস্থ মিহির চক্রবতী বলেন, ২মাসে আমাদের নড়িয়ার প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি দোকান পাট ব্রীজ কালভার্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন করে নিয়েছে। আমাদের অতি প্রাচীনতম স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নড়িয়া উপজেলা কমপ্লেক্সটি ও বিলীন হয়ে গেল।এখন আমাদের আর কিছুই রইল না।
কেদারপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লাহ বলেন, পদ্মা নদী গত ২মাসে আমাদের কেদারপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ঘর মুলফৎগঞ্জ বাজারের একটি অংশের প্রায় ২ শতাধিক দোকানপাট, সাধুর বাজার ওয়াপদা বাজার বিলীন করে নিয়েছে। এ এলাকার মানুষ অসহায়। সরকারের পক্ষ থেকে সামান্য সাহায্য চাল ও শুকনো খাবার বিÍরন করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে বেড়ি বাধের কাজ শুরু করে এ এলাকাকে দূর্গত এলাকা ঘোষনা করে ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মা নদীর ভাংগনে আমাদের উপজেলায় নুতন নুতন এলাকা ও স্থাপনা বিলীন করে নিয়েছে। সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ও বিলনি হয়ে গেল। এ এলাকায় স্বাস্থ্য সেবার সমস্যা হবে। এটা সমাধানের জন্য আমরা শীঘ্যই বিকল্প ব্যবস্থা নিব।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1187 বার