না’গঞ্জে পুলিশী নীলনক্সায় বিএনপির নেতাকর্মী ভৌতিক মামলার আসামী

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ৯:১১ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ৯:১১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে বাস্তবায়িত হচ্ছে পুলিশী নীল নক্সার নাশকতা পরিকল্পনা মামলার কুট কৌশল। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য সব প্রার্থীকেই করা হয়েছে ভৌতিক মামলার আসামী। ইতোমধ্যে দায়ের করা হয়েছে ১৪টি মামলা। আসামী করা হয়েছে ৮৬৭ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে। বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে রাজনীতি বাধাগ্রস্থ করতে জেলাব্যাপী দায়ের করা হচ্ছে মামলা। মিডিয়ায় এসকল ভৌতিক মামলা দায়েরের খবর প্রকাশিত হবার পর জনমনে দেখা দিয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। সাধারন মানুষ বলছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এবার জোর করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যেতে একের পর এক বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের আসামী করা হচ্ছে। তারা যাতে মাঠে দাড়াতে না পারেন সরকারের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ জেলায় শুরু হয়েছে পুলিশের বিশেষ মিশন। মামলার কারন হিসেবে বিএনপি নেতারা বলছেন, মূলত আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচন আয়োজনের জন্যই সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে একের পর এক মামলা দায়ের করছে। এসব মামলা থেকে মুক্তি পেতে আন্দোলনকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছেন তারা। এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আরো ৫টি ভৌতিক মামলা দায়ের করেছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে জেলার বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ১৪টি মামলা হয়েছে। মামলা গুলোতে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। নতুন করে দায়েরকৃত ৫টি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৮জন বিএনপি নেতাকে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, কাজী মনিরুজ্জামান, সাবেক এমপি এ্যাভোকেট আবুল কালাম, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, খন্দকার আবু জাফর, মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নজরুল ইসলাম আজাদ, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে পলাতক রাখতে পুলিশ আওয়ামীকরন করতে চাচ্ছে রাজনৈতিক মাঠ। নির্বাচনী লেভেল প্লেইং ফিল্ডে থাকবে শুধু আওয়ামীলীগ আর পুলিশ। জেলা-মহানগর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপি নেতাকমীদের মামলার বেড়াজালে ফেলে ঘরে আটকে রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি করতে বিএনপিও আটঘাট বেধে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে। তফসিল ঘোষনার পর মুলত তারা নতুন ছকে মোকাবেলা করবেন পুলিশকে।
বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, বিনা ভোটের আরেকটা নির্বাচনের জন্যই এই মামলা। আওয়ামীলীগ নিজেদের কর্মীদের উপর ভরসা পায় না বলেই পুলিশের মাধ্যমে মামলা দিচ্ছে। সরকার নিজেদের খেই হারিয়ে ফেলেছে। একজন মানুষ যখন চোখে আর কোন পথ দেখে না, দিশেহারা হয়ে যায় তখনই মিথ্যার আশ্রয় নেয়। সরকারও নিজেদের জনপ্রিয়তা শূণ্যের কোঠায় দেখে দিশেহারা। টিক্কাখান যেমন বলেছিলেন এদেশের মানুষ না, মাটি চায়। তেমনি সরকারও জনগনের সমর্থন না চেয়ে ক্ষমতা চায়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, দেশটাই স্বাধীন হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। আর সেই অধিকার হরণ করার কারনেই আমরা মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু আজ সে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার কোথায়? আওয়ামীলীগ আজ গণতন্ত্র ও ভোটের অধিবার পাকিস্তানীদের মত কেড়ে নিতেই আজ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। পুলিশকে ব্যবহার করছে দলীয় স্বার্থে। কোন ঘটনাই নেই অথচ মামলা হচ্ছে একের পর এক। এ সরকারের কাছে রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, কোমলমতি ছাত্রসহ জনগন নিরাপদ নয়। সকল শ্রেনী পেশার মানুষকেই একসঙ্গে রাজপথে নামতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মক্তির মাধ্যমে এ জাতিকে মুক্ত করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে প্রতিহত করা, আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের নির্ভিগ্নে অংশ গ্রহণ করতে না দেয়া সর্বোপরি আবারো একতরফা ভাবে একটি পাতানো নির্বাচনের জন্যই এসব মামলা। মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের দমানো যাবে না দাবি করে তিনি বলেন, ঝড়ের গতিতে মামলা হচ্ছে। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আবার ঝড়ের গতিতে এসকল মামলা উড়িয়ে দেয়া হবে।
মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সবগুলো মামলায় একই বর্ননা দেয়া হয়েছে। এতে বুঝা যায় সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে একই কিচ্ছা কাহিনী লিখে বিএনপি কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল বিএনপি থেকে শীর্ষ নেতাদের সবাইকে আন্দোলন বিমূখ করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। মামলা দিয়ে বিএনপিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না উল্লেখ করে সাখাওয়াত বলেন, এসব মামলায় নেতা কর্মীরা আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হচ্ছে। মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না হয়রানি করা যায়।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরো ৫টি ভৌতিক মামলায় আসামী সহ¯্রাধীক : নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আরো ৫টি ভৌতিক মামলা দায়ের করেছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে জেলার বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ১৪টি মামলা হয়েছে। মামলা গুলোতে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। নতুন করে দায়েরকৃত ৫টি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৮জন বিএনপি নেতাকে।
রূপগঞ্জ থানা : রূপগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে ৪টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন ভূইয়া, সাবেক তারাব পৌর সভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম সায়েম ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবু রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন দেওয়ান সহ ৮৩ জন নামীয়সহ আরো অজ্ঞাত নামা ২২ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব উপ-পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার বলা হয়েছে, রবিবার বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া মস্তাপুর এলাকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরীর বাসভবনের ভিতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্য সমবেত হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫টি ককটেল বিস্ফোরন ঘটনায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কাঞ্চন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ও মোজ্জাম্মেল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, রবিবার বিকেলে কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া মস্তাপুর এলাকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরীর বাসভবনের ভিতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্য সমবেত হয় ও ৫টি ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি করে। এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রূপগঞ্জ থানায় গত ৩ সেপ্টেম্বর, ৫ সেপ্টেম্বর ও ৩০ আগস্ট রূপগঞ্জে আলাদাভাবে আরো তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর নামে পুলিশের মামলা, গ্রেফতার-২ : জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম-২ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, জিয়াউদ্দিন বিজয় (৩৫) ও রমজান ভূঁইয়া (৩৮)। মামলায় আসামিরা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, বিএনপি নেতা নুর উদ্দিন, আলী আহমেদ লালা ব্যাপারী, আলী আকবর হোসেন, নাসিক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, কাউন্সিলর জিএম সাদরিল, টি এইচ তোফা, আব্দুল হাই রাজু, তৈয়ব আলী, আখিল উদ্দিন ভূঁইয়া, মাজেদুল ইসলাম, মমতাজ উদ্দিন মন্তু, জুয়েল রানা, মনিরুল ইসলাম রবি, মানিক, মোক্তার হোসেনসহ অজ্ঞাত ২১ জন। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডস্থ গিয়াসউদ্দিনের নির্মানাধীন একতলা ভবনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২৫/৪০ জন বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার গোপন বৈঠক করছিল। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাবার সময় জিয়া উদ্দিন এবং রমজান ভুইয়া নামে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ৫টি অবিস্ফোরিত ককটেল, ১০টি বাঁশের লাঠি ও ৮টি কাঠের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার মিয়া মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফতুল্লা মডেল থানা : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় নাশকতার অভিযোগে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আকরাম প্রধান, যুবদল নেতা সরকার আলম সহ সহ ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখকৃত বাকী আসামীরা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম, রানা মজিদ, সরদার আলম, আকরাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, মো: আনোয়ার হোসেন, তারিকুল ইসলাম তারেক, পরান, জীবন, জাকির, শহীদুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, মো: মিরাজুল ইসলাম, মো: আসলাম দেওয়ান, রহিম, মো: আক্কাস মিয়া, মো: কামাল, মো: জয়নাল আবেদীন, স. ম শহীদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান শাহীন, মো: সেলিম মিয়া, জাহাঙ্গীর, সেলিম সর্দার, ছানোয়ার হোসেন, আলমগীর, মোখলেছুর রহমান, উমর আলী, মাইনুল হোসেন রতন, সফি দেওয়ান, মোহাম্মদ হোসেন, সিরাজ মাদবর, সাইদুল মিয়া, মো: দেলোয়ার হোসেন, সৈকত হোসেন, সোহেল আব্দুল্লাহ, শাহীন মুন্সী, হাফিজুল ইসলাম, মো: জাকির হোসেন ও শফিউল সরদার খোকন।
ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মো: শফিউল আলম বাদী হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হাজী আ: কাদের ও ইসমাইল হোসেন। তাদের কাছ থেকে ৫টি ককটেল, ১৮ পিছ লোহার রড ও ১৯টি বাশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে ৮ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার জামতলা ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পার্শ্বে রাস্তার উপর ১০০/১২০জন নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-সস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যে সজ্জিত হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্য সমবেত হয়ে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, পাওয়া হাউজ, রেলপথ উড়ানো, তেলের ডিপোতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাস্থল থেকেই ২ জনকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় মামলায়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের মামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানার এস আই কাজী এনামুল হক বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ওই মামলাটি দায়ের করেন। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অদ্যাপক মামুন মাহমুদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম এ আকবর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি সহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় ৩জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলো দুলাল ভূইয়া, রাজীব হোসেন ও সোহেল মোল্লা। তাদের কাছ থেকে ৪টি ককটেল উদ্ধার, ২২ পিছ লোহার রড ও ১৭টি বাশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। আসামীদের বিরুদ্ধে ৬ সেপ্টেম্বর ভূইগড় এলাকাতে একত্রিত হয়ে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, রেলপথ উড়ানো, তেলের ডিপোতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাস্থল থেকেই ৩জনকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় মামলায়।
না’গঞ্জ সদর মডেল থানার চাষাঢ়ায় সরকার উৎখাতের চেষ্টা মামলায় আসামী এ্যাড সাখাওয়াত সহ ৪০ জন : নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, আসামিরা সরকার উৎখাত ও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাষাঢ়া বালুর মাঠের তিতাস গ্যাসের অফিসের সামনের নাশকতার পরিকল্পনা করে জড়ো হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে ২ টি কচটেপ মোড়ানো ককটেল ও ৬টি ভাঙ্গা ইটের টুকরা উদ্ধার করে। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন পিএসআই প্রবীর কুমার রায়। মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হাসান (১৮), আফজাল হোসেন (৩০), হাবিবুর রহমান (৩২) ও মফিজুল (৩৫)। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাস বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুম কবির, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাগফুরুল ইসলাম পাপন, সদর থানা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম আপন, জিয়াউর রহমান জিয়া, মহানগর বিএনপি নেতা ফারুক চৌধুরী, মনির হোসেন খান, অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, হাজী নুরুদ্দিনসহ অজ্ঞাত ২০ জন। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সোনারগাঁওয়ে আসামী ৪৪, সাদিপুর ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৪৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার প্রস্ততির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার রাতে তালতলা ফাঁড়ির এসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরো ২০-৩০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। সাদিপুর ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম সরকারকে মামলায় প্রধান আসামী করা হয়। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত ও বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের করছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। রাতেই অভিযান চালিয়ে সাদিপুর ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম সরকারকে গ্রেফতার করেছে।
মামলায় আসামী করা হয়েছে, সাদিপুর ইউপি বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম সরকার, মনিরুজ্জামান লিটন, ছাত্রদল নেতা কাউসার, আল আমিন হোসেন অভি, আজিজুল ইসলাম আজিজ, সোনারগাঁও তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, লিটন মিয়া, শাহিনুল ইসলাম, জসিমউদ্দিন, সোহেল, নাজমুল, সালাম ভূইয়া, জামাই সেলিম, নাসিরউদ্দিন, রোকন, নজরুল ইসলাম, মোস্তফা, রিপন শিকদার, মামুন শিকদার, হাফিজুল ইসলাম, রিয়াজ মোল্লা, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, জসিমউদ্দিন, আঃ সালাম, মাওলানা ইকবাল হোসেন, জুবায়ের, ইসহাক মাওলানা, শফিকুল ইসলাম, সামসুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ইব্রাহিম, মোমেন, মাইনউদ্দিন, আবু বকর, রমজান, সুমন মোল্লা, রমজান আলী, আবু বকর, হাফিজুল, নাজমুল মোল্লা, ও শফিক বিহারী। এছাড়াও আরো ২০/৩০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

 

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1093 বার

আজকে

  • ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৪ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com