দুদিনে ৩০ বাড়ীঘরসহ ১৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ৭:৪২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ৭:৪২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ আবুল হোসেন সরদার শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ অব্যাহত পদ্মানদীর ভাঙ্গনে গত দু’দিনে নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ বাজার ও বাশতলা বাজার এলাকায় ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হযরত বেলাল জামে মসজিদসহ ৩০টি বসতবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও পানের বরজ, একটি কলা বাগানসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে নড়িয়া উপজেলার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৬ শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। যে কোন মূহুর্তেই নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নতুন ভবনটি বিলীন হলেও পুরাতন ভবনটিও বিলীনের পথে। মারাতœক ভাংগনের মুখে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৮ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে আতংকের মধ্যে দিন কাটছে ঐ এলাকার বাসিন্দাদের। কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙ্গনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পদ্মার তীরে ভীড় করছে হাজারও উৎসুক জনতা। ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের দাবী এ এলাকাকে দূর্গ এলাকা ঘোষনা করে দ্রুত বেড়িবাধ নির্মান করা হোক।
চরজুজিরা, মুলফৎগঞ্জ ও নড়িয়ায় ভাংগন কবলিত এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার গত দু দিনে পদ্মানদীর অব্যাহত ভাংগনের সাধুর বাজারের হযরত বেলাল (রাঃ) জামে মসজিদ, বসতলা এলাকায় নজরুল ইসলাম নজু ঢালী, কাদের ঢালী, মো: ফিরোজ, গনি বেপারী, সোবাহান মাল, সাগর দেওয়ান, জমিস খান, রফিক ফালী, জামাল বেপারীসহ ৩০টি বসত বাড়ী গনি বেপারীরর পানের বরজ, ফিরোজ মিয়ার একটি কলা বাগানসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত দু মাসে নড়িয়া উপজেলার দেওয়ান ক্লীনিক, রওসনারা সপিং মল, হেলথ কেয়ার ক্লীনিক, গাজী কালুর বিলিং, নড়িয়া উপজেলা স্ব্যাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুন ভবনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৬ শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। ওয়াপদা বাজার সাধুর বাজারের কমপক্ষে ২০০/২৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোন মূহুর্তেই নড়িয়া উপজেলা পুরাতন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ভবনটিও বিলীনের পথে। মারাতœক ভাংগনের মুখে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৮ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে আতংকের মধ্যে দিন কাটছে ঐ এলাকার বাসিন্দাদের। কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙ্গনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পদ্মার র্তীরে ভীড় করছে হাজারও উৎসুক জনতা। এদিকে সরকারীভাবে ত্রান দেয়ার পাশাপাশি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মানদীর ভাংগন কবলিত এলাকায় বেগম আশ্রাফুন্নেসা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১ হাজার ২০ পরিবারের মধ্যে চাল ডাল তৈল লবন আটা আলু পিয়াজ স্যালাইন ও শাড়ি লুঙ্গিবিতরন করা হয়েছে।
সরকারী বা বেসরকারীভাবে যে ত্রান দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এলাকাবাসির একটাই দাবী নড়িয়াকে রক্ষা করতে জরুরী ভিত্তিতে বেড়িবাধের কাজ টা শুরু করা হোক। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিলীন হওয়ায় কমপক্ষে ৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত হয়েছে জানান স্থানীরা।
বাসতোলা এলাকার কাদের ঢালী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমাদের চেেেখর সামনে বাড়ি ঘর জমিজমা হারিয়ে সবকিছু নদী গর্ভে চলে গেছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।
চর জুজিরা এলাকার জামাল বেপারী বলেন, ভাঙ্গনের তীব্রতা এতই বেশী যে আমরা ঘরের মালামাল পর্যন্ত সরাতে পারেনি। তার আগেই সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
কেদারপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লাহ বলেন, পদ্মা নদী গত ২মাসে আমাদের কেদারপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ঘর মুলফৎগঞ্জ বাজারের একটি অংশের প্রায় ২ শতাধিক দোকানপাট, সাধুর বাজার ওয়াপদা বাজার বিলীন করে নিয়েছে। এ এলাকার মানুষ অসহায়। সরকারের পক্ষ থেকে সামান্য সাহায্য চাল ও শুকনো খাবার বিÍরন করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে বেড়ি বাধের কাজ শুরু করে এ এলাকাকে দূর্গত এলাকা ঘোষনা করে ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মা নদীর ভাংগনে আমাদের উপজেলায় নুতন নুতন এলাকা ও স্থাপনা বিলীন করে নিয়েছে। সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ও বিলীন হয়ে গেল। এ এলাকায় স্বাস্থ্য সেবার সমস্যা হবে। এটা সমাধানের জন্য আমরা শীঘ্যই বিকল্প ব্যবস্থা নিব।
সিভিল সার্জন ডাক্তার খলিলুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিলীন হওয়ায় প্রতিদিন ২০ লোক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হাসপাতাল চালু রাখবো। পরবর্তীতে কতৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1055 বার