শরীয়তপুরে অব্যাহত পদ্মার ভাংগন , মানুষেরে মধ্যে আতংক

Pub: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ ৪:৫১ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ ৪:৫১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুর অব্যাহত পদ্মার ভয়াবহ ভাংগন চলছে। প্রতিদিন নুতন নুতন বাড়ি ঘর গাছপালা ফসলী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত ৪৮ ঘন্টায় প্রায় ৩০টি বাড়ি গাছপালা ও ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। আশে পাশের মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। ভাঙগন কবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের মাথা গোজার ঠাই নেই। অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে তারা। সরকারী ত্রান প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। উপজেলা প্রশাসন বলছে পর্যাপ্ত ত্রানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ত্রান আসার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরন করা হবে।
নড়িয়ার ভাংগন কবলিত এলাকা ঘুরে ও ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে,২ মাস যাবত শরীয়তপুরের নড়িয়ায় অব্যাহত পদ্মার ভয়াবহ ভাংগন চলছে। পদ্মার ভয়াল ¯্রােতের টানে প্রতিদিন নুতন নুতন বাড়ি ঘর গাছপালা ফসলী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় নড়িয়া উপজেলার বাঁশতলা ও উত্তর কেদারপুর এলাকায় আলী অকবর দেওযান,সফি বেপারী, ,মোকলেছ দেওয়ান, সবুজ দেওয়ান, রাজিব দেওয়ান, সজিব দেওয়ান, নুরুল হক বেপারী, ,তারা বেপারী, রফিক বেপারী, সালাহ উদ্দিন বেপারী, কাদের ঢালি,মনির ঢালি, নজু ঢালি, ইদ্রিস মৌলবী, গিয়াস মোল্যা ইরিয়াছ মোল্যা ,নুর ইসলাম ঢালি নাসির ঢালি হামি বেপারী সহ কমপক্ষে ৩০টি বাড়ি ঘর বিলীন হয়ে গেছে। ভাংগনের গতি ও ভয়াবহতা দেখে আশে পাশের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। যেকোন সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে আশে পাশে থাকা তাদের বাড়ি ঘর। গত ২ মাসে নড়িয়া উপজেলা ঘরবাড়ি হারিয়ে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাংগনের মুখে রয়েছে মূলফৎগঞ্জ বাজারের প্রায় ৮ শতাধিক দোকানপাট, নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাকি অংশ, নড়িয়া বাজার ,উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, নড়িয়া পৌরসভা কমপ্লেক্স,নড়িয়া উপজেলা সরকারী খাদ্য গুদাম সহ শতশত বাড়ি ঘর ও স্থাপনা। ঐ এলাকার মানুষ সারাক্ষন বাড়ি ঘর সরিয়ে নেয়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সকলের মধ্যেই এখন আহাজারি। তারা কোথায় যাবে কি করবে বুঝে ঊঠতে পারছেনা। তাদের পেটে ভাত নেই।তারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে, উচু স্থানে বা অন্যের জায়গায় ভাড়া নিয়ে মাথা গোজার ঠাই করে নিয়েছে। এখনো হাজার হাজার লোক বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সরকারী বরাদ্ধ অত্যন্ত নগন্য। উপজেলা প্রশাসন বলছে পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রীর জন্য দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এ ত্রান আসার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরন করা হবে। ভাংগন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের দাবী সরকার জরুরী ভিত্তিতে বেড়ি বাধের কাজটা শুরু করে বাকি এলাকা রক্ষা করা হোকবাশতলা এলাকার আলী আকবর দেওয়ান বলেন, আমাদের আর কিছুই রইল না। সুখে শান্তিতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার জন্য অনেক কষ্ট করে পাকা বাড়ি ঘর বানিয়ে ছিলাম। এ বাড়িটা পদ্মা নিয়ে গেল। এখন আমাদের মাথা গোজার জায়গাটুকু ও নেই। আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা।
ভিটে মাটি হারা পান্না ওবেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, খেয়ে না খেয়ে সখ করে একটি ঘর বানিয়ে ছিলঅম। আজ পদ্মা আমাদের সে ঘরখানা নিয়ে গেল। সরকার আমাদের বেড়ি বাধটা দিলনা। বেড়ি বাধ দিলে আমাদের বাড়ি ভাংগতোনা।
নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দুলাল বেপারী বলেন, ২ মাস যাবত পদ্মা নদী ভাংছে। কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার গ্রহহীন হয়ে গেছে। গত ৪৮ ঘন্টায় ৩০টি বাড়ি ঘর বিলীন করে নিয়েছে। কখন যেন আমাদের বাড়ি ঘর নিয়ে যায়। আমরা এখন আতংকে আছি।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমীন বলেন, ইতোমধ্যে শুকনো খাবার, চাল ও ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রীর জন্য দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। ত্রান সামগ্রী আসা মাত্র ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরন করা হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1293 বার