ভূমিদস্যুদের হাতে ধংস হচ্ছে উখিয়ায় পাহাড় টিলা

Pub: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ ৯:২৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ ৯:২৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কায়সার হামিদ মানিক, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ার সর্বত্র সম্প্রতি বন বিভাগের রক্ষিত ও সংরক্ষিত পাহাড় টিলা ধংস করে, পাহাড়ি ছড়া, খাল থেকে বেআইনি ভাবে মেশিন দিয়ে বালি ও মাটি উত্তোলন চলছে সমানে। স্থানীয় বন বিভাগে দায়িত্বশীল বন কর্মীরা এক প্রকাশ অজ্ঞাত কারনে নিস্ক্রীয় বা নির্বিকার থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা অধিক উৎসাহে প্রকৃতি ধংস কাজে মেতে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বন রেঞ্জ কর্মকর্তা এসব অবৈধ বালি উত্তোলনের বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা এ নিয়ে বন কর্মকর্তা ও কর্মীদের দায়ী করেছেন। যদিও বন সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। সরজমিনে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল এলাকায় সামাজিক বনায়ন উজাড় করে নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংস করে অবৈধ বালি উত্তোলন করতে দেখা গেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল বিশাল আকারের ৩/৪ টি সু-উচ্চ পাহাড়ের অস্থিত্ব বিলীন করে ফেলেছে গত দুই মাসে। ১০/১২ জন শ্রমিক কয়েকটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করছে পাহাড়ের একাংশ থেকে। জানতে চাইলে ঐ সিন্ডিকেটের কামাল হোসেন নামের এক যুবক বলেন, জায়গাটি তার জোত জমির সংলগ্ন, তাই বর্ষার পাহাড় ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে সেখান থেকে বালি উত্তোলন করছে। গত কয়দিন আগে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ও বিট অফিসার এসেছিল। তারা পাহাড়ের যেন ক্ষতি না হয়, সেই দিকে নজর দেওয়ার কথা বলে চলে যায়। আর মাসের শেষে দেখা করার কথা বলেন। স্থানীয় আবুল শামা (৬০) নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সরকার ১৯৯১-৯২সালে উক্ত পাহাড়ে সামজিক বনায়ন করেছিল। আমি একজন সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বালি ও মাটি খেকো ভূমিদস্যূরা নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংস করে বালি উত্তোলনের ফলে পাহাড়ের পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন উজাড় হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষক মোঃ সোলেমান জানায় পাহাড় ধংস করে তোলা বালি ও মাটি পরিবহনের কারণে তাদের চাষি ধানি জমি নষ্ট হয়ে যায়। মাটি ও বালিবাহী ট্রাকের ধুলাবালিতে গ্রাম্য সড়কের উভয় পাশে বসত বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুদের স্কুলে যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয় দোকানদার ফজল করিম জানান। তারা বিষয়টি স্থানীয় বনবিভাগ জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে বিভিন্ন সময় বন কর্মীরা উক্ত মাটি খেকো ও ভূমিদস্যুদের সাথে এসে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল কবির বলেন, পাহাড় ধ্বংস করে বালি উত্তোলন করা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই বিষয়টি তিনি একাধিক বার বনবিভাগের কর্তাব্যক্তিদের অবহিত করেছেন। গ্রামীণ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে রাস্তা-ঘাট নষ্ট হয়ে ছেলে/মেয়েরা স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসায় যেতে সীমাহীন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি রেঞ্জ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও বালি উত্তোলন ও মাটি পাচার বন্ধ হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে ভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে বালি এবং মাটি উত্তোলন করে বন ভূমির শ্রেনী পরিবর্তন করা হচ্ছে তা খুবই দুঃখ জনক। অভিযুক্ত রাজাপালং বন বিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সাথে কোন প্রকার বালিখেকোদের সম্পর্ক নেই। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্থ করেন। ইনানী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বালি উত্তোলনকারী ও মাটি পাচারকারীদের এ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও যদি কেউ বালি উত্তোলন ও মাটি পাচার করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1021 বার