বোরহানউদ্দিন-দৌলতখানে হাফিজ ইব্রাহিমের আগমনে দিনব্যাপি আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

Pub: রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভোলা অফিস॥
ভোলা-২ আসনের বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান এলাকার বিএনপি’র (ধানের শীষ)প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বোরহানউদ্দিন আগমন করেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে।
রোববার(১৬ডিসেম্বর) ভোওে তিনি ঢাকা থেকে লঞ্চের বহর নিয়ে ভোলার বোনহানউদ্দিন নির্বাচনী এলাকায় পৌছলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।
দিনব্যাপী আতঙ্কে ছিলে বোরহানউদ্দিন উপজেলাবাসী। অঘোষিত হরতালের মতো বন্ধ হয়ে যায় সব দোকানপাট। সাবেক এই সংদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম ভোরে দৌলতখান বোরহানউদ্দিন সীমানায় হাকিমউদ্দিন ঘাটে লঞ্চ থেকে নামার পর আ’লীগের ৬টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর হয়েছে। এছাড়াও ১৮টি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ, ৫ টি মাইক্রোবাস ভাঙচুর, আ’লীগের গণসংযোগে হামলা হয়েছে।কুপিয়ে জখম করা হয়েছে অর্ধশত আ’লীগ নেতাকর্মীকে। এসব ঘটনার জন্য হাফিজ ইব্রাহিমকে সরাসরি দায়ী করেছে আ’লীগ (নৌকার) প্রার্থী আলহাজ¦ আলী আজম মুকুল।।
বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার আলম জানান, প্রথমে লঞ্চ থেকে নামতে গিয়ে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন হাফিজ ইব্রহিম। লঞ্চ থেকে হাফিজ ইব্রাহিমকে র‌্যাব ও পুলিশ পাহারায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। এমভি তাসরিফ-১ ও এমভি তাসরিফ-৩ লঞ্চে আসা দলীয় নেতাকর্মীরা পরে বিভিন্ন ঘাটে নামেন। ওইসব নেতাকর্মীদের পথে পথে বাধা দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে আ’লীগ কর্মীরা। বিএনপি’র কোন নেতাকর্মী কারো অফিস বা মটরসাইকেলে হামলা,ভাংচুর ও আগুন দেন নাই।
স্থানীয়রা জানান, লঞ্চযোগ হাফিজ ইব্রাহিমের সঙ্গে আসা সহস্রাধিক নেতাকর্মী ঘাটে নামার পর ইউপি চেয়ার আ’লীগ নেতা কামরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা ৪০ জনের একটি গ্রুপের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় হাফিজ সমর্থিতরা মারমুখী হন কামরুল গ্রুপের ওপর।
ওই সময় কামরুল গ্রুপের কয়েটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপরেই এরা উদয়পুর রাস্তার মাথায় আ’লীগের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। এমন খবরে বিভিন্ন পয়েন্টে আ’লীগ কর্মী বাহিনী অবস্থান নেয়।

আ’লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ৩ ঘণ্টাব্যাপী বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিএনপি’র কর্মীদের হামলার শিকার হন দুই সংবাদিক। এমনটা জানান এনটিভি সাংবাদিক আফজাল হোসেন।
অপরদিকে রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভোলা-২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০০১ সালের মতো তা-ব চালিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় আ’লীগের ৫০ জন নেতাকর্মীকে গণসংযোগের সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। ১৫-২০টি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ ও ৫টি মাইক্রোবাসে ভাঙচুর ও ৬টি নির্বাচনীয় অফিস ভাঙচুর করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাফিজ ইব্রাহিম ঢাকা থেকে ৪টি লঞ্চযোগে প্রায় ২ হাজার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে প্রথমে দৌলতখান লঞ্চঘাটে এসে ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে বোরহানউদ্দিন হাকিমুদ্দিন লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছলে সেখানে টবগী ইউনিয়নের চেয়্যারম্যন ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্নসম্পাদক কামরুল আহসান চৌধুরী তার লোকজন নিয়ে নির্বাচনী প্রাচারণায় নামলে হাফিজ ইব্রাহিমের ক্যাডার পক্ষিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়্যারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র যুগ্নসম্পাদক হুমায়ুন কবিরের নেত্বত্বে ৪/৫শত সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ করে আ’লীগ কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুল আহসান চৌধুরী, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জোহেব হাসান, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, টবগী ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনসহ ৫০জন নেতাকর্মী গুরুত্বর আহত হন।
বোরাহনউদ্দিন থানর অফিসার ইনচার্জ(ওসি) অসীম কুমার সিকদার জানান, ৯টি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ ও ৫টি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়েছে। আ’লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিত পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ