লালমনিরহাটে চালের বাজার উর্ধমুখী, হতাশ নিম্ন আয়ের মানুষ

Pub: শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ ২:২৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ ২:২৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
হঠাৎ করে গত একসপ্তাহের ব্যাবধানে লালমনিরহাটে চালের দাম উর্ধমুখী হচ্ছে। বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা আর কেজি প্রতি ২-৩ টাকা। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে আর বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের ছিন্নমূল পরিবারের লোকজন। আমনের ভরা মৌসুম চললেও চালের এ মুল্যবৃদ্ধির কোন সদুত্তর খুজে পাচ্ছেনা সুধিজনেরা।

চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন- গত সপ্তাহে ২৬/২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গুটি স্বর্ণা চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। বিআর-ঊনত্রিশ চাল ৩৩ টাকার স্থলে ৩৬ টাকা দরে, সুমন স্বর্ণ ২৮ টাকার স্থলে ৩১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন বিআর আঠাশ জাতের চাল ৩৫ টাকার স্থলে ৩৭ টাকা ও মিনিকেট জাতের চাল ৪৬ টাকার স্থলে ৪৯ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

দিনমজুর গোলাম মোস্তফা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিদিন দিনমজুরি করে যা আয় হয় তা দিয়েই তাকে সংসার পরিচালনা করতে হয়। এদিকে, চালের হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। দিনমজুরির আয় না বাড়লেও গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বাড়লে তেমন অসুবিধা হয়না। কিন্তু, চালের দাম বাড়লেই আমাদের বিপাকে পড়তে হয়।

চাল ক্রেতা শরিফুল ইসলাম টোটন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, নিত্য পণ্যের পাশাপাশি চালের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু বর্তমানে আমনের এখন ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে চালের দাম বাড়াটা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এতে করে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের কিছুই করার নেই।

চালের পাইকারি ব্যবসায়ী হাসান সায়িদ মোল্লা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়ানোয় আমাদের বেশি দামে চাল কিনে আমাদেরও বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। একইসঙ্গে চালের সরবরাহও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে চালের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের মতো পাইকারি ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।

চাল ব্যবসায়ী রফিকুল আলম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ক্রেতাসহ অনেকেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। কিন্তু এটা ঠিক না, চালের দাম কমানো ও বাড়ানোর সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কোন ভাবেই জড়িত নন। বাজারে ধানের পর্যাপ্ত যোগান থাকলেও মিল মালিকরা ধানের সংকট দেখিয়ে চালের দাম বাড়িয়েছে।

মিল ব্যবসায়ী গুলশান আলী বলেন- বাজারে ধানের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বেশি দাম দিয়েও ধান পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব ধানের চাহিদা রয়েছে সেসব বোরো মৌসুমের ধান। ধানের এই সংকটের কারণে চালের দাম বেড়েছে।

লালমনিরহাট জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন রশীদ চাঁদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, চালের দাম কেজিতে ২/৩ টাকা বেড়েছে ঠিকই। তবে এটি খুব বেশি বাড়া নয়, বরং এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। এতদিন চালের দাম কম ছিল, যা ছিল অস্বাভাবিক। এতে করে অনেক মিল মালিককেই অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে।

লামনিরহাট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এস এ হামিদ বাবু ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গত কয়েত দিনে চালের বাজার হঠাৎ করে ২/৩ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের একটু সমস্যা হয়েছে ঠিক। তবে সারা দেশের বাজারের সঙ্গে মিল রেখেই চালের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবার সামগ্রিক ভাবে বিবেচনা করলে চালের এই দাম বাড়াটা খুব বেশি নয়। এখনো চালের বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1111 বার