fbpx
 

বকশীগঞ্জে শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর মানবেতর জীবন

Pub: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ ৮:১০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জামালপুর: জেলার বকশীগঞ্জে ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও না হওয়ায় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতে ভারতীয় সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ ও চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুইটি কলেজ, একটি হাইস্কুল, চারটি দাখিল মাদরাসা ও সাতটি জুনিয়র হাইস্কুল রয়েছে। বকশীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি কলেজ, ২৬টি হাইস্কুল, ১৮টি দাখিল মাদরাসা ও সাতটি জুনিয়র হাইস্কুল রয়েছে।এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০০৩ সালে নিলক্ষিয়া পাবলিক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রায় দেড়যুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি। অধ্যক্ষ মশিউল আলম জানান, কলেজ এমপিওভুক্ত করতে গিয়ে কয়েক লাখ টাকা খুইয়েছি। কিন্তু স্বপ্নের এমপিও পাইনি। বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা। দুই যুগ পার হলেও এমপিও হয়নি চরাঞ্চলের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। একটি টিনের ঘরে ভাঙ্গা বেঞ্চে কোনো রকমে পাঠদান করালেও সরকারিভাবে কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি। যুবক বয়সে চাকরিতে যোগ দিয়ে অনেক শিক্ষক আজ বৃদ্ধ। বেতন-ভাতা চোখে দেখেননি। তবুও শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পেটে খাবার না থাকলে কিভাবে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাবো। শিক্ষক হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছি। উপজেলার সদর ইউনিয়নের সূর্য্যনগর রৌশনারা দাখিল মাদরাসাটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। টিনশেড ঘরের চাল থাকলেও বেড়া ভেঙেচুরে গেছে। বেতনভাতা ও সরকারি বরাদ্দ না থাকায় মেরামত করা হয়নি মাদরাসাটির শ্রেণি কক্ষ। ৩২০ জন শিক্ষার্থী অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ মাদরাসা থেকে এ বছরও পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বগারচর ইউনিয়নের ঘাসিরপাড়া দাখিল মাদারাসা ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শিক্ষক মোহন আলী জানান, নিজের খেয়ে আর কত সার্ভিস দেবো। সংসার আর চলে না। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ১০ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেলে মাদরাসায় আসা যাওয়া করছি। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ওই মাদরাসা থেকে এ বছরও ২০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। মেরুরচর ইউনিয়নের মাদারের চর জুনিয়র হাই স্কুলটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও এমপিও হয়নি। একটি টিনশেড ঘর ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি এই প্রতিষ্ঠানের।নিলক্ষিয়া আবদুস ছালাম বালিকা বিদ্যালয়টি চলছে এমপিওভুক্তি ছাড়াই। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তি না হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান হলেও ২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র নিম্ন-মাধ্যমিক পর্যন্ত এমপিও রয়েছে। তবে এই ১২টি বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, ২০১০ সাল থেকে এমপিও বন্ধ থাকায় এ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত হচ্ছে না। এমপিও শুরু হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ