উখিয়া-টেকনাফ সড়কে বাড়ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনা

Pub: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কায়সার হামিদ মানিক, কক্সবাজার প্রতিনিধি :
রোহিঙ্গার ভারে ন্যুয়ে পড়া কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সড়কের কোটবাজার, উখিয়া, বালুখালী, পালংখালীসহ বিভিন্ন স্থানে খানা-খন্দকের কারনে প্রতিদিন আটকে যাচ্ছে মালবাহী গাড়ি,ফলে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদূর্ভোগ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়াত করা অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক, বাস, প্রাইভেট গাড়িসহ সকল ধরণের যানবাহন বেড়েছে অত্যাধিক হারে। যার কারণে গত একবছর ধরে সড়কে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও পর্যটকরা।
সরেজমিন মরিচ্যা, কোটবাজার, উখিয়া, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সড়কটির পাশে বর্জ্যরের স্তুপ, অবৈধ পার্কিং, দোকানপাট ও গ্যারেজ। লোকাল বাসও দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী তোলে। ফলে যানজটের দীর্ঘ লাইন হয়। উখিয়া, কোটবাজার, কুতুপালং শুধু নয়, বেশির ভাগ পয়েন্টের অবস্থাই ভালো নয়। এসব পয়েন্টে বেশির ভাগ সময় যানজট লেগে থাকে। উখিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজান বলেন, ছুটির দিন ও কর্মদিবসকে সামনে রেখে অবস্থার আরো অবনতি হয়। মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত সাতটি পয়েন্টে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকে। এই সাতটি পয়েন্ট হলো মরিচ্যা, কোটবাজার, উখিয়া, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকেরা যানজটের কারণে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেন না। এ ছাড়া দখলদারদের কারণে রাস্তাটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নানা ধরনের টং দোকান, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, রাস্তার ওপর কাঁচা বাজার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে গড়ে ওঠায় যানবাহনগুলো দ্রুত চলাচল করতে পারে না। উখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মসজিদ মার্কেটের সড়কের ওপর সি লাইন, কক্স লাইন অবৈধ বাসস্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী তোলায় যানজট তৈরি করে। এছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত সড়কের প্রবেশমুখে বালুখালী এলাকায় বড় বড় গর্তের কারণে যান চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা খানা-খন্দকে বেহাল অবস্থায় থাকা উখিয়া টেকনাফের সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও চার লেনে উন্নীতকরণের দাবি জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ আরকান (শহীদ এটিএম জাফর) সড়কে যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত চারমাসে ১৫ জনের অধিক পথচারী নিহত ও ২ শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরার কারণে দুর্ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পেতে ভারী যান চলাচলের সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার জাতিগত নিধনযঞ্জের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া ৭ লক্ষাধিকসহ ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় নিয়োজিত এনজিও গুলোর ব্যবহৃত গাড়ি সংখ্যা বেড়েছে আশংকাজনকভাবে। এছাড়ও যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় টমটম, ভটভটি, ডাম্পার, চাঁদের গাড়ি, অটোরিক্সা, ব্যাটারীচালিত রিক্শাসহ ৫ হাজারের অধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়কে দিনরাত চলাচল করছে। যে কারণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে আশংকাজনকভাবে। গত মে মাসের শেষের দিকে সড়কের জাদিমুরা এলাকায় ডাম্পারের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল হক ডালিম নিহত হন। এর কিছু দিন যেতে না যেতেই ভারী বর্ষণের সময় প্রায় ২৫ টন ওজনের বাঁশ বোঝাই একটি ট্রাক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার পথে বালুখালী কাস্টমস এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে সাইড দিতে গিয়ে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এসময় সড়কে চলাচলরত টমটম সিএনজি ও মাহিন্দ্রাসহ ৭টি ছোট যানবাহন ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে শিশুসহ ৪ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এসময় আহত হয়েছে আরো ১৬ জন যাত্রী। নিহতরা হচ্ছে বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর কায়েস (২৫), একই ক্যাম্পের তসরিন (২০), তার শিশু কন্যা মোশরফা আকতার (২৭ দিন) ও বালুখালী পানবাজার এলাকার এনজিও কর্মী রোজিনা আকতার (২৬)।
স্থানীয়রা বলছেন, রোহিঙ্গা আসার পর থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ আরকান সড়কের মাত্রাতিরিক্ত হারে যানবাহন সংখ্যা বেড়েছে। যানবাহনের তুলনায় সড়কের উন্নয়ন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এনজিও সংস্থার ব্যবহৃত গাড়ির পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচল করার কারণে প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে। তাই এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে ভারী যান চলাচলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দিতে হবে। সকাল ৮ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা না হলে এ দুর্ঘটনা এবং যানজট রোধ করা সম্ভব হবে না। এছাড়া সড়কের যে সমস্ত খানা-খন্দক সৃষ্টি হয়েছে তা মেরামত করা অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি ৪ লেইনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এর আগে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ও এলজিইডি সড়কটি হাল্কা যানবাহন চলাচলের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1031 বার