পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ-গুলি, আহত ১৫

Pub: শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০১৯ ৮:২০ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০১৯ ৮:২০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
নরসিংদীর পলাশে গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।এ ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাগপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- পলাশ থানার এসআই মনির হোসেন, কনস্টেবল হারুন মিয়া, আবুল হোসেন, দৈনিক মুক্তখবর পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক জুয়েল মিয়া, ঘোড়াশাল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রোমেল মিয়া। এছাড়াও স্থানীয়দের মধ্যে আহত হন, সাখাওয়াত হোসেন, রাব্বি মিয়া, সোহেল মিয়া, এমায়েত হোসেন, মানছুর মিয়াসহ ১০ জন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাগপাড়া গ্রামে অবস্থিত প্রাণ আরএফএল গ্রুপের একটি কাভার্ডভ্যান প্রতিষ্ঠানটির পাশে সড়কে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা পৌর এলাকার চরপাড়া গ্রামের রতন মিয়া, জসিম উদ্দিন ও রনি নামে তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী দুর্ঘটনাস্থলের কাভার্ডভ্যান ও প্রাণ আরএফএল গ্রুপের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে প্রাণ আরএফএল গ্রুপ থেকে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হলে পুলিশ গ্রামবাসীকে লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন স্থানীয় এক সাংবাদিক।

সংঘর্ষে আহত সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের বেপরোয়া কাভার্ডভ্যান প্রায় সময় বাগপাড়া সড়কে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। দুপুরে তাদের এক কাভার্ডভ্যান বেপরোয়া গতিতে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন। বারবার দুর্ঘটনা ঘটালেও প্রতিষ্ঠানটির চালকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি ঘেরাও করে প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশ এসে উত্তেজিত অবস্থায় তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলিও ছুড়ে বলে জানান তিনি।

আহত স্থানীয় সাংবাদিক জুয়েল হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাই। ঘটনাস্থলে গ্রামবাসীর ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ছবি তুলতে গেলে পুলিশের এক সদস্য আমাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। আমি সংবাদকর্মী পরিচয় দিলেও তারা আমার কোনো কথা শুনেনি।

পৌর কাউন্সিলর রোমেল জানান, উত্তেজিত জনতাকে থামাতে গিয়ে উভয়পক্ষের হামলায় আমিও আহত হই। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে পলাশ থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা প্রাণ আরএফএল প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সঙ্গীয় ফোর্সসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আমি ও আমার দুই কনস্টেবল আহত হই। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে উত্তেজিত জনতা সরে পড়ে। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, পুরো বিষয়টি এখনও জানা হয়নি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ