গাইবান্ধার আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম-দূর্ণীতি

Pub: শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ধাপেরহাট ইউনিয়নের আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ প্রত্যাশীদের নিকট মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা। বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারি বিধি ও নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধ পন্থায় গোপনে কমিটি গঠন করায় আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের ছাড়াও বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডসহ উর্ধ্বতন দপ্তর বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫ বছর যাবৎ নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় মনগড়া এডহক কমিটির মাধ্যমে নানা অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক মহলের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ চলছে।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাশাপাশি নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবিতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের হলেও প্রতিকার মেলেনি। এ মর্মে সম্প্রতি দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে সচেতন অভিভাবক মহলের লিখিত অভিযোগ করলেও নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবি উপেক্ষিত। যা নিয়ে অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবক মহল সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের বিধি মোতাবেক একটি নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করেন। উক্ত তফশীল অনুযায়ী প্রায় ১৪জন অভিভাবক সদস্য ৪ হাজার টাকা করে জামানত দিয়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দু’দিন আগেই প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের পক্ষের অনুগত লোকজন গাইবান্ধার আদালতে নির্বাচন বানচালের জন্য একটি মামলা দায়ের করেন (যার নং- অন্য ১০৩/১৪)। এতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষিত হয়। পরে অভিভাবক মহলের পক্ষে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরে চেয়ারম্যান বরাবরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফট করে গত ২৪/২৭/০৭/১৭ইং তারিখে একটি অভিযোগ প্রেরিত হয়। কিন্তু প্রতিকার না পাওয়ায় গত ২১/০৮/১৭ইং তারিখে পুনরায় ৫ হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফটসহ অপর একটি অভিযোগ দাখিল করা হলেও আজ পর্যন্ত তদন্ত-প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যেই প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের চেষ্টা চালায়। এসব গোপন খবর পেয়ে গত ২১/১০/১৮ইং তারিখে বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের পক্ষে গাইবান্ধার আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের হয় (যার নং- অন্য ১৪৫/১৮)। উক্ত মামলা চলমান থাকায় বিবাদী পক্ষ বিধি-বিধান অবজ্ঞা করে গোপনে অবৈধ ভাবে একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য কোন প্রকার তফশীল ঘোষণা কিংবা নোটিশ প্রদানের নজির নেই। যা আদালত অবমানমার শামিল বটে। ওই ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে গোপনে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ও নৈশ্য প্রহরী কাম-গার্ড নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ১৭ এপ্রিল আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ের নানামুখি অনিয়ম-দূর্ণীতিসহ ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের দাবীতে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সুধীজনদের সম্মিলিত আয়োজনে বিশাল এক মানববন্ধন ধাপেরহাট-মাদারহাট সড়ক ঘেঁষে অত্র বিদ্যালয় চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের সাথে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জনান অভিযোগ সমূহ সঠিক নয়। মিথ্যা-বানোয়াট বলে অভিহিত করেন। তিনি আরো বলেন উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে ইতোপূর্বে আদালতে মামলা রুজু রয়েছে। যা এখনো বিচারাধীন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এ ধরনের অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিরোধ কল্পে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক মহল।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ