নুসরাত হত্যা: আ.লীগ নেতা রুহুল আমিন ৫ দিনের রিমান্ডে

Pub: শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯ ৯:০৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯ ৯:০৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। 

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন।

এদিন বিকেলে রুহুল আমিনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলা শহরের উত্তর চর চান্দিয়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে রুহুল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর পর ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। রুহুল আমিন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সহ-সভাপতি দায়িত্বে আছেন বলে জানা গেছে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে রুহুল আমিনসহ এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে ৪ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম গত রবিবার একই আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ‘নুসরাতের শরীরের আগুন দেয়ার পর আমি মোবাইল ফোনে বিষয়টি রুহুল আমিনকে জানালে তিনি আমাকে বলেন-‘আমি বিষয়টি শুনেছি, তোমরা চলে যাও’।’

মূলত শাহাদাত হোসেনের জবানবন্দির পর থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রুহুল আমিনের নাম জড়িয়ে পড়ে। তবে মামলার এজাহারে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। 

জানা যায়, ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লার ঘনিষ্ট লোক ছিলেন রুহুল আমিন। ২৭ মার্চ নুসরাতকে শ্লীলতাহানির পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় ভূমিকা রাখেন রুহুল আমিন। তবে জনরোষের মুখে লম্পট অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন এই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। ২৮ মার্চ সোনাগাজী জিরো পয়েন্টে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেরও ইন্ধনদাতা ছিলেন এই রুহুল আমিন। এমনকি শ্লীলতাহানি, আর্থিক অনিয়মসহ অতীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের ক্ষেত্রেও নীরব ভূমিকায় ছিলেন রুহুল আমিন। 

শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নুসরাতকে যৌন হয়রানির ঘটনা এবং তার শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে তারা খোঁজ পেয়েছেন। সোনাগাজীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় মুখোশ পরা চার/পাঁচজন নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লাহর বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রায় ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। 

এ ঘটনায় ৮ জনের নামোল্লেখ করে মামলা হলেও পুলিশ ও পিবিআই এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। 

গ্রেফতার ১৯ জন হলেন- অধ্যক্ষ এসএম সিরাজদৌল্লা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সদ্য বাতিল হওয়া পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরীফ ও হাফেজ আব্দুল কাদির। 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ