দুই জরায়ুতে তিন সন্তান, দুধের যোগান দিতে হিমশিম দম্পতি

Pub: রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৯ ৩:২০ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৯ ৩:২০ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বেনাপোল থেকে :

‘কিভাবে ইফাত ইসলাম নূর, হুজাইফা ইসলাম সাকিন আর জান্নাতুল মাওয়াকে বাঁচাব’। সন্তানরা মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না পাওয়ায় তাদের বাইরে থেকে কৌটা দুধ কিনে দিতে হচ্ছে। খরচ কুলানোই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে পরিবারটির জন্য। একটি ভলকানাইজিং গ্যারেজের (মোটর লিক সারাই, হাওয়া দেওয়া) কর্মচারী সুমন বিশ্বাস প্রতিদিন ২৫০ টাকা হাজিরায় কাজ করেন। স্ত্রীর সন্তান প্রসবজনিত কারণে চিকিত্সা খরচ করাতে অনেক টাকা দেনা হয়েছেন। একই মায়ের দুই জরায়ুতে ২৬ দিনের ব্যবধানে জন্ম তিন শিশুর। তাদের জন্মের বিরল ঘটনায় খুশি হয়েছিলেন বাবা-মা সুমন বিশ্বাস-আরিফা সুলতানা ইতি দম্পতি। তবে তাদের আনন্দ ফিকে হতে চলেছে আর্থিক টানাপড়েনে। এমতাবস্থায় সরকারের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা।

যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের সুমন বিশ্বাস ও আরিফা সুলতানা ইতি দম্পতির প্রথম সন্তান হয় স্বাভাবিকভাবেই। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন ইতি। এরপর তিনি বাড়িতে চলে আসেন। প্রথম সন্তান জন্মের ২৬ দিন পর যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আরো দুটি সন্তানের জন্ম হয়। এদের মধ্যে একজন ছেলে অপরজন মেয়েশিশু। এই দম্পতি তাদের সন্তানদের নাম রেখেছেন ইফাত ইসলাম নূর, হুজাইফা ইসলাম সাকিন আর জান্নাতুল মাওয়া।

শ্যামলাগাছি তেল পাম্পের পাশে একটি ভলকানাইজিং গ্যারেজের কর্মচারী সুমন বিশ্বাস প্রতিদিন ২৫০ টাকা হাজিরায় কাজ করেন। স্ত্রীর সন্তান প্রসবজনিত কারণে চিকিৎসা খরচ করাতে অনেক টাকা দেনা হয়ে রয়েছেন আগে থেকেই।

সুমন বলেন, আল্লাহর নেয়ামত একসঙ্গে তিন সন্তান পেয়ে আমরা খুশি হয়েছি। অনেক মানুষ বাড়িতে আসে প্রতিদিন তাদের দেখতে। এখন স্ত্রীর বুকের দুধে সংকুলান হচ্ছে না বাচ্চাদের। আয়-রোজগার সীমিত বলে তাকেও (স্ত্রী) পুষ্টিকর খাবার দিতে পারছি না। এ ছাড়া বাচ্চাদের জন্যে পাউডার দুধ কিনতে হচ্ছে। এক কৌটা দুধ ৫৩০ টাকা লাগে, যায় ১৫ দিন। শিশুরা ছোট সে কারণে এখনও তেমন খেতে পারে না। আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, দুধের যোগানও বেশি দিতে হবে। আল্লাহ জানে কীভাবে তাদের মুখে খাবার তুলে দেব।

শ্যামলাগাছি গ্রামে একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকেন এই দম্পতি। প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা গুনতে হয়। এমতাবস্থায় সীমিত আয়ে সংসার ঠিকমতো চালানো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

আরিফা সুলতানা ইতি বলেন, তিন সন্তান নিয়ে আমরা খুশি। কিন্তু বাচ্চারা দুধের কষ্ট পাচ্ছে। বুকের দুধে তাদের পেট ভরছে না। সন্তানদের বাবাও স্বল্প-আয়ের মানুষ। কী যে হবে, বুঝতে পারছি না।

সুমন বলেন, প্রত্যেক বাবা-মা চান তার সন্তান যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকে। তাদের যেন ঠিকমতো লেখাপড়া করানো যায়। এখন আমার যে আয়, তাতে এই শিশু ও তাদের মায়ের প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা কেবল আশ্বাসই দিয়েছেন। কোনো প্রকার সহযোগিতা পাইনি এখনও। সরকারের কাছে আমার বিনীত আবেদন, আমাদের সন্তানরা যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সেদিকে একটু দৃষ্টি যেন দেন।

শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মন্টু বিশ্বাসের ছেলে সুমনের সঙ্গে একই উপজেলার পানবুড়ে গ্রামের শহিদ ইসলামের মেয়ে ইতির ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে রোজার মাসে তাদের প্রথম সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরপরই মারা যায়। সর্বশেষ ইতির দুটি জরায়ুতে ২৬ দিনের ব্যবধানে তিনটি সন্তান জন্ম নিয়েছে।

যশোরের আদ-দ্বীন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ডাক্তার শীলা পোদ্দার জানান, এমন ঘটনা তিনি এই প্রথম দেখলেন। আগে কখনও শোনেনওনিও।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1111 বার