জাজিরা সাবরেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে জমি বিক্রির অভিযোগ আদালতে মামলা

Pub: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ ৩:১০ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ ৩:১০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ জাজিরা সাব-রেজিষ্টার অফিসে পরিচয়পত্রের ছবি পরিবর্তন করে অন্যের জমি জাল করে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জাজিরার সাবরেজিষ্ট্রার সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে জাজিরা থানাকে মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। জাজিরা সাব-রেজিষ্ট্রার স্বীকার করেছে দাতার আইডি কার্ড জাল ছিল।
জাজিরা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস সূত্র ও মামলার বাদী আঃ রশিদ মাদবর জানান ,জাজিরা উপজেলার সারেজিষ্ট্রার আঃ গনি মিয়ার সহযোগিতায় দলিল লেখক আদম আলী মোল্যা,মোঃ ইউনুছ মোল্যা, এসএম সোহেল রানা, কবির হোসেন মিঠন এর যোগসাজসে জাজিরা উপজেলার ৯০ নং ডঙ্গিকান্দি মৌজার ৭১ নং বিআরএস খতিয়ানের ৮১ নং দাগের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ৮৯ নং দাগে ৬০ শতাংশ ও ৯৪ নং দাগে ১৪ শতাংশ নাল, ৮৮ নং দাগে ১ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ি, সর্বমোট ৪০ শতাংশ জমি যাহার মূল মালিক জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাদির মাদবর কান্দি গ্রামের আঃ রশিদ মাদবর । উক্ত জমি জালিয়াতি করে ক্রয়ের উদ্দেশ্যে জাজিরা উপজেলার মহি মোল্যা কান্দি গ্রামের মৃত ওসমান মোল্যার ছেলে জামাল মোল্যা নিজে গ্রহিতা হয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে রশিদ মদবর সাজায়ে অন্যজনের রুপ ধারন করে রশিদ মাদবরের জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি পরিবর্তন করে জাল দলির করে গত ৫ এপ্রিল দলিল লিখক আদম আলী মোল্যাকে দ্বারা দলিল লিখে ইউনুছ মোল্যা সনাক্তকারী হিসেবে এবং সোহেল রানা ও কবির হোসেন স্বাক্ষী হয়ে হেবাবিল এওয়াজ দলির রেজিষ্ট্রি করে নেয়। যার দলিল নং ৫৫৯ তারিখ ০৫/০২/২০১৯। আর এ কাজে সহায়তা করেন জাজিরা উপজেলার সাব রেজিষ্ট্রার আঃ গনি মিয়া। এ নীত ও বিবেক বিবর্তিত কাজ এর খবর পেয়ে জমির মালিক আঃ রশিদ মাদবর ছুটে যান জাজিরা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে। সেখানে খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন তার পরিচয় পত্রের ছবি পরিবর্তন করে তার ক্রয়কৃত জমি জামাল মোল্য জাল দলিল কওরে নিয়েগেছে। স্থানীয় ভাবে এনিয়ে শালিস দরবার করে মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। জমির মালিক কোন মীমাংসায় রাজি না হয়ে অবশেষে তিনি জাজিরা থানঅয় মামলা করতে গেলে জাজিরা থানা বিলম্বের অজুহাতে মামলা গ্রহন করেনি। অবশেষে জমির মালিক আঃ রশিদ মাদবর গত ১৭ এপ্রিল শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৪৭০, ৪৭১, ৪৬৮, ৪৬৪,৪৬৫,৪১৯ ও ৪৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আাদালতের বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে জাজিরা থানাকে এজাহার হিসেবে গন্য করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে দলিল লিখক আদম আলী মোল্যা বলেন, আমি দলিল লিখছি। এ ঘটনা জানাজানির পর বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।
দলিলের গ্রহিতা জামাল মোল্যা, সনাক্তকারী ইউনুছ মোল্যা ও স্বাক্ষী কবির হোসেন এবং সোহেল রানাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবি এড.কামরুজ্জামান নজরুল বলেন,সাবরেজিষ্ট্রার সহ একটি জালিয়াতির চক্র অন্যের রুপ ধারন করে অন্যের জমি বিক্রি করেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে জাজিরা থানাকে এজাহার হিসেবে গন্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দলিল লেখক আদম আলী মোল্যা বলেন, আমার নামে লাইসেন্স আছে। আমার ঘরে ৪/৫ জন লোক কাজ করে। তারা দলিল লিখে আমার স্বাক্ষর নিয়েছে।আমি খেয়াল করিনি দাতা ভুয়া ছিল। আমার ভুল হয়েছে।
জাজিরা উপজেলার সাব রেজিষ্ট্রার আঃ গনি মিয়া বলেন, আমি অসুস্থ্য । এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারবোনা। তবে দাতা ভুয়া ছিল।
জাজিরা থানার ওসি মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন,মামলা রেকর্ড এখনো আমাদের হাতে পৌছেনি। কের্ড পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1049 বার