পলাশবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীর শিক্ষা উপকরণের পরিবর্তে সোকেচ ক্রয়ের অভিযোগ

Pub: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ক্লাস্টারভূক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে শিশু শ্রেণীর যাবতীয় শিক্ষা উপকরণের পরিবর্তে সোকেচ ক্রয়সহ নানা অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পিডিইপি-৪-প্রকল্পের অর্থায়নে উপজেলার অন্যান্য ক্লাস্টারের ন্যায় হোসেনপুর ক্লাস্টারেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে শিশু শ্রেণীর শিক্ষা উপকরণের পরিবর্তে যেনতেন নিম্নমানের সোকেচ ক্রয় করা হয়। ক্রয়ের নেপথ্যের কারণ হিসেবে জানা যায় বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থেল সিংহভাগ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা। এমন গুরুতর অভিযোগ শুধু ওই ক্লাস্টারের নয়-প্রতিটি ক্লাস্টারেই প্রায় ক্লাস্টারের ওই একই অভিযোগ উঠেছে।
ওই ক্লাস্টারের আওতায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৪টি। প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে শিশু শ্রেণীর যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের নিমিত্তে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।
ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এইউইও) আতিকা মরিয়ম সিদ্দিকা স্বীয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বরাদ্দকৃত ওই অর্থ হস্তমজুদ করেন বলে জানা যায়। ক্রয় করার কথা শিশু শ্রেণীর উপকরণ। কিন্তু তা না করে ক্রয় করে দেয়া হয়েছে সোকেচ।
ক্লাস্টারভূক্ত করতোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, আতিকা ম্যাডাম বলেছেন সোকেচ কিনতে তাই কিনেছি। হোসেনপুর ক্লাস্টারভূক্ত করিয়াটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জহরত আরা চৌধুরী বলেন এটিও ম্যাডাম যা বলেছেন তাই করেছি।
ক্লাস্টারভূক্ত অন্যান্য বিদ্যালয়ের মধ্যে দিগদারী ১নং এবং ২নং শিশুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেনপুর সপ্রাবি, আকবর নগর সপ্রাবি, শালমারা ১নং সপ্রাবি, চাকলা সপ্রাবি, কোনাবাড়ী সপ্রাবি, চাপারজান সপ্রাবি, ঝাঁপড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ক্লাস্টারের বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় সরেজমিন ঘুরে প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় শিশু শ্রেণীর উপকরণ ক্রয়ের পরিবর্তে ওইসব বিদ্যালয়ে সোকেচ ক্রয় করা হয়েছে।
শিশু শ্রেণীর উপকরণের পরিবর্তে সোকেজ কেনার বিষয়ে সাইনদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুশবুন নাহার বলেন, এটিও ম্যাডাম আমাকেও সোকেচ কেনার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তা না করে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করেছি আমি। শুধু তাই-ই নয় ক্লাস্টারভূক্ত অধিকাংশ বিদ্যালয়েই এমন ব্যাপক অনিয়ম-দূর্ণীতি দৃশ্যমান।
ক্লাস্টার সমূহে শিশু উপকরণ ক্রয় বরাদ্দের এসব অর্থ প্রধান শিক্ষক এবং প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার পরস্পর বিরোধি লোপাট বা তছরূপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিকা মরিয়ম সিদ্দিকার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি উপকরণ ক্রয়ে কোন ত্রুটিবিচ্যুতি বা অসংলগ্ন কিংবা দূর্ণীতির সংশ্রব নেই। উপকরণ ক্রয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে টাকার পরিমাণ ছিল ১০ হাজার টাকা। ওই অর্থ বিদ্যালয়ের স্ব-স্ব প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি স্থানান্তর বা জমা হয়। এরপর অর্থ উত্তোলন করে এসব পণ্য কেনা হয়। শিশু উপকরনের পরিবর্তে সোকেচ বা কেবিনেট কেনার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন বিদ্যালয়ে সর্বশেষ প্রয়োজনীয় যা প্রয়োজন ছিল তেমন উপকরণই কেনা হচ্ছে। সবকথার শেষকথা ক্রয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষে যখন প্রত্যায়ন দেয়া হবে তখনই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে দূর্ণীতি ও অনিয়মের বিষয়টি।
ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত (এইউইও) আতিকা মরিয়ম সিদ্দিকার এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল্যাহিশ শাফী। তিনি জানান এসব বিষয় নিয়ে বাড়তি কথা বলার কোন সুযোগই নেই। সরকারী বিধি-নিষেধে যে ভাবে বলা হয়েছে সে ভাবেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে। ব্যক্তি সিদ্ধান্তের কোন সুযোগ নেই। এমন হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ