fbpx
 

না’গঞ্জে আ’লীগ নেতা কাউন্সিলর কবির ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

Pub: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : আওয়ামীলীগ নেতা ও নাসিকের ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবির হোসান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। কাউন্সিলরের সরাসরি শেল্টারে তারা অপকর্মগুলো চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর জানিয়েছে, শহরের তামাকপট্টিতে শীতলক্ষ্যা প্রাইমারী স্কুলের পাশে ট্রাক লোড-আনলোড থেকে চাঁদাবাজি। তারা ট্রাক প্রতি ৩০০ টাকা এবং লোড আনলোড বাবদ ব্যবসায়ীদের থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন। চাঁদা তোলার কাছে দিনে রাতে দুই শিপটে স্বপন, রাজু, শফিকুল ও রতন প্রধানসহ ৮জন কাজ করেন। নিতাইগঞ্জ কাচারী গলির সামনে ব্যাটারি চালিত অটো রিকসার স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০০ অটো রিকসা থেকে দৈনিক ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। যা মাসিক হিসেবে দাড়ায় ৬ লাখ টাকা। বজুল, শরীফ ও রুবেল নামে তিন যুবক এই চাঁদা তোলে। টাকার হিসেব রাখে ছাদেম নামে একজন। এই ছাদেম এক সময় মুন্নার লোক ছিল। বর্তমানে সে কবির হোসাইনে সাথে রয়েছে। এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ হয়েছিল।
অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবসায়িদের কাছ থেকে ওয়েস্টেজ ছালা (চট) প্রতি ২৫ পয়সা করে দাবি করে কবিরের ভাই নেওয়াজ। মিদুল বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে ছালা (চট) চুরি করে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় জিডিও হয়েছে। এছাড়া কাউন্সিলর কবির হোসাইনের কাছে জায়গা জমি নিয়ে কোন বিচার আসলে সে তার ভাই নেওয়াজের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তখন নেওয়াজ সমাধান করে দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। কবিরের আরেক সহযোগি আলামিন নগরের ছামাদ নিজেই ও্ই এলাকায় একটি বাহিনী গড়ে তুলেছে। তার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
শুধু তাই নয়, কবিরের স্বজনদের বিরুদ্ধে মানুষের সাথে র্দুব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে। কাউন্সিলর কবিরের ভাগ্নে শুভ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
এলাকাবাসী আরো জানায়, ১৮নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির গং এক সময় সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার ভাই প্রয়াত বাপ্পির লাঠিয়াল হিসেবে পরিচিত ছিল। বাপ্পীর মৃত্যুর পর মুন্নার সাথে মিশে যায়। দীর্ঘদিন মুন্নার সাথে থাকার পর এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে মুন্নার বিপক্ষে অবস্থান নেয় কবির হোসেন। এবং নিজে প্রার্থী হয়ে মুন্নাকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়। কবির নির্বাচিত হওয়ার পর তার আত্মীয় স্বজন ও তার লোকজন বেপোয়ারা হয়ে উঠে। কবির হোসাইন ১৮ নং ওয়ার্ডের একক নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। সবশেষ মসজিদের হিসেব নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর মুন্নার সাথে সংঘাতে জড়ায় কবির ও তার লোকজন। পরে পুলিশ মুন্না ও কবিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। সেই সাথে তাদের বাহিনীর বেশ কয়েকজনকেও গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, মহানগর শ্রমিকলীগের সেক্রেটারী মুন্না কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় তার অবৈধ আয়েরর যে সকল খাত ছিল ধীরে ধীরে তার দখল করে নিচ্ছে কাউন্সিলর কবির ও তার লোকজন। ফলে মুন্নার সময়ে ওয়ার্ডবাসী নানা অপরাধ ও অপকর্মের কাছে যেমন জিম্মি ছিল এখন কাউন্সিলর কবির ও তার লোকজনের কাছে একই ভাবে জিম্মি হচ্ছে। ১৮নং ওয়ার্ডবাসী এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেতে নাসিক মেয়র ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ পিপিএম, বিপিএম (বার) এ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবির হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়গুলো মিথ্যা দাবি করে বলেন, শেয়ারে থাকলে যা হয়। আমার পুরো ওয়ার্ডে ৫০ কোটি টাকার কাজ চলমান। ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজি হলে মিল মালিক সমিতির মানুষেরাই ভাল জানে, আমি জানি না। যারা চাঁদা নিচ্ছে আর যারা দিচ্ছে তারাই এই বিষয় ভাল বলতে পারবে। যেহেতু দোষ আমার দিকে দিচ্ছেন, সেহেতু চোর আমি, আমারটা তো আমি স্বীকার করব না। তাছাড়া কে ট্রাক স্টান্ডে চাঁদাবাজি করে, কে অটো স্টান্ডে চাঁদাবাজি করে, আমার ভাই কোথায় টাকা দাবি করে, সব বিষয়গুলো খুঁজে দেখেন। এবং আপনি পুরা পত্রিকা ভইরা লেখেন। আমার কোন সমস্যা নেই।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ