fbpx
 

ইদ্রিসকে খুব কাছ থেকে গুলি করে মেরেছি: আ’লীগ নেতা হাবিব

Pub: শনিবার, মে ৪, ২০১৯ ১১:৪০ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, মে ৪, ২০১৯ ১১:৪০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি :
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ইদ্রিস আলীকে খুব কাছ থেকে গুলি করে মেরেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবু।

সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেফতার করার পরই পুলিশের কাছে এ স্বীকারোক্তি দেন আওয়ামী লীগ নেতা হাবিব।

পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের কুত্তামারা গ্রামের ইদ্রিস আলীকে হত্যা করার সময় যে পিস্তলটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি পলিথিনে মুড়িয়ে গর্তে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে জামিরাকান্দা গ্রামে হাবিবের তৃতীয় স্ত্রীর বাড়ি থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি চেয়ারম্যান হবু অকপটে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ইদ্রিস হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি যোগানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবু সরাসরি গুলি করে ইদ্রিসকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। তবে অবৈধ পিস্তলটি তার কাছে কীভাবে এল, সে বিষয়ে এখনও তিনি মুখ খুলেননি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে।

শনিবার তাকে জেলা আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন নালিতাবাড়ী থানার ওসি আবুল খায়ের। রোববার এ বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করে দিয়েছেন বিচারক শরিফুল ইসলাম।

ইদ্রিস হত্যাকাণ্ডের ৮ দিনের মাথায় চেয়ারম্যান হাবিবকে গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে সংখ্যা দাঁড়াল ১০ জনে। চেয়ারম্যানপুত্র শান্তকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান বলেন, আমার জ্যাঠাতো ভাইয়ের ছেলেদের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই টুকটাক বিরোধ থাকলেও, মূল বিরোধ শুরু হয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।

‘আমি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন করি আর ওরা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের নির্বাচন করে। এ নিয়ে নির্বাচনের সময় মারামারিও হয়। পরবর্তীতে ২৫ এপ্রিল সোহরাব আলীর ক্ষেতের ধান কাটা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। ’

‘আমি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খবর পাই ওরা আমার বোন ও ভাগ্নের ওপর হামলা করেছে। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে ওরা বেপরোয়াভাবে আমার ও আমার লোকজনের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এর মধ্যে একটি ইটের ঢিল আমার নাকের ওপর লাগলে আমার রক্ত মাথায় উঠে যায়। আমার সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে খুব কাছ থেকে ইদ্রিছ আলীকে লক্ষ্য করে গুলি করি এবং সে মারা যায়।’

আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান হাবিব আরও বলেন, ‘এ হত্যা মামলায় আমার পুত্রবধূ ও আত্মীয়স্বজনসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ হত্যার দায় শুধু আমার একার। পরিবারের অন্য কারও নয়। তিনি হত্যার দায় পুরোটা কাঁধে নিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিবেন বলে পুলিশকে জানান।’

নালিতাবাড়ী থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করার পর মামলার তদন্ত অনেকটা গুছিয়ে এসেছে। চেয়ারম্যানপুত্রকে গ্রেফতার করতে পারলেই পুরো মামলার কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ওসি বলেন, পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীমের নেতৃত্বে এবং দিক নির্দেশনায় আমরা মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত করতে পেরেছি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ