fbpx
 

পূবাইলে এবার অবৈধ সিসা তৈরীর কারখানায় পুলিশের অভিযান, আটক ২

Pub: Thursday, May 9, 2019 7:13 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি : নিয়মকানুন না মেনেই গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের সমরসিংহ এলাকায় ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে পরিত্যক্ত ব্যাটারি গলিয়ে সিসা তৈরীর কারখানা।

বুধবার রাতে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করে কারখানার মেশিনপত্র জব্দ করেছে পুলিশ।

আটককৃতদের মধ্যে একজন কারখানার ম্যানেজার হাসান (৩০) এবং অপরজন কারখানার শ্রমিক বিপ্লব(২৭)।

অবৈধ এ কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

এক বৎসর যাবৎ চালু হওয়া ওই কারখানার ছাইয়ের সঙ্গে বিষাক্ত সিসা বাতাসে উড়ে গিয়ে পাশের জমিতে পড়ে। যা আর স্থানান্তরিত হয়নি। ফলে ওই স্থানে জন্মানো ঘাস খেয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে অসুস্থ হয় স্থানীয়দের ১৫-২০টি গবাদি পশু এবং ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয় ফসলের।

এছাড়ও স্থানীয় বুদাই চন্দ্র দাসের স্ত্রী বিশাখা রানী দাস(৪০)শ্বাসকষ্টে মারা যান। এরপরই এলাকাবাসী সিসা কারখানা বন্ধে বিক্ষোভে করলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কারখানা বন্ধ করে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় মালিক পক্ষ।

দুই মাস না পেরতেই স্থানীয়দের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবারও চালু করে সেই সিসা কারখানা। কিন্ত এবার আবারও অবৈধ ভাবে গড়ে উঠার চেষ্টা নজরে আসে পুলিশ প্রশাসনের।

সেই প্রেক্ষিতেই বুধবার মধ্যে রাতে পূবাইল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খন্দকার হাসানাতের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে দু’জনকে আটক করে কারখানার মেশিনপত্র জব্দ করা হয়।

সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, প্রাচীরবেষ্টিত একটি উঁচু টিনের ঘর। পাশে একটি উঁচু চিমনি। ঘরের মধ্যে গর্ত করে মাটির চুলার মতো চুল্লি বানানো হয়েছে। সিসা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, পরিত্যক্ত ব্যাটারির কোষগুলো সিমেন্টের মতো জমাট বেঁধে যায়। চুল্লির মধ্যে কাঠ ও কয়লা দিয়ে পরতে পরতে অ্যাসিডমিশ্রিত জমাট বাঁধা বর্জ্য সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিয়ে একটি পাম্পের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বাতাস দেওয়া হয়। কাঠ ও কয়লা পুড়ে একটি আগুনের কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়। সিসা পুড়ে তরল হয়। এরপর একটি লম্বা চামচ দিয়ে বর্জ্য সরিয়ে সিসা লোহার তৈরি কড়াইতে রাখা হয়। ঘন ধূসর ধোঁয়া চিমনি দিয়ে বের হয়ে যায়।

কারখানার এক শ্রমিক বলেন, বাস ও ট্রাকের একটি পরিত্যক্ত ব্যাটারি থেকে গড়ে ২২-২৩ কেজি এবং ইজিবাইকের পরিত্যক্ত ব্যাটারি থেকে ৬-২৩ কেজি পর্যন্ত সিসা পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তেজেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, ‘সিসা ফ্যাক্টরিগুলো সারা দিন বন্ধ থাকে। মধ্যরাতে গাড়িতে করে মালামাল এনে কাজ শুরু হয়। আবার ভোর হওয়ার আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। রাতে কাজ করার সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘সিসা ফ্যাক্টরির কারণে গাছপালার পাতা বিবর্ণ হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। নানা রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।’

স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর জ্যোৎস্না বেগম বলেন, অভিযোগ পেয়ে কারখানা বন্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নোটিস করেছিলাম কিন্ত কারখানা মালিক কোন কর্নপাত করেনি।

পূর্বাচল আদর্শ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাসক বিকাশ চন্দ্র দাস পুলিশের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে জানান, কিছু প্রভাবশালী লোকের ছত্রছায়ায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা পরিত্যক্ত ব্যাটারি গলিয়ে সিসা তৈরীর কারখানা কর্তৃপক্ষ এলাকার নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রী, শিশুদের নিয়ে মরণ খেলা খেলছিল। এবার পুলিশের হস্তক্ষেপে আমরা খুশি এবং তাদেরকে সাধুবাদ জানাই।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘সিসা কারখানা গড়ে তোলা পরিবেশ আইনে একেবারেই নিষিদ্ধ।

অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে জিএমপি’র পূবাইল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খন্দকার হাসানাত বলেন, ‘অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা পরিত্যক্ত ব্যাটারি গলিয়ে সিসা তৈরীর কারখানা’য় অভিযান চালিয়ে কারখানার ম্যানেজার হাসান (৩০) এবং শ্রমিক বিপ্লবকে(২৭) আটক করা হয়েছে। ‘সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা নেওয়া প্রস্তুতি চলছে’।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ