fbpx
 

গাইবান্ধার ডিসি ও ইউএনও’সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

Pub: Friday, May 10, 2019 10:27 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গোপন দরপত্রের মাধ্যমে সরকারী ১১০টি (খাস) পুকুর ইজারা দেয়ার অভিযোগে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ওই দরপত্র প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা ও উপজেলা মৎস কর্মকর্তা এবং মৎসজীবি সমিতির ৮ সভাপতিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে এই রুল জারি করা হয়। এছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে না কেন, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামি চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বিবাদীদের আদেশ দেওয়া হয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৬টি মৎসজীবি সমিতির পক্ষে সাপমারা মৎসজীবি সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ মন্ডলের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল শুনানী হয়। শুনানীতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিল দ্বৈত বেঞ্চ বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারির আদেশ দেন। গত ৮ মে বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত আদেশে কপি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নীতিমালা উপেক্ষা, অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যে সরকারী ১১০টি পুকুর ইজারার অভিযোগে গত ২১ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট আবেদন (নং- ৪৪৯৯/১৯) দাখিল করা হয়। গোপন প্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি পুনঃ দরপত্রে পুকুরগুলো প্রভাবশালী মহল ও অমৎসজীবি সমিতিকে ইজারা অবৈধ দাবি করে ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা ও উপজেলা মৎস কর্মকর্তা এবং ৮টি মৎসজীবি সমিতির সভাপতিকে মামলায় বিবাদী করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, ‘নীতিমালা মেনেই দরপত্র আহবান করা হয়। বন্দোবস্ত কমিটির সিন্ধান্ত ও সকল প্রক্রিয়া সম্পন করেই পুকুর লিজ দেয়া হয়েছে। গোপন ও অনিয়মের কোন অভিযোগ ভিত্তিহীন। মৎসজীবিদের অভিযোগের (রিট আবেদন) প্রেক্ষিতে আদালতের দেয়া নির্দেশ মেনেই রিটের জবাব দাখিল করা হবে’।
রিট আবেদনকারী আবদুল লতিফ মন্ডল বলেন, ‘তাদের না জানিয়ে গোপনে দরপত্র আহবানে ১২১টি পুকুরের মধ্যে ১১০টি পুকুর লিজ সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। গেজেটে একটি সমিতি দু’টির বেশি পুকুর পাবেনা উল্লেখ থাকলেও তা লঙ্ঘন করে ১০-১১টি করে পুকুর লিজ দেয়া হয় একটি সমিতিকে। অথচ এ উপজেলায় রেজিস্টেশনভুক্ত সমিতি আছে ৪০ থেকে ৪১টি। এছাড়া যেসব সমিতিকে পুকুরগুলো লিজ দেয়া হয় সেই সমিতিগুলোর সভাপতি/সম্পাদক মৎসজীবি নয়। এসব সমিতির সভাপতি কেউ স্কুলের শিক্ষক, কেউ সাবেক জনপ্রতিনিধি আবার কেউ সম্পদশালী। দৃশ্যমান অনিয়ম-দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রতিকার দাবিতে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়। এছাড়া মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে দাবি জানিয়ে আসলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি আজও। উল্টে হুমকি ও পুকুর দখলের আতঙ্কে আছেন তারা। গোপন দরপত্র বাতিল ও নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র আহবানের জন্য উচ্চ আদালতে রিট করা হয়’।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মুকিতুর রহমান রাফি বলেন, ‘প্রকাশ্যে দরপত্র আহবান না করে পুকুরগুলো লিজ দেয়া হয়। পুকুর লিজে নীতিমালা মানা হয়নি, ইউএনও ও বন্দোবস্ত কমিটি মনগড়া সিদ্ধান্তে ৯টি সমিতিকে ১১০টি পুকুর নামমাত্র রাজস্বে লিজ দেয়া হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তেমনি কমিশন বাণিজ্যে পকেট ভারী হয়েছে প্রশাসন ও একটি প্রভাবশালী মহলের। দৃশ্যমান অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের কারণে আওয়ামীলীগ ও সরকারের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। প্রকৃত মৎসজীবিদের অবস্থা বিবেচনা করে সুষ্ঠ তদন্ত ও প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি’।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসন ও বন্দোবস্ত কমিটি গোপন আতাঁতে পুকুরগুলো প্রভাবশালী মহলকে ইজারার ঘটনায় সচেতন মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনায় ইজারা বঞ্চিত প্রকৃত মৎসজীবিদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া বর্তমানে পুকুরগুলো সাব-লিজ নিয়ে ভাগাভাগি ও দখলকে কেন্দ্র করে ওই প্রভাবশালী মহল এবং পুর্বের লিজ গ্রহিতাদের মধ্যেও উত্তেজনা চলছে।
উল্লেখ্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ১২১টি পুকুর ইজারা দিতে প্রথম দরপত্র আহবান করে বিজ্ঞপ্তি দেয় উপজেলা প্রশাসন। ৬ মার্চ সেই দরপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ায় ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষ। অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ পরিস্থিতিতে দরপত্র স্থগিত করে পরবর্তীতে ২৪ মার্চ পুনঃ দরপত্র আহবান করে। সেই দরপত্রে ৩ এপ্রিল ১১০টি পুকুর লিজ দেয়া হয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ