ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান হচ্ছে সাতকানিয়া মধ্য-কাঞ্চনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

Pub: শনিবার, মে ১১, ২০১৯ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, মে ১১, ২০১৯ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, দুবাই-শীর্ষখবর ডটকম :
চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া থানার অধীনস্থ ২১ নং মধ্য কাঞ্চনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝূকিপূর্ন। বিদ্যালয়টি জরুরী ভিত্তিতে পূর্ন নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়টি ১৯১৬ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্টিত হয়েছে। এটি সাতকানিয়া তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিদ্যালয় সুনামের সহিত শিক্ষা বিস্তারে হাজারো অবদান রেখে আসছে। যাহা এখনো বিদ্যামান। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে কর্মরত আছেন।প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলন সহ বিভিন্ন সংগ্রামে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেছেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ আলমগীর সিরাজ উদ্দীন (সাবেক ভিসি চঃ বিঃ), বিশিষ্ট রসায়নবিদ ডঃ হরাধন নাগ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সরোজ নন্দী, ডাঃ অনিরুদ্ধ ঘোষ জয়, ডাঃ অজয় ঘোষ, এ্যাডভোকেট কুমার ঘোষ, প্রকৌশলী তমাল নন্দী, অধ্যাপক অশ্রু বিজয় নন্দী, সহ আরো অনেকে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যারা বিভিন্ন ভাবে স্বরনীয় বরণীয় হয়ে আছেন।১৯৮১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় ও সাধরণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে আসছে। এক কথায় মধ্য কাঞ্চনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিশূদ্ধ মানূষ তৈরির কারখানা । বিগত শিক্ষা সমপনী পরীক্ষায় পাশের হার ও (১০০%)। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অত্র বিদ্যালয়ের সফলতা সত্যিকার অর্থে মনোমুগ্ধকর ও প্রশংসনীয়। চলিত বছর শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতায় উল্লেখ যোগ্য স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা (৪৫০) জন। দৈনন্দিন শ্রেণী কার্যক্রম শাখায় বিভক্ত করে সম্পাদন করার পরিকল্পনা থাকলেও শ্রেণী কক্ষের অভাবে তাহা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

অত্র বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে ১৯৬৬-৬৭ অর্থ বছরে নির্মিত ১নং ভবনটির ছাদের বিভিন্ন অংশে কসে পড়ায় সম্প্রতি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন চৌধুরী প্রধান শিক্ষক এবং অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়ের হয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছিলেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের একজন দায়িত্বশীল সরজমিনে এসে পরিদর্শন পূর্বক ভবনটি ঝূকিপুর্ণ হিসেবে ঘোষনা দেন। ১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে ২নং টিন শেড ভবনটির টিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্রীষ্মে অতিরিক্ত সূর্যতাপ এবং বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে শ্রেনী কার্যক্রম চালানো একেবারে সম্ভব হয় না।

২০০৬-৭ অর্থ বছরে পি,ই,ডি,পি-(২) কতৃক নির্মিত দুটি কক্ষ বিশিষ্ট ৩নং ভবনটি শুধু মাত্র শ্রেণী কার্যক্রম চালানোর উপযোগী। এমতবস্থায় এত বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী নিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানো মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্য কোন ভাল কক্ষ না থাকায় ১নং ভবনে অবস্থিত অফিস কক্ষে শিক্ষক বৃন্দ জীবনের ঝুকি নিয়ে অফিস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে, পাঠদানে মনোনিবেশ শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সবসময় দূশ্চিন্তা মাথায় রেখে পরিত্যক্ত ভবনে নিজেদেরকে মানিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত হচ্ছে। কিন্তু সংস্কার কার্যক্রমে আদৌ কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যাহা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আরব আমিরাতের দুবাই প্রবাসী ও বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবক যথাক্রমে কাঞ্চনা বয়েজ ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাসেল সহ অনেকেই ক্ষোভের সাথে এস এন এন ২৪ প্রতিনিধিকে বলেন, কতৃপক্ষের খামখেয়ালির কারণেই বিদ্যালয়ের এই অবস্থা। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোন পরিবেশ না থাকা সত্বেও একটি পরিত্যাক্ত ভবনে ক্লাস করানো কতটুকু নিরাপদ ? সে প্রশ্নের কোন সদুত্তর পাওয়া যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিবেশে শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক শিক্ষিকা যে কেউ দূর্ঘটনার শিকার হতে পারেন! এর দায় দায়িত্ব অবশ্যই উপজেলা কর্মকর্তা সহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দায়িত্বরত যে কাউকে নিতে হবে। দায়িত্বহীন হয়ে এভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সম্পূর্ণ ব্যার্থতার পরিচয় বহন করে ।
তারা অভিযোগ সহকারে বলেন, ভবন সমস্যার কারণে অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ হারাচ্ছে। যার কারণে কোন এক সময়ে ছাত্র শূন্যতার ভোগান্তিতে পড়বে বিদ্যালয়টি। হারাবে বিদ্যালয়ের সে পুরাতন ঐতিহ্য।

তাদের মতে, ভিশন ২০২১, রুপকল্প ২০৪১ ডিজিটাল বাংলাদেশ ও সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অতিব জরুরী ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণ অত্যাবশ্যক। সুতরাং বিদ্যালয়টির সুনাম ধরে রাখতে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে পরিবেশ সম্মত ভবন নির্মাণ সহ শিক্ষক ঘাটতি ও অন্যান্য সমস্যার অতি দ্রুত সমাধান করতে কতৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তারা আশাবাদী।

এমতাবস্থায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এই প্রত্যাশায় আছে এলাকার শিক্ষানুরাগী মহল।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1182 বার