fbpx
 

কারা হত্যা করলো যুবলীগ নেতা রাসেলকে? প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবী

Pub: Wednesday, May 15, 2019 4:39 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদন :

ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রাসেল হত্যাকান্ডকে ঘিরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে আসল রহস্য বের করার দাবী ওঠেছে।

গত ১৩ মে নভেম্বর নগরীর মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোডের ডিফেন্স পার্টির কার্য্যালয়ের সামনে থেকে ক্ষত-বিক্ষত নিথর যুবলীগ নেতা রাসেলের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে, কে বা কারা এ নির্মম হত্যা-টি ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরপরও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। তারা থানা পুলিশ এবং নিহতদের পরিবারের ম্যানেজ করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ময়মনসিংহ শহর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, জনপ্রিয় ও মেধাবী ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন আরিফকে হত্যাকান্ডে ফাঁসাতে এ চক্রটি ওঠেপড়ে লেগেছে।

সুত্র জানায়, যুবলীগ নেতা রাসেল ও ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফ তারা দু’জনই একে অপরের ছোট ভাই বড়ভাই সম্পর্ক। রাজনীতির পথচলায় পারিবারিকভাবেই তারা দু’জন একে অপরের পরিপূরক। তাদের দু’জনের সম্পর্ক দলীয় নেতাকর্মী ও শহরবাসীর মাঝেও ব্যাপক আলোচিত। তবে গত কিছুদিন পূর্বে ঠিকাদারী একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের দু’জনের মাঝে একটু তর্কবির্তক হয়। বাকবিতণ্ডার কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার তারা দু’জনের সম্পর্ক জোরালো হয়।

এদিকে, রাসেল হত্যাকান্ডে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থহাসিল উদ্ধারে ছাত্রলীগের মেধাবী ও জনপ্রিয় নেতা আরিফকে হত্যায় জড়িত করতে রাসেলের পরিবারের কাছে ধর্ণা দিতে দেখা যাচ্ছে রাসেলের সর্বসময় সহযোগী এক বন্ধু মাসুদ নামক একজনকে। তবে, যুবলীগ নেতা রাসেলের সাদামনী আচরন, সদা হাসোজ্জ্যল রাসেল সবসময় মানুষের সাথেই আড্ডা দিতে পছন্দ করতো। রাসেল তার বোনের সাথে নগরীর আমলাপাড়া ভাড়া বাসায় থাকতো।

অন্যদিকে একটি সুত্র জানায়, রাসেল তারই আরেক বন্ধু রুবেলের স্ত্রী কুমুর সাথে তার পরকীয়া সম্পর্ক জড়িয়েছিল। দীর্ঘদিন পরকীয়া সম্পর্ক থাকার পরও কুমুর সাথে রাসেলের বন্ধু রুবেলের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। রুবেলের সাথে রাসেলের সম্পর্কের ফাটল ধরে এবং কি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল বলে একটি পক্ষ দাবী তুলছে।

তবে, সদ্য সমাপ্ত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২ জন পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সাথে যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম রাসেলের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছিলো। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েক দিন আগে ‘ব’ অদ্যাক্ষরের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সাথে রাসেলের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নির্বাচন চলাকালে ‘ন’ অদ্যাক্ষরের আরেক প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে রাসেল ও তার লোকজনের কয়েকদফা গোলযোগ হয়। সর্বশেষ গত রবিবার বিকালে এই পরাজিত প্রার্থীর সাথে রাসেলের তর্কবিতর্কের ঘটনা ঘটে। তখনই রাসেলকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিলো। সূত্রের দাবি, শোচনীয়ভাবে পরাজিত এই ২ কাউন্সিলর প্রার্থী এক হয়ে যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম রাসেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

রাসেলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাসেল প্রায়ই একটু দেরিতে বাসায় ফিরতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষরা হত্যাকাণ্ডের আগে কৌশলে তাকে মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোডে ডেকে নিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করে চিহ্নিত ঘাতকরা বীরদর্পে এলাকা ছাড়ে।

জানা যায়, যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম রাসেল সদ্য বিলুপ্ত ময়মনসিংহ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ ও বর্তমানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মোঃ আসিফ হোসেন ডন-এর একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও নির্বাচনী যেকোনো কর্মসূচিতে অগ্রভাবে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করতেন এই রাসেল। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে যুবলীগ নেতা রাসেল আসিফ হোসেন ডনের পক্ষে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সক্রিয় থাকার কারণেই রাসেলকে প্রাণ দিতে হলো বলে সূত্র দাবি করেছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার রাসেলের পিঠে বড় আকারের ছুরির ২টি আঘাত ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ভোরেই সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে রাসেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিলো। মামলায় আসামি হতে পারেন ১০ থেকে ১২ জন।

অপরদিকে, জেলা যুবলীগের অন্যতম এ নেতা রেজাউল করিম রাসেল হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটুসহ দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, রাসেলের বন্ধু-বান্ধবসহ অনুসারীরা। এ হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে সামাজিক মাধ্যমে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ