fbpx
 

নারায়ণগঞ্জে ৭ দিনে ৬ লাশ

Pub: বুধবার, মে ১৫, ২০১৯ ৮:২৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের লাশ উদ্ধারের ঘটনার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খুনের ঘটনা। একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে চলেছে। কিছুতেই এর লাঘাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। অন্যদিকে গুমের ঘটনার পর লাশ উদ্ধারের ঘটনা এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এতে করে খুন গুম আতঙ্ক বেড়ে চলেছে। সেই খুনের মিছিলে এবার ৬ লাশ।
৭ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।
১৩ মে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজের একদিন পর মো. আশরাফুল (১০) নামে শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শহরের ৫নং ঘেয়াঘাট এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন আলী খান জানান, রোববার দুপুরে আশরাফুল সহ চারবন্ধু শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে যায়। ওইসময় সাঁতে নদী পারাপার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায় আশরাফুল। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল আশরাফুল। সোমবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশ সনাক্ত করে।
১১ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে আবুল হোসেন (৫০) নামে এক দিন মজুরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে সমন্ধীসহ তার পরিবারের লোকজনরা। ওই সময় হামলাকারীদের কবল থেকে দিনমজুরকে বাঁচাতে গিয়ে শিশুসহ কমপক্ষে ৪ জন আহত হয়েছে।
১১ মে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রুবেল হোসেন (২৫) নামের মাদক ব্যবসায়ী হত্যা ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৯ মে রাতে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার ছেলে রুবেলকে। ওই রাতে রুবেল আর বাড়ি ফেরেনি। পরের দিন শুক্রবার সকালে যুগিপাড়া গ্রামের ইনফিনিটিভ ডাটা পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি পরিত্যক্ত কারখানার ভেতরে রুবেলের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
৯ মে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছোট ভাইয়ের ইটের আঘাতে বড় ভাই রানা খুন হয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে তড়িগড়ি লাশ দাফন করে ফেলেছে স্বজনরা। ক্ষমতাসীন দলের স্থাণীয় এক নেতার সুপারিশে পুলিশও নেয়নি কোন আইনী পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
৮ মে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সুমন মীর (৩৪) নামে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারাব পৌরসভার রূপসী মীরবাড়ী এলাকায় নানির বাড়ীর নিজ ঘর থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন মীর মুরাপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে। নিহত সুমন মীর জন্মের পর থেকে তার মায়ের সাথে নানির বাড়ীতে বসবাস করে বাড়ীর পাশে একটি মুদি-মনোহরী দোকান চালাতেন।
১৪ মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিধবা নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্বার করেছে থানা পুলিশ। উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের উজান গোবিন্দী গ্রামের মৃত সহিদ মিয়ার স্ত্রী আয়তুন বিবির (৪৫) ঝুলন্ত লাশটি উদ্বার করা হয়েছে। জানা গেছে, দুই বছর পূর্বে আয়তুন বিবির স্বামী সহিদ মিয়ার মৃত্যু ঘটে। সে ঘরে একাই থাকতো। তার কোন সন্তান নেই। মঙ্গলবার সকালে ঘরে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কখনো খুন আবার কখনো গুমের পরে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের বুক খালি হচ্ছে। এতে করে স্বজনহারাদের আহাজারিতে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। আর স্বজনহারা পরিবারটি খন্ড খন্ড হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাই খুন গুম আতঙ্ক বেড়ে যাচ্ছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ