fbpx
 

না’গঞ্জে চিকিৎসকে বিভক্ত শামীম ওসমান ও আইভী গ্রুপ

Pub: বৃহস্পতিবার, মে ৩০, ২০১৯ ৫:০২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, মে ৩০, ২০১৯ ৫:০২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে আবারো আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিরোধ প্রকাশ রূপ নিতে শুরু করেছে। পেশাজীবী সংগঠনেও এ বিভক্তি এখন পরিলক্ষিত হচ্ছে। সবশেষ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ তথা স্বাচিপের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি কমিটি যেমন হয়েছে তেমন পাল্টাপাল্টি ইফতারও হচ্ছে।
২৯ মে বুধবার এক অংশের ইফতারে দাওয়াত কার্ডে নাম না থাকার পরেও এসে হাজির হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এতে ড. অলোক কুমার সাহার সঞ্চালনা ও ড. আতিকুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএমএ কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক এম মাহবুবুর রহমান বাবু, আপ্যায়ন সম্পাদক পূরবী রানী দেবনাথ, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, ড. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
এদিকে ৩০ মে ইকবাল বাহার ও বিধান চন্দ্র পোদ্দারের নেতৃত্বে অপর অংশের বৃহস্পতিবার অপর এক অংশের ইফতার হবে। এখানে এমপি শামীম ওসমানকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধ ছিল প্রকট। এখন সেটার প্রতিফলন ঘটছে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও। মূলত পেশাজীবীরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন্দ্রীক থাকলেও এবার দলের ভেতরেই বিভক্ত হয়ে পড়ছেন।
সংশ্লিস্টরা জানায়, প্রায় ৪ বছর আগের করা কমিটি বিলুপ্ত করে আওয়ামীলীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ শাখার কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ডা: মোহাম্মদ এহসান উদ্দিনের স্বাক্ষরিত একটি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে এমপি শামীম ওসমানের সমর্থিত হিসেবে পরিচিত ডা: চৌধুরী মো. ইকবাল বাহারকে সভাপতি ও ডা: বিধান চন্দ্র পোদ্দারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
ওদিকে এই কমিটি অনুমোদনের বেশ কয়েকদিন পর গত ২১ মে ফের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আরেকটি কমিটির অনুমোদনের প্যাড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে ডা. আতিকুজ্জামান সোহেলকে সভাপতি ও ডা. অলক কুমার সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তাঁরা মূলত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের সমর্থিত হিসেবে পরিচিত।
আর এই কমিটির উদ্যোগেই ২৯ মে শহরের সিনামন রেন্টুরেন্টে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে দাওয়াত করা হলেও তাঁরা উপস্থিত হননি।
অনুষ্ঠানে মেয়র আইভি এ প্রসঙ্গে বলেন, আজকে যারা ইফতার বন্ধের জন্য বিভিন্নজনকে দিয়ে হুমকি দিয়েছেন এটি মোটেও উচিত হয়নি আপনারদের। মতের বিপরীত হলেই তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা ঠিক হতে পারেনা। কোন সমস্যা হলে মুরুব্বীদের সহায়তা নিয়ে আলোচনায় বসেন, কিন্তু তা না করে হুমকি ধামকি কেন দেয়া হবে?। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আসা বন্ধ করে দিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি কার্ডে নাম দেয়ার পরেও আসলেন না, এতো জুজুর ভয় কেন? আমি অলোক ও সোহেলকে বলেছি যদি ৫ জন ছেলে যদি দাঁড়িয়ে থাকো তাহলেও আমি আসবো। কারণ তোমরা এই কালো কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছো। ধমকিয়ে পুরো শহরকে থামিয়ে রাখা যাবেনা। আজ থেকে ১০ বছর আগেও আইভিকে আটকে রাখা যায়নি এখনও যাবে না।
ডাক্তারদের বিভক্তির কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভক্তি দায়ী উল্লেখ করে বলেন, আমরা চাইনা চিকিৎসকদের মাঝে বিভক্তি থাকুক। যখন আমার সাথে তারা ছিল তারা তো একই ছিল, হঠাৎ কার প্ররোচনায় তারা বিভক্ত হয়ে গেল আমার বোধগম্য নয়। কোন মুরুব্বীকেই তারা তোয়াক্কা করেনা আজ। এই রকম হওয়ার কথা না। আমি মনে করি কেন্দ্রের গ্রুপিং এর কারণেই আজ এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। এই রকম গ্রুপিং থাকলে সংগঠন ভেঙ্গে পড়বে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ